বাংলা বিষয়ের মাস্টার্স শেষ পর্ব শিক্ষাথীদৈর জন্য টার্ম পেপারের নমূনা।

টার্ম পেপারের নমূণা: বাংলা বিষয়
টার্ম পেপার মাস্টার্স শেষ পর্বের জন্য সকল বিষয়ের আবশ্যিক অংশ। টার্ম পেপার একটা গবেষণাধর্মী কাজ। শিক্ষার্থীরা যাতে পরবর্তীতে বড় মাপে গবেষণা করতে পারে তার জন্য টার্ম পেপার সেই গবেষণামূলক কাজের গোড়াপত্তন বলা যায়।


টার্ম পেপার শিক্ষার্থীদের কাছে সম্পর্প নতুন একটা বিষয়। তারা বিষয়টি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণা দিতে এই প্রয়াস। তাছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা বিভ্রান্ত ও ভীত হয়ে বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে, কথিত বড় ভাইদের কাছে প্রতারিত হয়, অর্থ নষ্ট করে। অথচ বিভাগে গিয়ে সেই টার্ম পেপার শিক্ষকদের কাছে জমা দিতে গিয়ে পড়ে আরেক বিড়ম্বনায়। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে টার্ম পেপারের নমূনা উপস্থাপন করা হলো।
টার্ম পেপারের নমূনা — কভার পেজ বাংলা বিভাগ
টার্ম পেপার বা পর্বপত্র প্রণয়নের নির্দিষ্ট নিয়ম বা কলা-কৌশল রয়েছে। সেই বিষয়ে আমি আগেই এই ব্লগে লিখেছিলাম। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
টার্ম পেপার প্রণয়ন কৌশল ( এখানে ক্লিক )
একটা সূচিপত্র অবশ্যই সংযোজন করতে হবে। যেখানে প্রতিটি অংশ ও প্রষ্ঠা নম্বর উল্লেখ থাকবে।
একটি টার্ম পেপারের নমূনা হিসেবে সূচিপত্র

টার্ম পেপারের নমূনা – সূচিপত্র
| ক্র. নং | বিষয় | পৃষ্ঠা |
| ১ | মুখবন্ধ | i |
| ২ | কৃতজ্ঞতা স্বীকার | ii |
| ৩ | ঘোষণা পত্র | iii |
| ৪ | অনুমতিপত্র | iv |
| ৫ | ভূমিকা | ১ |
| ৬ | প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক পরিচয় | ৩ |
| ৭ | গদ্যভাষার বৈশিষ্ট্য | ৭ |
| ৮ | আধুনিক প্রবন্ধ সাহিত্যে তাঁর প্রভাব | ১১ |
| ৯ | উপসংহার | ১৪ |
| ১০ | তথ্যসূত্র | ১৬ |
টার্ম পেপারের নমূনা — কী কী বিষয় থাকে?
মনে কর রবীন্দ্রনাথের চোখের বালি উপন্যাসের উপর একটা গবেষণাকর্ম করতে দেওয়া হলো সেখানে কী কী থাকতে পারে তার নমুনা-
- ঘোষনাপত্রঃ…………
- প্রত্যয়ন পত্রঃ……..
- মুখবন্ধঃ……
- কৃতজ্ঞতা স্বীকার :
- উৎসর্গঃ
- সারসংক্ষেপঃ
- প্রথম অধ্যায় ………………………. ১
- প্রারম্ভিক …………
১.১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচিতিঃ
- ১.২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত ̈কর্ম: ২
- ১.৩ ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন, পারিবারিকজীবন: ২
- ১.৪ গবেষণার উদ্দেশ্য ̈সমূহঃ……………………………………………………………………………৩
দ্বিতীয় অধ্যায়……………………………………………………৪
- 2.2 ধারণাগত প্রত্যয় ( যেমন উপন্যাস কাকে বলে, গবেষণা কী, টার্ম পেপার কী ইত্যাদির সংজ্ঞা ) ৫
- ২.২ পূর্ব গবেষণার ফলাফল ৬
তৃতীয় অধ্যায়
বিষয়ের বিবরণ
- ৩.১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচিতি …………………………………………………………………….৭
- ৩.২ চোখের বালি’ উপন্যাস ………………………………….৭
- ৩.৩ আধুনিকায়নের প্রেক্ষাপটে ‘চোখের বালি’ উপন্যাস…………………………….৮
- ৩.৪ ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের চিত্রকল্প ……………………………………৯
- ৩.৫ বাংলা উপন্যাসের পালাবদল ………………………..১০
- ৩.৬ উপন্যাসের নামকরণের সার্ ………………………………….. ১১
চতুর্থ অধ্যায় ………………………………………………………………….১৩
- ৪.১ গবেষণার ফলাফলঃ………………………………………………………………………………১৩
- ৪.২ সমাপনী বক্তব্য …………………………………………………………………………………. ১৪
- ৪.৩ উপসংহারঃ ………………………………………………………………………………………১৫
- গ্রন্থপুঞ্জী ……………………………………………………………………………………………….১৭
- পরিশিষ্ট (এপেনডিক্স)…………………………………………………………………………………১৮
টার্ম পেপারের নমূনা দেওয়া হলো কীভাবে বিষয়বস্তু সাজাতে হবে।
শিরোনাম: প্রমথ চৌধুরীর গদ্যভাষা : এক নতুন স্টাইল
ভূমিকা
