বনলতা সেন কাব্যের অতি সংক্ষিপ্ত (ক্যুইজ) প্রশ্নোত্তর

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
খোলা পাতা www.akhterhossain.com

বনলতা সেন কাব্য – জীবনানন্দ দাশ

ভূমিকা: জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ আধুনিক বাংলা কাব্যধারার এক অনন্য সৃষ্টি। এই কাব্যে কবি ব্যক্তিগত জীবনবোধ, নিঃসঙ্গতা, সময়বোধ ও ইতিহাসচেতনা বা অতীতের প্রতি আকুলতার সঙ্গে মানবজীবনের চিরন্তন ক্লান্তি , হতাশা, বন্ধ্যাত্ব, যুগযন্ত্রণা এবং তা থেকে উত্তোরণের জন্য আশ্রয়ের সন্ধানকে কাব্যিকভাবে প্রকাশ করেছেন। এখানে প্রকৃতি, নারী ও স্মৃতি মিলেমিশে এক রহস্যময় নন্দনভুবন তৈরি করেছে। বনলতা সেন কাব্যটি উপমা, চিত্রকল্প, ইন্দ্রিয়ঘনত্বসহ আধুনিক সাহিত্যনন্দনতত্ত্বের বহুবিধ ব্যবহারে অনন্য।

  1. বনলতা সেন কাব্যের কবি কে?

উত্তর জীবনানন্দ দাশ।

উত্তরঃ জন্ম ১৮৯৯ সালে, মৃত্যু ১৯৫৪ সালে।

উত্তর: বরিশাল।

উত্তরঃ ঝরা পালক (১৯২৮)।

উত্তর: ৩০টি।

উত্তর:

  1. বনলতা সেন, 
  2. কুড়ি বছর পর, 
  3. হাওয়ার রাত,  
  4. আমি যদি হতাম,  
  5. ঘাস,
  6. হায় চিল,
  7. বুনো হাঁস,      
  8. শঙ্খমালা,     
  9. নগ্ন নির্জন হাত,    
  10. শিকার
  11. হরিণেরা,    
  12. বেড়াল,
  13. সুদর্শনা,   
  14. অন্ধকার,   
  15. কমলালেবু,   
  16. শ্যামলী,  
  17. দুজন,   
  18. অবশেষে, 
  19. স্বপ্নের ধ্বনিরা,   
  20. আমাকে তুমি,  
  21. তুমি,    
  22. ধান কাটা হয়ে গেছে,  
  23. শিরীষের ডালপালা,  
  24. হাজার বছর ধরে শুধু খেলা করে,    
  25. সুরঞ্জনা,     
  26. মিত ভাষণ,    
  27. সবিতা,   
  28. সুচেতনা,
  29. অঘ্রান প্রান্তরে,    
  30. পথ হাঁটা

উত্তর: রূপসী বাংলার কবি।

উত্তর: বনলতা সেন।

উত্তর: ইতিহাস চেতনা, সময় চেতনা, তিমির হনন, বন্ধ্যা যুগের রূপকল্প,  পৌরাণিক উপমা-চিত্রকল্প ইত্যাদি, অচরিতার্থ প্রেম, হতাশা, ব্যর্থতা, অবসাদ, মৃত্যু চেতনা, সমাজ চেতনা,

  1. জীবনানন্দ দাশকে কী বলা হয়?

উত্তর: বিপন্ন মানবতার নীলকণ্ঠ কবি।

  1. রবীন্দ্রকাব্য সম্পর্কে জীবনানন্দ দাশ কী মন্তব্য করেছেন?

উত্তর: রবীন্দ্র প্রভাবে বাংলা কাব্যের মুক্তি নেই।

  1. জীবনানন্দ দাশের প্রিয় ঋতু কোনটি?

উত্তর: হেমন্ত।

  1. হেমন্ত ঋতু জীবনানন্দ দাশের কিসের প্রতীক হয়ে দেখা দিয়েছে?

উত্তর: বন্ধ্যা যুগের।

  1. ‘হায় চিল’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?

উত্তরঃ ‘বনলতা সেন’ কাব্যের।

  1. ‘হায় চিল’ কবিতাটির সাথে কোন কবির কোন কবিতার মিল রয়েছে?

উত্তর: ইয়েটসের-He Reproves the Curlew

  1. ‘বনলতা সেন’ কবিতাটির সাথে কোন কবির কোন কবিতার মিল আছে?

উত্তর: কবি এডগার এলান পো-এর ‘টু হেলেন’ কবিতার সাথে।

বনলতা সেন কবিতা

  1. কবি কত বছর ধরে কোথায় পথ হাঁটছেন?

উত্তর ; হাজার বছর  ধরে, পৃথিবীর পথে।

  1. কোথায় কোথায় চলেছেন ?

উত্তর: সিংহল, মালয়, বিম্বসার, বিদর্ভ নগরে,

  1. বনলতা সেনের বাড়ি কোথায় ?

উত্তর নাটোরে।

উত্তর:  নাটোরের বনলতা সেন, তাও দুদণ্ডের মতো।

উত্তর সন্ধ্যা আসে।

উত্তর চিল।

 উত্তর : পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে।

উত্তর: মৃত্যু চেতনার।

উত্তর বনলতা সেনের।

কুড়ি বছর পরে কবিতা

উত্তর: প্রেমিকের সাথে।

 উত্তর : কার্তিক মাসে।

উত্তর: কাক, হাঁস, চিল আর পেঁচা।

উত্তর: শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে।

উত্তর: চাঁদ।

উত্তর: যে প্রেম শেষ হয়ে গেছে, যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, সেই

               অচরিতার্থ প্রেমের কবি।

  1. জীবনানন্দ দাশের উপমার উদাহরণ দাও।

            উত্তর: পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে।

                     উত্তর : হাওয়ার রাত, নগ্ন নির্জন হাত।

                      উত্তর: মণিকা আলো।

                            উত্তর: ‘হাজার বছর শুধু খেলা করে’ কবিতায়।

উত্তর: নতুন যুগের সম্ভাবনাকে।

উত্তর: নক্ষত্রের।

উত্তর? মৌশুমী সমুদ্রের পেটের মতো।

উত্তর: স্বাতী তারার কাছে সমুদ্রের সাদা বকের মতো উড়তে।

উত্তর:পৃথিবীর সমস্ত ধূসর প্রিয় মৃতদের মুখ।

  1. জীবনানন্দ দাশের যেসব কবিতায় মৃত্যুভাবনা উঠে এসেছে তাদের নাম বল।

উত্তর:, বনলতা সেন, শিকার প্রভৃতি

  1. জীবনানন্দ দাশ কোথায় ক্লান্তি নেই বলে উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: লাশকাটা ঘরে।

  1. জীবনানন্দ দাশের কোন কোন কবিতায় ইতিহাস চেতনা উচ্চকিত?

উত্তর : অস্ত চাঁদে, বনলতা সেন, নগ্ন নির্জন হাত, সুরঞ্জনা, মিতভাষণ।

  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে জীবনানন্দ দাশের কী মনে হয়েছে?

উত্তর: কালরাত্রি, অপব্যয়ী অক্লান্ত আগুন, পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ।

  1. কবি কতদিন ধরে পৃথিবীর পথে হাঁটছেন?

উত্তর: হাজার বছর ধরে।

  1. ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কবি কোথায় কোথায় ঘুরেছেন?

উত্তরঃ সিংহল, মালয় সাগরে, বিম্বিসা, বিদর্ভ নগর।

  1. ‘বনলতা সেন’ কবিতায় ক্লান্ত কবিকে কে দু’দণ্ড শাস্তি দিয়েছিল?

উত্তর: নাটোরের বনলতা সেন।

  1. বনলতা সেনের চুলের স্বরূপ কী?

উত্তর: বিধ্বস্ত বিদিশা নগরীর রাত্রিকালীন অন্ধকারের মতো কালো বনলতা    সেনের চুল।

  1. বনলতা সেনের মুখের সৌন্দর্য কিরূপ?

উত্তর: কারুকার্য করা শ্রাবস্তীর মতো।

  1. ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কোন দ্বীপের উল্লেখ আছে?

উত্তর: দারুচিনি দ্বীপ।

উত্তর: পাখির নীড়ের সাথে।

উত্তর : শান্তির আশ্রয়স্থল।

উত্তর: সন্ধ্যা।

উত্তর: চিল এবং জোনাকি।

উত্তর: কুড়ি বছর পর, কার্তিক মাসে।

উত্তরঃ ৫টি। কাক, হাঁস, পাখি, পেঁচা , চিল।

উত্তর: কবির মশারিতে।

উত্তর : সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা জেগে ওঠায়।

উত্তর: প্রিয় মৃতদের মুখ।

উত্তর: দীর্ঘ বর্শা হাতে তাদেরকে কাতারে কাতারে দাঁড়ানো দেখেছেন কবি

উত্তর: পাখির নীড়ের সাথে।

উত্তর : শান্তির আশ্রয়স্থল।

উত্তর: সন্ধ্যা।

উত্তর: চিল এবং জোনাকি।

                      উত্তর: কুড়ি বছর পর, কার্তিক মাসে।

উত্তরঃ ৫টি। কাক, হাঁস, পাখি, পেঁচা , চিল।

উত্তর: কবির মশারিতে।

উত্তর : সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা জেগে ওঠায়।

উত্তর: প্রিয় মৃতদের মুখ।

উত্তর: সিংহ, জেব্রা, বাঘিনী।

উত্তর: বনহংস।

উত্তর: সোনার ডিমের সাথে।

উত্তর: কাঁচা বাতাবির মতো সবুজ ঘাস।

উত্তর: ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে।

উত্তর: বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে।

উত্তরঃ বুনো হাঁস পাখা মেলে ছুটছে।

উত্তর: পাড়াগাঁর অরুনিমা সান্যালের মুখ।

উত্তর: কোনো এক নারী।

উত্তর: নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে খুঁজেছে।

উত্তর: শিঙের মতন বাঁকা নীল চাঁদ।

উত্তর: কড়ির মতো শাদা মুখ।

উত্তর: শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার।

উত্তরঃ সহোদরার মতো।

উত্তর: ভারত সমুদ্রতীরে, ভূমধ্যসাগরে বা টায়ার সিন্ধুর পারে।

উত্তর: পারস্য গালিচা, কাশ্মিরী শাল, বেরিন তরঙ্গের নিটোল মুক্তা প্রবাল।

উত্তর: কমলা।

উত্তর : টিয়ার পালকের মতো।

উত্তর: মোরগ ফুলের মতো লাল।

উত্তর: হরিণীকে।

উত্তর: শেফালিকা বোস হাসে।

উত্তরঃ হাওয়া আর হীরার আলোকে, হাওয়া আর মুক্তার আলোকে

উত্তর। বিড়ালের কথা।

উত্তরঃ এই পৃথিবীর ভালো পরিচিত রোদের সাথে।

উত্তর: ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে।

উত্তর: মানুষিক সৈনিক সেজে।

উত্তর। কোটি কোটি শুয়োরের।

উত্তর: শত শত শূকরের চিৎকার, শত শত শূকরীর প্রসব বেদনার আড়ম্বরকে কবি  ভয়াবহ আরতি বলেছেন।

উত্তর: একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে।

উত্তর: শ্যামলীর মুখ সেকালের শক্তির মতন।

উত্তর: শিশিরের জলে।

উত্তরঃ অতিকায় হরিণের মতো।

উত্তরঃ ‘বনলতা সেন’ কাব্যের ‘স্বপ্নের ধ্বনিরা’ কবিতার।

উত্তর : মস্তবড় ময়দান।

উত্তরঃ খররৌদ্রে পা ছড়িয়ে বর্ষীয়সী রূপসীর মতো ধান ভানে গান গায়।

উত্তর: শ্মশানের চন্দন কাঠের চিতার গন্ধ, আগুনের ঘিয়ের ঘ্রাণ পাওয়া গেলে অসম্ভব বিষণ্ণতা নেমে আসে।

উত্তরঃ ‘ তুমি’ কবিতার।

উত্তর : ধান কাটা হয়ে যাওয়া মাঠের ভিতর।

উত্তরঃ শান্ত হতে।

উত্তর: শিরীষের ডালপালা লেগে আছে।

উত্তর: জোনাকির মতো খেলা করে।

উত্তর: পৃথিবীর বয়সের সমান।

উত্তর: এখানো নারী অর্থ তুমি।

উত্তর: ভূমধ্যসাগর ঘিরে যেসব মানুষ বাস করে তাদের সাথে কোনো এক বসন্তের রাতে আমরাও মানব জন্য পেয়েছি।

উত্তর: সুচেতনাকে কবি দূরতর দ্বীপ বলেছেন।

উত্তর: বনলতা সেন এবং সুচেতনা কবিতায়।

উত্তর : কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে।

উত্তর: পৃথিবীর কাছে।

উত্তর: অগণন মানুষের লাশ নিয়ে।

উত্তর: শতাব্দীর মনীষীর আলো জ্বালার মধ্যে দিয়েই পৃথিবীর মুক্তি আসবে।

উত্তর: লেখক জানেন তার প্রিয়ার দু’চোখ আর তাকে পৃথিবীর উপরে খোঁজে না।

উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচা হিজলের ফাঁক দিয়ে বাবলার আঁধার গলিতে নেমে যায়।

উত্তর: কবি শহরের পথ থেকে পথে হেঁটে বেড়ান।

উত্তর: ৩০টি।

উত্তর: প্রথম কবিতা বনলতা সেন, শেষ কবিতা পথ হাঁটা

উপসংহার:

বনলতা সেন কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি আধুনিক মানুষের অন্তর্লোকের প্রতিচ্ছবি। জীবনের ক্লান্ত পথে হারিয়ে যাওয়া মানুষের আশ্রয় ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে ওঠে বনলতা সেন। তাই এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে চিরকাল জীবন্ত থাকবে এক অনুপম সংবেদন ও নান্দনিকতার স্মারক হিসেবে। আধুনিক মানুষের তথা আধুনিক জীবনবোধের এক অসাধারণ চিত্রকল্প বনলতা সেন কাব্য।

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন বাংলা বিভাগ সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *