একবচন ও বহুবচন প্রকাশের উপায় আলোচনা কর।/ কী কী উপায়ে বচন গঠিত হয়? একবচন থেকে বহুবচনে রূপান্তর কর।


একবচন ও বহুবচন: বচনের সংজ্ঞাসহ প্রকারভেদ এবং গঠন
ভুমিকা: বাংলা ব্যাকরণে বচনের ধারণা ভাষা ব্যবহারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অংশ। কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম দ্বারা একটি বস্তু, ব্যক্তি বা প্রাণী বোঝানো হচ্ছে না কি একাধিক বোঝানো হচ্ছে—এই সংখ্যাগত পার্থক্য প্রকাশের জন্যই একবচন ও বহুবচন ব্যবহৃত হয়। ভাষার অর্থ স্পষ্ট করতে, বাক্যের ভাব নির্ভুলভাবে প্রকাশ করতে এবং যোগাযোগকে সাবলীল করতে একবচন ও বহুবচন-এর সঠিক প্রয়োগ অপরিহার্য।
বাংলা ভাষায় একবচন ও বহুবচন প্রকাশের উপায় শুধু সংখ্যা নির্দেশে সীমাবদ্ধ নয়; প্রত্যয়, শব্দ পরিবর্তন, বিভক্তি এবং কখনো কখনো প্রসঙ্গের মাধ্যমেও একবচন ও বহুবচন নির্ধারিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন একবচন ও বহুবচন জানা জরুরি, তেমনি লেখালেখি, বক্তৃতা ও ব্লগ লেখার ক্ষেত্রেও একবচন ও বহুবচন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
এই আলোচনায় একবচন ও বহুবচন কাকে বলে, কী কী উপায়ে একবচন ও বহুবচন গঠিত হয় এবং একবচন থেকে বহুবচনে রূপান্তরের নিয়ম কী—তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে, যাতে পাঠকের কাছে একবচন ও বহুবচন ধারণাটি পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে।
বচন কাকে বলে?
বচন শব্দের অর্থ সংখ্যার ধারণা। বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। যা কিছু গণনা করা যায়, তারই বচন হয়। বাংলা ভাষায় কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বচন আছে।
সংজ্ঞাঃ পদের যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে সংখ্যা বোঝানো হয়, তাকে বচন বলে। অন্য কথায় বিশেষ্য ও সর্বনামের একত্ব ও বহুত্বের বোধকে বচন বলে। যার দ্বারা পদার্থের সংখ্যা বিষয়ে বোধ জন্মে তাকে বচন বলে।
প্রকারভেদঃ একবচন ও বহুবচন
বচন দুই প্রকার। যথা: ১. একবচন ও ২. বহুবচন।
১. একবচনঃ যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটি মাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। সাধারণত মূল শব্দই একবচন রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন সে, মেয়েটি, আমি, ছাগলটি, বালক, ইত্যিাদি।
২. বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে। যেমন তারা, মেয়েরা, আমরা, বালকেরা ইত্যাদি।
(বাংলায় বচন দুটি। এক বোঝালে একবচন, একাধিক বোঝালে বহুবচন। বাংলায় কোনো দ্বিবচন নেই। দুটি সংখ্যা বোঝাতে দুই, দ্বয়, যুগোল, জোড়া প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার বাংলায় থাকলেও তাদের দ্বিবচন বলা চলে না।)
প্রশ্নঃ বাংলায় একবচন প্রকাশের উপায়গুলো আলোচনা কর। (একবচন ও বহুবচন)
উত্তরঃ বাংলায় এক বচনরে জন্য বিশেষ কোনো প্রত্যয় বা বিভক্তি নেই। শব্দের মূল রূপটি একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবুও একবচন নির্দেশ করার জন্য কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। নিয়মগুলো উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো।
শব্দের মূল রূপটি একবচন নির্দেশ করে। যেমন গাছ, আম, ছেলে, আমি, সে ইত্যাদি।
বিশেষ্যের আগে সংখ্যা বাচক শব্দ ‘এক’ বসিয়ে একবচন নির্দেশ করা হয়। যেমন এক লোক, এক টাকা ইত্যাদি।
বিশেষ্যের সাথে টা, টি, খান, খানা, খানি, গাছা, গাছি, ছড়া ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় যোগ করে একবচন নির্দেশ করা হয়। যেমন ছেলেটা, চিঠিখানা, চুড়িগাছি, হারছড়া ইত্যাদি।
সংখ্যাবাচক শব্দ ‘এক’ এর সাথে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের আগে ব্যবহার করে একবচন নির্দেশ করা হয়। যেমন একটা লোক, একখানা বই ইত্যাদি।
একবচনের বিভক্তি যোগ করেও একবচন নির্দেশিত হয়। যেমন লোককে।
কখনো কখনো রূপের দিক থেকে বহুবচন বোধক হলেও প্রকৃত পক্ষে তা একবচন বোঝায়। যেমন- আপনারা জ্ঞানীগুণী লোক। এখানে ‘রা’ প্রত্যয় যোগে বহুবচন গঠিত হলেও মূলত বলা হয়েছে একজনকেই।
বহুবচন প্রকাশের উপায় —একবচন ও বহুবচন
বাংলায় বহুবচন প্রকাশের নানা উপায় রয়েছে। সেগুলো নিম্নে উদাহরণসহ আলোচনা করা গেল।
শব্দের শেষে বহুত্বজ্ঞাপক বিভক্তি বা প্রত্যয় যোগ:
রা, এরা, দিগকে, দের, দেরকে, এদের ইত্যাদি বিভক্তি এবং গুলি, গুলো ইত্যাদি প্রত্যয় শব্দের শেষে যুক্ত করে বহুবচন প্রকাশ করা হয়। যেমন ছেলেরা, বইগুলো ইত্যাদি।
সমষ্টিবাচক শব্দ বিশেষণ রূপে শব্দের আগে বসায়ে:
সব, সকল, সমস্ত, বহু, অনেক ইত্যাদি সমষ্টিবাচক পদ, দুই তিন ইত্যাদি সংখ্যাবাচক শব্দ এবং এত, কত, কতক প্রভৃতি সর্বনামজাত সমষ্টিবাচক শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের আগে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে বহুবচন প্রকাশ করে। যেমন- সব বাড়ি, ছয় ছাগল, কত টাকা ইত্যাদি।
শব্দের শেষে সমষ্টিবাচক শব্দ যোগ করাঃ একবচন ও বহুবচন
সর্বনাম বা বিশেষ্যের পরে সমষ্টিবাচক শব্দ বসিয়ে বহুবচন প্রকাশ করা যায়। শব্দগুলো আবার প্রাণী ও অপ্রাণী শব্দ ভেদে আলাদা আলাদা বসে। যেমন-
- ১. প্রাণিবাচক শব্দের পরে কুল, দল, পাল, মণ্ডলী ইত্যাদি। অলিকুল, পতঙ্গপাল ইত্যাদি।
- ২. অপ্রাণিবাচক শব্দের পরে আবলি, পুঞ্জ, মালা, রাজি ইত্যাদি। রচনাবলি, তারকারাজি ইত্যাদি।
- ৩. প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় ক্ষেত্রে শ্রেণী, সব, সকল, সমূহ ইত্যাদি। বইসব, তরুশ্রেণী ইত্যাদি।
- ৪. মনুষ্যবাচক শব্দের ক্ষেত্রে গণ, বৃন্দ, বর্গ ইত্যাদি। যেমন পণ্ডিতবর্গ, দেবগণ ইত্যাদি।
একপদ দুইবার ব্যবহার:
একপদ দুইবার ব্যবহার করার ফলে বহুবচন তৈরি হয়। যেমন ছোট ছোট মাছ, ফুলে ফুলে ঘর ভরে গেছে। লোকটি খেটে খেটে মরে গেল।
শব্দের একবচনের রূপ বহুবচন হিসেবে ব্যবহার করা।
কখনো কখনো শব্দে একবচনের রূপ বহুবচন প্রকাশ করে যেমন লোকের (লোকদের) কথায় কান দিয়ো না।
সর্বনামের একবচন ও বহুবচনের আলাদা আলাদা রূপ ব্যবহার করে: যেমন আমি আমরা, ও-ওরা, সে-তারা, কি-কিসব ইত্যাদি।
ব্যক্তিবাচক বিশেষ্যের বহুবচন না হলেও প্রয়োগের গুণে কখনো কখনো বহুবচন হয়। যেমন-তুহিনরা পাঁচ ভাই। (তুহিনরা বলতে তুহিন ও অন্যান্য ভাইকে বোঝাচ্ছে)
সমার্থক শব্দ যোগেও বহুবচন প্রকাশ পায়। যেমন চিঠিপত্র, বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদি।
- কখনো কখনো একবচন রূপ বহুবচন প্রকাশ করে। যেমন মেয়েটি ফুল কুড়াচ্ছে। সে টাকা গুণছে।
- অনেক সময় বিশেষ্য পদ একবচন ও বহুবচন দুটোই প্রকাশ করে। যেমন বনে বাঘ থাকে।
- বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচন: যেমন এটাই করিমদের বাড়ি। সকলে সব জানে না।
(বিঃ দ্রঃ পাল ও যুথ দুটো কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন- গরুর পাল, হস্তিযুথ।।
বহুবচন প্রকাশের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগুলো সাধারণত তৎসম শব্দের নিয়ম অনুযায়ী। খাঁটি বাংলা শব্দের বহুবচন ও চলিত রীতিতে ‘রা’ ‘এরা’ ‘গুলা’ ‘গুলো’ ‘দের’ এসব প্রত্যয় এবং ‘অনেক’ ‘বহু’, ‘সব ‘ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। বাক্যে একই সঙ্গে দুবার বহুবচনবাচক শব্দ বা প্রত্যয় ব্যবহৃত হয় না।
একবচন ও বহুবচন —বহুবচন প্রকাশের কিছু উদাহরণ
- রচনাবলি -আমি নজরুল রচনাবলি পড়েছি।
- কেশজাল- কেশজাল ভালোকরে বেঁধে রাখ।
- মন্দিরবৃন্দ – মন্দিরবৃন্দ নগরের শোভা বৃদ্ধিকরে।
- শিবাবুল-শিবাবুল এখানে কোলাহল করছে।
- বারিদপুঞ্জ- আকাশমণ্ডলে বারিদপুঞ্জ ভাসছে।
- অস্ত্রীদল -অস্ত্রীদল অস্ত্র চালনা করছে।
- ভস্মরাশি -ভস্মরাশি বাতাসে ভাসছে।
- ধূমপুঞ্জ -চুলো হতে ধূমপুঞ্জ বের হচ্ছে।
- শরজাল- শরজাল নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।
- দীপাবলি- দীপাবলি ঘরে ঘরে জ্বলছে।
- মৃগপাল- মৃগপাল বনে বিচরণকরছে।
- বাবাসকল- বাবাসকল গোলমাল করিও না।
- মুরিদান- মুরিদান গুরুর সেবা করছে।
- কিরণরাশি- রবির কিরণরাশি তাপ ছড়াচ্ছে।
- মোরা-মোরা একসাথে খেলি আর পাঠশালায় যায়।
- ভবমণ্ডল- ভবমণ্ডল স্রষ্টার সৃষ্টি।
- ব্রজকুল- রাধা ব্রজকুল শ্রেষ্ঠা।
- শিলোচ্চয়- শিলোচ্চয় দিয়ে বাড়িঘর তৈরি হয়।
- সুরকুল-সুরকুল স্বর্গে থাকেরন।
একবচন ও বহুবচন এর উদাহরণ
- ভূধরবর্গ- ভূধরবর্গ তাদের রাজ্য রক্ষার জন্য সচেষ্ট থাকেন।
- সুধাংশুমণ্ডল- সুধাংশুমণ্ডল পৃথিবীতে আলো দেয়।
- অম্বুরাশি-অম্বুরাশি বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
- শৈবালদল- শৈবালদল সরোবরে জন্মে।
- ফুলচয়- ফুলচয় বাগানে শোভা বৃদ্ধিকরে।
- রবিকুল- রবিকুল সৌরজগতে বিরাজ করে।
- কলম্বকুল- কলম্বকুল নিক্ষেপে সৈন্য মরিল।
- বিস্তরসময়-এটা বিস্তর সময়ের ব্যাপার।
- যুবসংঘ- যুবসংঘ সমাজের একটি বিরাট অংশ।
- দৈত্যদল- দৈত্যদল অনিষ্ট করে।
- ঘটনাবলি সম্পর্কে সে ভালো জানে না।
- ধনরাজি অভাবে ধনরাজি কাজে না লাগলে জমিয়ে কী হবে?
- যন্ত্রীদল বাদ্যযন্ত্র বাজাই।
- আকাশমণ্ডল-আকাশমণ্ডলে বারিদপুঞ্জ ভাসছে।
- কৃষীদল জমি কর্ষণকরছে।
- রবি-কর-জাল অন্ধকার দূর করে।
- সুরবালাদল সুরবালাদল গান গাইছে।
- মুকুতাবলি মুকুতাবলি ঝিকমিক করছে।
- সন্দেহজাল- সন্দেহজাল কাটিয়ে উঠতে পারলাম না।
- বন্ধুমহল-বন্ধুমহল উপকার-অপকার দুটোই করে।
- দ্বিজশ্রেণী- দ্বিজশ্রেণী পুজো করছে।
- বুজুর্গান বুজুর্গান সম্মান পায়।
- পাদবশ্রেণী-পাদবশ্রেণী পারিবেশ রক্ষা করে।
- মাতৃকূল- মাতৃকুল রক্ষাকরা সকলের দায়িত্ব।
- বাজীপাল- বাজীপাল ছুটে চলছে।
- পতঙ্গপাল -পতঙ্গপাল আকাশে উড়ছে।
- পত্ররাজি পত্ররাজি ঝরে পড়ছে।
- সুরাসুরবৃন্দ সুরাসুরবৃন্দের মাঝে বিবাদ লেগেই থাকে।
- মহারথিকুল -মহারথিকুল রথে আছেন।
- বিপদজ্জাল -বিপদজ্জাল এড়িয়ে চলো।
- বৈরীকূল- বৈরীকুল এড়িয়ে চলো।
- মশককুল -মশককুলের কামড়ে ঘুম হয় না।
- গন্ধর্বকুল-গন্ধর্বকুলে ওস্তাদ আলাউদ্দীন এক বিস্ময়কর নাম।
- ভিন্দিপাল- ভিন্দিপাল নিক্ষেপে অনেক সৈন্য মরতে লাগলো।
- কমলনিকর- কমলনিকর দেখতে খুব মনোরম।
- সাহেবান কাশ্মিরী সাহেবান দেখতে সুন্দর।
- পদাবলি-বৈষ্ণব পদাবলিই মধ্য যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য।
- মাতঙ্গিনীযুথ মাতঙ্গিনীযুথ ক্ষেতের অফসল নষ্ট করে দিল।
- বামাদল- বামাদল গল্প করছে।
- পর্বতমালা- পর্বতমালা দেখিতে সুন্দর।
- কুসুমনিচয়-কুসুমনিচয় দিখতে অতি মনোহর।
- ভক্তবৃন্দ -ভক্তবৃন্দ মিলে শুরুসেবা করতে লাগলো।
- কুঞ্জরপাল কুঞ্জরপাল ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দিল।
- সাদীবৃন্দ সাদীবৃন্দ খুব দ্রুত তাদের অশ্বগুলো চালনা করল।
- মধুকরব্রত -মধুকরব্রত ফুল হতে মধু সংগ্রহ করে।
- সুরগ্রামে- সুরগ্রামে মুখরিত হলো সারা গ্রাম।
- ব্রতিসংঘ -ব্রতিসংঘের সকল সদস্য তাদের কাজ ঠিকমত করে।
- আশেকান- ভ্যালেনটাইন ডে-তে ক্যাম্পাসে আশেকানদের ভিড় জমে।
- কোকিলকুল -কোকিলকুলের কুহকুহ ডাকে মন ভরে ওঠে।
- শাখাদল শাখাদলে হাজারো পাখি বসে আছে।
- বিহগসমূহ – বিহগসমূহ অতিথি হয়ে এসেছে।
- তারাদল- রাতের বেলা তারা দল যেন এক একটি হীরা।
- ভাইসব- ভাইসব আমার কথা শোন।
- বায়ুকুল – বায়ুকুল নৌকা তেড়ে নিয়ে গেল।
- পিশাচদল- পিশাচদল উৎপাত শুরু করে দিল।
- কর্বুরদল – কর্বুরদল সীতাকে অশোক বনে বন্দি করে রাখে।
- রথীবৃন্দ – রথীবৃন্দ অভিমুন্যকে অন্যায় যুদ্ধে হত্যা করলো।
- বালুকারাশি- বালুকারাশি রোদে ঝিকমিক করছে।
- অলিকুল- অলিকুল পুষ্পে পুষ্পে ঘুরে বেড়ায়।
- বাড়ি বাড়ি- বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা তৈরি করতে লাগল।
- মথীরূহব্যুহ- মথীরূহব্যুহ ঝড়ে বিধ্বস্ত হলো।
- সৌরকররাশি- সৌরকররাশি তাপ বিতরণ করে।
- ধান্যরাশিতে-ধান্যরাশিতে ঘর ভরে উঠল।
- বিদ্বদ্মণ্ডলী- বিদ্বদ্মণ্ডলী সভায় এসে পৌছিলেন।
- ফেনপুঞ্জ- ফেনপুঞ্জ তীরে এসে লাগলো।
- মঞ্জরীবৃন্দ- আম্রমঞ্জরীবৃন্দের মিষ্টি সুবাসে ভরে ওঠে মন।
- সুধীমগুলী- সুধীমগুলীর পদচারনায় বাড়ি ভরে গেল।
- গুণগ্রাম – গুণগ্রাম টেনে শ্রীকান্ত নৌকা নিয়ে চলল।
- শিল্পীবৃন্দ/ শিল্পীকূল- শিল্পীকুলে অমর হে তুমি হে কিশোর কুমার।
- নক্ষত্রনিচয়- নক্ষত্রনিচয় মিটি মিটি করে জ্বলে।
- তরুশ্রেণী- তরূশ্রেণী চায় পাখা মেলে উড়তে।
- সখীবৃন্দ সখীবৃন্দ ঘিরে রেখেছে রাধাকে।
- গগণমণ্ডল- গগণমণ্ডল তারায় ভরা।
- রিপুবৃন্দ- রিপুবৃন্দকে জয় করে পথ চলতে হয়।
একবচন ও বহুবচন উদাহরণ
| গায়কদল | ফুলে ফুলে | পিককুল | তারাবলি |
| সৈন্যদল | পাখিসব | বালিরাশি | শব্দাবলি |
| বারিরাশি | আত্মীয়বর্গ | পংক্তিমালা | মেঘে মেঘে |
| ধূলারাশি | গুণিগণ | চেড়ীবৃন্দ | আঙুরগুচ্ছ |
| নরকুল | মৃগপাল | যোদ্ধাগণ | জাতিসমূহ |
| আলোকমালা | বনরাজি | রত্নাবলি | বুধমণ্ডল |
| গ্রন্থাবলি | পরিচালকবৃন্দ | তরঙ্গনিকর | কুসুমদাম |
| দেশসমূহ | গল্পগুচ্ছ | পুরোহিতসংঘ | জাতিপুঞ্জ |
| মেষপাল | জলরাশি | নাটকাবলি | বাড়ি বাড়ি |
| নদীসমূহ | খেলোয়াড়বৃন্দ | প্রেমিকশ্রেণি | রাক্ষসকুল |
| ফুলদল | অগ্নিরাশি | ঘরে ঘরে | মনুষ্যসমূহ |
| নারীমহল | পাতাকুল | সে-সব | যে-সব |
| ছাত্রদল | কারা | নিজেরা | বন্ধুবর্গ |
| পণ্ডিতবর্গ | কচিকুল | বৃজুর্গান | মন্দিরগুলো |


উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, বাংলা ভাষার শুদ্ধ ও অর্থবহ প্রয়োগের জন্য একবচন ও বহুবচন সম্পর্কে জ্ঞান অপরিহার্য। একটি বাক্যে একবচন ও বহুবচন সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে অর্থ বিভ্রান্ত হতে পারে এবং ভাষার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে একবচন ও বহুবচন-এর গঠন ও রূপান্তর আয়ত্ত করা।
ব্যাকরণিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, একবচন ও বহুবচন গঠনের পদ্ধতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি ব্যবহারেও রয়েছে সূক্ষ্মতা। সাহিত্য, প্রবন্ধ, গল্প কিংবা ব্লগ—সব ক্ষেত্রেই একবচন ও বহুবচন ভাষাকে পরিশীলিত ও প্রাঞ্জল করে তোলে। সঠিকভাবে একবচন ও বহুবচন প্রয়োগ করলে লেখকের বক্তব্য আরও বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংহত হয়।
অতএব, বাংলা ভাষা চর্চায় যারা আগ্রহী, তাদের জন্য একবচন ও বহুবচন শুধু একটি ব্যাকরণিক অধ্যায় নয়; বরং ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নিয়ম মেনে একবচন ও বহুবচন ব্যবহার করলেই ভাষা হয়ে উঠবে শুদ্ধ, স্পষ্ট ও প্রভাবশালী।