বাংলা গদ্যের ইতিহাসে প্রমথ চৌধুরীর অবদান এক অনন্য অধ্যায়। উনিশ শতকের প্রান্তে এবং বিশ শতকের সূচনায় বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতি যে আধুনিকতার স্বাদ পেতে শুরু করে, তার অন্যতম রূপকার তিনি। তাঁর রচনায় প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও গদ্যরীতি মিলেমিশে এক নতুন ভাষাশৈলী নির্মাণ করেছে। এই টার্ম পেপারে তাঁর গদ্যভাষার বৈশিষ্ট্য, প্রভাব, তাঁর স্টাইল ও আধুনিকতার ধারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আলোচ্য বিষয়বস্তু
১. প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যকর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রমথ চৌধুরী ছিলেন রবীন্দ্রযুগের প্রভাবিত অথচ নিজস্ব ধারা নির্মাতা এক লেখক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ——– ইত্যাদি ইত্যাদি
২. গদ্যভাষার বৈশিষ্ট্য
- চলিত ভাষার প্রবর্তন
- যুক্তিবাদী ও বুদ্ধিনির্ভর বাক্যগঠন
- ব্যঙ্গরস ও কৌতুকের মিশ্রণ
- সংলাপধর্মী বর্ণনা
- পাঠকের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের ভঙ্গি
৩. প্রমথ চৌধুরী ও আধুনিক প্রবন্ধের সূচনা
তিনি বাংলা প্রবন্ধকে বিদগ্ধ গাম্ভীর্য থেকে মুক্ত করে দৈনন্দিন জীবনের রস ও চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর লেখায় চিন্তার স্বাধীনতা ও যুক্তির সৌন্দর্য মিলে যায়, যা আধুনিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৪. তাঁর ভাষাশৈলীর প্রভাব
পরবর্তী লেখকদের মধ্যে সৈয়দ মুজতবা আলী, আবুল মনসুর আহমদ, সেলিনা হোসেন প্রমুখের লেখায় প্রমথীয় ভাষাশৈলীর অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।
উপসংহার
প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যের ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা। তাঁর ভাষা শুধু প্রমিত ও চলিত রীতির সমন্বয়ই নয়, বরং আধুনিক চিন্তাধারার বাহনও বটে। বাংলা প্রবন্ধের ভঙ্গিমা, স্বর ও ভাষায় তিনি যে পরিবর্তনের সূচনা করেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর গদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভাষার সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তাতে চিন্তা ও মানবিকতার সুর একত্রে বেজে ওঠে।
টার্ম পেপারের নমূনা — তথ্যসূত্র
১. প্রমথ চৌধুরী, আলেখ্য, কলকাতা: বিশ্বভারতী, ১৯৩৫।
২. ড. সুকুমার সেন, বাংলা গদ্যের ইতিহাস, কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৭২।
৩. ড. যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য, আধুনিক বাংলা প্রবন্ধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৪।
৪. মোহিতলাল মজুমদার, গদ্য সাহিত্য ও প্রমথ চৌধুরী, কলকাতা: মিতালী প্রকাশন, ১৯৬৮।

সমগ্র আলোচনার একটা সারসংক্ষেপ প্রথমেই দিতে হবে। যাতে পাঠক বুঝতে পারে এই টার্মপেপারে কী কী আছে।
টার্ম পেপারের নমূনা —- সারসংক্ষেপ (Abstract)
এই টার্ম পেপারে প্রমথ চৌধুরীর গদ্যভাষার আধুনিক রূপ, চিন্তাধারা এবং প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গদ্যরীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাহিত্যমানসও বাংলা আধুনিক প্রবন্ধের ভিত্তি স্থাপন করে।
প্রস্তুতকারক
আখতার হোসেন
শিক্ষার্থী, এম.এ. (বাংলা), শেষ পর্ব
বাংলা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
টার্ম পেপারের নমূনা মুখবন্ধ এর নমূনা কপি
মুখবন্ধ
বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত ভুবনে প্রমথ চৌধুরী এক অনন্য নাম। তাঁর গদ্যভাষা ও ভাবনার আধুনিকতা বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। প্রমথ চৌধুরী একটা রচনারীতি বা স্টাইল তৈরি করে গেছেন। এই টার্ম পেপারে তাঁর ভাষারীতি, চিন্তাধারা এবং আধুনিকতার দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, সেই সাথে তাঁর রচনারীতি বা স্টাইল নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এই গবেষণায় আমি মূলত তাঁর প্রবন্ধসমূহের ভাষা, বক্তব্য, ও শৈলীর বৈচিত্র্য অনুসন্ধান করেছি। পাঠক ও গবেষকের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যচিন্তা পুনরালোচনার প্রয়াসই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য।
আমি একজন শিক্ষার্থী , গবেষণাকর্ম সম্পর্কে আমার ধারণা সীমিত। তবুও শিক্ষার্থী হিসেবে সীমিত পরিসরে এই কাজটি সম্পন্ন করেছি, অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে, তবু এটি আমার পাঠ ও ভাবনার এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
আখতার হোসেন
শিক্ষার্থী, এম.এ. (বাংলা), শেষ পর্ব
বাংলা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
তারিখ: ___ / ___ / ২০২৫
যে কোনো গবেষণামূলক কাজ করতে অনেকের সাহায্য সহযোগিতা লাগে। গবেষণা একটা সম্মিলিত প্রয়াস। তাই সকলের ঋণ স্বীকার করা একটা সৌজন্য ।
টার্ম পেপারের নমূনা — কৃতজ্ঞতা স্বীকার
সৃষ্টিকর্তার কাছে সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা ও অশেষ শোকরিয়া যে, এমন একটা গবেষণামূলক কাজ করতে পেরেছি।
এই টার্ম পেপার প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মইনুল ইসলাম মইন, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ—তাঁর মূল্যবান পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।
এছাড়া বিভাগীয় অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ এবং সহপাঠীদের প্রতিও আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের সহযোগিতা ও উৎসাহ আমার গবেষণার পথকে সহজ করেছে।
আমার সহপাঠীদের প্রতিও আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। তারা তাদের নিজস্ব কাজের ফাঁকেও আমাকে সাহস ও তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করার জন্য।
সবশেষে, আমি আমার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই—তাঁদের মানসিক সমর্থন ও ধৈর্যের কারণেই এই গবেষণার কাজটি সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি।
আখতার হোসেন
তারিখ: ___ / ___ / ২০২৫
একটা ঘোষণাপত্রের নমূনা
টার্ম পেপারের নমূনা —- ঘোষণাপত্র
আমি, আখতার হোসেন, এম.এ. (বাংলা) শেষ পর্বের একজন শিক্ষার্থী, এই মর্মে ঘোষণা করছি যে—
“প্রমথ চৌধুরীর গদ্যভাষা ও আধুনিক প্রবন্ধ সাহিত্য” শিরোনামে প্রস্তুত এই টার্ম পেপারটি সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব রচনা। এটি সম্পূর্ণ মৌলিক। অন্য কোনো গবেষণা বা অন্য কোনো লেখা থেকে কপিপেস্ট করা নয়। এটি পূর্বে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থাপিত হয়নি।
যথাসম্ভব প্রামাণ্য সূত্র, গ্রন্থ ও গবেষণাকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে, এবং যথাযথভাবে তার সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
আখতার হোসেন
রোল নং: ২০২৫১০১
রেজি. নং: ২০২১-৫৫৫-৮৮৮
বাংলা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
তারিখ: ___ / ___ / ২০২৫
টার্মপেপার একটা আবশ্যিক বিষয়, বিভাগের অনুমতিতে করতে হয়। সাধারণত যিনি গাইড হিসেবে থাকেন তিনিই অনুমতি দেন, অনেক সময় অফিসিয়ালি যা নিয়ম সেই অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনুমতি পত্র দিয়ে থাকেন। এখানে একটা নমুনা দেওয়া হলো।
টার্ম পেপারের নমূনা—– অনুমতিপত্র
এতদ্বারা প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে,
বাংলা বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ. (বাংলা) শেষ পর্বের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন,
রোল নং: ২০২৫১০১, রেজি. নং: ২০২১৫৫৫৮
“প্রমথ চৌধুরীর গদ্যভাষা ও আধুনিক প্রবন্ধ সাহিত্য” শিরোনামে একটি টার্ম পেপার প্রস্তুত করেছে।
আমি তাঁর এই গবেষণাধর্মী কাজটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন প্রদান করছি,
যাতে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়মে জমা দেওয়া যেতে পারে।
ড. মইনুল ইসলাম মইন
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
তারিখ: ___ / ___ / ২০২৫
বিভাগীয় সিল
(______________________)
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন বাংলা বিভাগ সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর