স্বতন্ত্র আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দেশবিভাগজনিত লালিত আশাভঙ্গের বেদনার দলিল

বাংলাদেশের সাহিত্য: সাধারণত ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক বা বাংলাদেশ পরিসীমায় যে সাহিত্য গড়ে ওঠে, তা-ই বাংলাদেশের সাহিত্য নামে পরিচিত। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অতি সামপ্রতিক ধারা হলো বাংলাদেশের সাহিত্য। ৪৭ সালের দেশবিভাগ, দেশবিভাগকে কেন্দ্র করে এদেশের মানুষের নতুন চিন্তা-ভাবনা, দেশবিভাগকেন্দ্রিক ভৌগোলিক স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্র আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দেশবিভাগজনিত লালিত আশাভঙ্গের বেদনা বাংলাদেশের সাহিত্য ধারণ করে আছে।

৪৭ সালের দেশবিভাগের কারণে এ উপমহাদেশ ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে দুটি ধারা তৈরি হয়। একটি হলো- স্বতন্ত্রপন্থি, পাকিস্তানবাদী ধারা , আরেকটি উদারপন্থী, মানবিক ও অসামপ্রদায়িক ধারা অর্থাৎ আবহমান বাংলা সাহিত্যের সাথে সম্পৃক্ত সমন্বয়বাদী ধারা। এ দুটো ধারাই বাংলাদেশের সাহিত্য নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশের সাহিত্যের দুটো ধারা:

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আধুনিক যুগে মুসলমান কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যপন্থী ও সমন্বয়পন্থী নামে দুটো ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্যের সাহিত্যধারা বিদ্যামান ছিল। দেশভাগের পরও বাংলাদেশের সাহিত্যে তার অস্তিত্ব বিদ্যামান।স্বাতন্ত্র্যপন্থী বা সুধাককর দল এবং সমন্বয়পন্থী নামে এই দুই শ্রেণির মুসলিম লেখক আধুনিক বাংলা সাহিত্যে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছিলেন। তার প্রভাব পরবর্তীতে কালে সমভাবে লক্ষণীয়। স্বাতন্ত্র্যপন্থী লেখকগণ ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অবলম্বনে যে বৈশিষ্ট্য সাহিত্যিক্ষেত্রে রূপায়িত করেছিলেন একদল অনুসারীর দ্বারা তার অনুবর্তন চলে।

আবার সে আমলে সমন্বয়পন্থী মুসলিম সাহিত্যসাধকরা গতানুগতিক বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে যেমন যোগসূত্র রক্ষা করেছিলেন , তেমনি দেশভাগের পরও এক শ্রেণির কবিসাহিত্যিক সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যের সংযোগ সাধনের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের রচনায় স্পষ্ট হয়েছে।

প্রথম ধারার লেখকদেরকে ইসলামি ঐতিহ্যের অনুসারী বলা হয়। ধর্মীয় ভিত্তিতে স্বতন্ত্র আবাসভূমির প্রয়োজনে দেশভাগের কারণে সাহিত্যে স্বকীয় ইসলামি বৈশিষ্ট্য রূপায়িত হওয়া উচিত বলে মনে করেছিল প্রথম ধারার লেখকরা। অন্যদিকে আবহমান কালের বাংলাদেশের ঐতিহ্যের প্রতি আকৃষ্ট সমন্বয়বাদীরা পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সমগোত্রতা উপলব্ধি করেন। প্রথম পর্যায়ের কাব্যের মধ্যে বিষয়বস্তুর প্রাধান্য আর অপরটির মধ্যে রূপরীতির প্রাধান্য বিদ্যমান।

তবে একটা কথা স্বীকার্য যে, এই শ্রেণিভেদ দেশভাগের প্রথম দিকে যেমন প্রকট ছিল , পরবর্তীতে তত বিরাজমান নেই।

বাংলা সাহিত্যে ৪৭ সালের দেশভাগের প্রভাব:

কবিতার ক্ষেত্রে ঃ দেশভাগের প্রভাব বাংলা কবিতায় সবচেয়ে বেশি। কোলকাতার প্রভাবমুক্ত হয়ে বাংলা কবিতা স্বমহিমায় প্রকাশ পায়।

সমাজসচেতনতা- বিশ্ব ব্যাপি ডামাডোলের চিত্র অঙ্কিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, দেশভাগের ঢেউ, বাঙালি মুসলমানদের উত্থান, নিপীড়িত মানুষের জেগে ওঠা ইত্যাদি ঘটনাপ্রবাহ চলি­শের দশকের কবিদের সমাজমুখী ও আত্মসচেতন করে তোলে।

ইসলামী চেতনা- ফররুখ আহমেদ, সৈয়দ আলী আহসান, তালিম হোসেন, সৈয়দ আলী আশরফ প্রমুখ।
দেশপ্রেম- দেশভাগ, নিজস্ব আবাসভূমি, নিজস্ব চিন্তাচেতনার প্রতিফলন, স্বকীয় সমাজ-সংস্কৃতির বাস্তবায়ন, ভাষা আন্দোলন, শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ ইত্যাদি ঘটনা অসংখ্য দেশপ্রেমিকের জন্ম দেয়। হাসান হাফিজুর রহমান, আবুজাফর ওবায়দুল­াহ, আলাউদ্দীন আল আজাদ, আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- যে স্বপ্ন-আশা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পেছনে অবদান রেখেছে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই সেই মোহ ভঙ্গ হতে থাকে। পুর্ব পাকিস্তানের মানুষ আবার স্বতন্ত্র একটি রাষ্ট্রের চিন্তায় বিভোর হয়ে ওঠে। আর এরই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ বাংলা কবিতার গতি-প্রকৃতি পাল্টে দেয়। নিজস্ব ভূখণ্ড পাওয়ার উত্তেজনা, আনন্দ, আবেগ যেন আকাশ স্পর্শ করে।

বাংলাদেশের জন্মের পর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হয়, তা স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে ভালোভাবে জেনেছিলেন সত্তরের কবিগণ। আর এ চেতনা বাংলা কবিতায় অনুপ্রবিষ্ট হওয়ার ফলে বাংলা কবিতার রূপ পাল্টে যায়। শামসুর রাহমান, আবিদ আজাদ, শিহাব সরকার প্রমুখ কবির কবিতায় তা প্রকট আকারে প্রকাশ পায়।

উপন্যাসের ক্ষেত্রেঃ

গ্রামীণ জীবনের রূপায়ণ- বাংলাদেশ তথা ঢাকা সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠলে সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামাজীবনের দ্বন্দ্ব, বঞ্চনা, শোষণ, প্রবঞ্চনা, প্রতিবাদ আর জীবন্ত চরিত্রগুলোর বলিষ্ঠ স্বগত সংলাপে গ্রামজীবনের সামগ্রিক বিষয় উঠে এসেছে। সৈয়দ ওয়ালীউল­াহ, শওকত ওসমান, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, শহীদুল­াহ কায়সার প্রমুখ লেখকের উপন্যাসে তার পরিচয় মেলে । এমনকি আঞ্চলিক দিকটিও বাদ পড়ে নি। চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, সারেং বৌ, সূর্য দীঘল বাড়ি, পদ্মা মেঘনা যমুনা ইত্যাদি উপন্যাস এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়।

নগর জীবনের রূপায়ণঃ গ্রামকেন্দ্রিক বাংলা দেশভাগের পরে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্রেড লাইসেন্স, ঠিকাদারি ইত্যাদির প্রসার ঘটে। আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মন-মানসিকতায় আসে জটিলতা। গড়ে ওঠে নগরকেন্দ্রিক উপন্যাস। সৈয়দ শামসুল হকের ‘খেলারাম খেলে যা’, রশীদ করীমের ‘আমার যত গ­ানি’, মাহমুদুল হকের ‘জীবন আমার বোন’ ইত্যাদি উলে­খযোগ্য।

আদর্শধর্মীতার রূপায়ণঃ লেখকের সযত্নে লালিত আদর্শ ও মূল্যবোধের রূপায়ণ ঘটে। প্রত্যক্ষ জীবন নয়, বাস্তব সত্য নয়, মানুষের কল্যাণমূলে বিশ্বাসী লেখক মিলেনিয়ামের স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্নকে তিনি উপন্যাসের মধ্যে রূপ দেন। আবুল ফজলের ‘রাঙা প্রভাত‘ উলে­খযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উপন্যাসের গতিকে ভিন্নতা দান করেছে। বায়ান্ন, দ্বিজাতিতত্ত্ব, লাহোর প্রস্তাব, ছয় দফা, উনসত্তরের গণআন্দোলন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলন এ সবের শেষ প্রান্ত হলো মুক্তিযুদ্ধ। এ সব কাহিনি নিয়ে অসংখ্য উপন্যাস রচিত হয়েছে। আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত‘, শওকত ওসমানের ‘জাহান্নাম হতে বিদায়‘, ‘নেকড়ে অরণ্য‘, সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড‘ ইত্যাদি।

ছোটগল্পের ক্ষেত্রে ঃ
বাংলার সমাজ-জীবনঃ দেশভাগের ফলে বাংলার সমাজ-জীবনের ব্যাপক চিত্রায়ণ ঘটে। নীচুতলার মানুষ, তাদের সুখ-দুঃখ, বঞ্চনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত বাস্তবের সাথে রূপায়িত হয়েছে। আবুজাফর শামসুদ্দীনের ‘ফাঁসী‘ ও ‘তালাক‘ , শওকত ওসমানের ‘নতুন জন্ম‘, ‘ইলম‘ ইত্যাদির কথা উলে­খ করার মতো।

সামপ্রদায়িকতার চিত্র ঃ দেশভাগের পর সবচেয়ে বেশি গল্প লিখিত হয়েছে সামপ্রদায়িকতার নিয়ে। সৈয়দ ওয়ালীউল­াহর একটি তুলসী গাছের কাহিনী, হাসান হাফিজুর রহমানের আরো দুটি মুত্যু উলে­খযোগ্য।

নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনচিত্র ঃ শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পথ জানা নাই‘, ‘ক্ষুধা‘, আবু ইসহাকের ‘জোঁক‘, সরদার জয়েনউদ্দীনের ‘মা‘ গল্প।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ঃ এ দুটো বিষয় সাহিত্যের অন্যান্য শাখার মতো এ শাখাকেও যথেষ্ট সমৃদ্ধ করেছে। জহির রায়হানের ‘একুশের গল্প‘ ভাষাআন্দোলনের উপর আর ‘সময়ের প্রয়োজনে‘ মুক্তিযু্েদ্ধর উপর লেখা বিখ্যাত গল্প। শওকত আলীর ‘কোথায় আমার ভালোবাসা‘ গুরুত্বপূর্ণ গল্প।

নাটকের ক্ষেত্রে:

মূল্যবোধের অবক্ষয় ঃ পুঁজিবাদী সমাজের ভণ্ডামি ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে অনেক নাটক রচিত হয়েছে। ‘আমলার মামলা‘, ‘তস্কর লস্কর‘ ‘কাঁকর মণি‘ ও ‘বাগদাদের কবি‘ উলে­খযোগ্য।
ভাষাআন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ঃ মুনীর চৌধুরীর কবর ভাষাআন্দোলনের উপর শিল্পসফল নাটক। মমতাজউদ্দীনের এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নীলিমা ইব্রাহিমের যে অবণ্যে আলো নেই ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।

ভাষা-আন্দোলনের উপর ভিডিও

প্রবন্ধ সাহিত্য ঃ প্রবন্ধ সাহিত্যও ব্যতিক্রম নয়। দেশভাগের প্রভাবে এখানে নানা চিন্তাচেতনার প্রসার ঘটেছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাস্ট্রিক ইত্যাদি বিষয়ের বাঙালি জাতিসত্ত্বার পরিচয় প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলাদেশের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য বা স্বাতন্ত্র্য:

সুদীর্ঘকাল ধরে সকল অঞ্চলের বাঙালির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত । আবহমান কালের ঐতিহ্যমণ্ডিত এ সাহিত্যের ধারায় কিছুটা পরিবর্তন আসে ৪৭ সালের দেশবিভাগের ফলে। বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চল দুটো ভাগে বিভক্ত হওয়ায় সাহিত্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। দেশবিভাগকেন্দ্রিক রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য সাহিত্যের অঙ্গনেও স্বতন্ত্রতা এনে দেয়। বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের স্বতন্ত্র মর্যাদা স্বীকৃতি পাওয়ায় এখানকার বাংলা সাহিত্যে জাতীয় জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। ভৌগোলিক ব্যবধানের কারণে এখানকার জীবনযাপন পদ্ধতিতে স্বাতন্ত্র্য বিদ্যমান থাকায় সাহিত্যের ক্ষেত্রে তার রূপায়ণ ঘটেছে। এদেশের মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনার প্রকাশও ঘটেছে। ফলে এ অঞ্চলের সাহিত্য বিশিষ্টতার অধিকারী হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের সাহিত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য:

১. বাংলাদেশ নামক ভৌগোলিক পরিসীমায় আবদ্ধ সমাজ-জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে । মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা সাহিত্যে এনেছে স্বতন্ত্র রূপ। এসেছে গ্রাম-বাংলার বাস্তবধর্মী চিত্র।
২. বৈচিত্রময় বাংলার প্রকৃতি রূপায়নের ফলে সাহিত্য পেয়েছে স্বতন্ত্রমাত্রা।
৩. মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি হওয়ায় মুসলিম মানসের প্রতিফলন ঘটেছে।
৪. প্রকাশ পেয়েছে স্বতন্ত্র ভাষা। ভাষার নিজস্বতা এ সময়ের সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের পরিসীমায় ব্যবহৃত শব্দ ও ভঙ্গিমা এখানকার সাহিত্যে স্বাভাবিক স্থান করে নিয়েছে। জনগণের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরবি, ফারসি শব্দ মর্যাদাপূর্ণ আসন লাভ করে ভাষায়ও এনেছে স্বাতন্ত্র্য।
৫. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন বাংলাদেশের সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে নবরূপায়ণে সহায়তা করেছে। রাজনৈতিক আন্দোলনে যেমন জাতীয় জীবন সচেতন হয়ে উঠেছে, তেমনি সাহিত্যে তার প্রতিফলন ঘটেছে।

পরিশেষে, এ কথা ঠিক যে, হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্যের সাথে বাংলাদেশের সাহিত্য সম্পৃক্ত। এ সম্পৃক্ততা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় নি। তবুও ৪৭ সালের পর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। এ অঞ্চলের জীবনযাপনের যে স্বাতন্ত্র্য বিদ্যমান ছিল তা এ সময়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠার সুযোগ লাভ করে। সে কারণে সাহিত্যের চেহারাও যে কিছুটা পৃথক হবে, সেটাই ছিল স্বাভাবিক।

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *