বিসর্জন নাটকের ঐতিহাসিকতা, নাটকীয় দ্বন্দ্ব, মূল উপজীব্য ও চরিত্র-সৃষ্টি
বিসর্জন নাটকের পরিচয়:
বিসর্জন নাটকটি ”রাজর্ষি” উপন্যাসের প্রথমাংশ ও শেষের দিকের কয়েকটি পরিচ্ছেদ নিয়ে রচিত। রাজর্ষি উপন্যাসের ১ম থেকে ১৮ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত গল্প বিসর্জনে আছে। ৩২, ৩৩, ৩৬ ও ৩৭ পরিচ্ছেদ থেকে নক্ষত্ররায়ের বিদ্রোহের কথাও নেওয়া হয়েছে। রাজর্ষির অন্যান্য অংশের সাথে বিসর্জন নাটকের সম্পর্ক নেই।

বিসর্জন নাটক রচনার শুরু ১২৯৬ সাল । প্রকাশিত ১২৯৭, ১৮৯১। ১৩০৩ ও ১৩০৬ সালে নাটকে কিছু কিছু পরিবর্তন করা হয় । রাজর্ষির অনেক চরিত্র নাটকে নেই। রাজর্ষি উপন্যাসের গোবিন্দমাণিক্য, নক্ষত্ররায়, রঘুপতি জয়সিংহ বিসর্জন নাটকের অংশ ছিল।

বিসর্জন নাটকের প্রথম সংস্করণে হাসি, তাতা, তাতার কাকা কেদারেশ্বর, অপর্ণার অন্ধ পিতা বিসর্জনে থাকলেও পরবর্তীতে বাদ দেওয়া হয়। গুণবতী, অপর্ণা, নয়নরায়, চাঁদপাল কবির নতুন সৃষ্টি ।
স্থানঃ– সাজাদ পুরের নির্জন বাস।
বিসর্জন নাটকের মূল উপজীব্যঃ-
হিংসার উপর প্রতিষ্ঠিত যুক্তিহীন ধর্মাচার কখনো প্রকৃত ধর্মের অঙ্গ হতে পারে না। একটি মাত্র ভাব এ নাটকে উপজীব্য হয়ে আছে তাহলো Ñ প্রেমের পথ ও হিংসার পথ এক নয়, প্রেমেই দেবতার পূজো হয়, হিংসায় নয়।
বিসর্জন নাটকের মধ্যে দুই শক্তির সংগ্রাম চলেছে। তাহলো- প্রাচীন প্রথার শক্তি আর প্রেম ও করুণার শক্তি । প্রথা ধর্মের সাথে মানব ধর্মের সংঘাত এ নাটকের মূল প্রতিপাদ্য। আসলে প্রেম ওপ্রতাপের দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত প্রেমের জয় হয়েছে অর্থাৎ মানবধর্মের জয় চিত্রিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রথার চেয়ে মানুষ অনেক বড় Ñএ রকম ভাববস্তুতে নাটকটি পরিণতি পেয়েছে ।
বৃদ্ধ সম্মানিত ও শক্তিশালী পুরোহিত রঘুপতি হচেছ প্রাচীন প্রথার- নিষ্ঠুর জীব বলীর – প্রতিনিধি। আর প্রেম ও করুণার শক্তির প্রতিনিধি হচেছ বালিকা ভিখারিণী সমাজে অখ্যাতা অপর্ণা । নগণ্য অপর্ণাই প্রতাপশালী রঘুপতির বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে ।
অপর্ণার ছাগশিশু মন্দিরের লোকেরা ধরে এনে দেবীর কাছে বলি দিয়েছে । সন্তানরূপ ছাগশিশুর বলির কারণে মাতৃরূপ অপর্ণার অন্তরে গভীর বেদনা বেজে উঠেছে । সেই বেদনা সহজেই মহৎ হৃদয় গোবিন্দমাণিক্যকে আঘাত করেছে এবং প্রেম ও করুণার সত্যে টেনে আনে । মন্দিরের সেবক ও রঘুপতির পালিত পুত্র কোমল হৃদয় জয়সিংহকে দ্রুত জীববলির অসারত্ব সম্বন্ধে অনেকটা সচেতন করে তোলে , আর শেষে প্রতাপে অন্ধ কঠিন-হৃদয় রঘুপতিকেও নির্মম অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে প্রেম ও করুণার পথেই নিয়ে আসে ।
বিসর্জন নাটকের শ্রেণি বিচার: গ্রন্থটি কোন শ্রেণির: কাব্যনাট্য এবং ট্র্যাজেডি পর্যায়ের।
বিসর্জন নাটকের নামকরণ: বাহ্যিকভাবে রঘুপতি কর্তৃক মন্দির থেকে প্রতিমা বিসর্জন। বড় কথা জয়সিংহের আত্মত্যাগ। রঘুপতির মন থেকে হিংসার বিসর্জন। রঘুপতি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে প্রেম হিংসার পথে চলে না, বিশ্বমাতার পুজো প্রেমের দ্বারাই হয়। রাণী গুণবতী তার ভুল বুঝতে পারে। তাই রানীর মনের থেকে হিংসার বিসর্জন বিসর্জন নাটকের মূল বিষয়।
বিসর্জন নাটকের মূল দ্বন্দ্ব: প্রেম আর প্রতাপের দ্বন্দ্ব। প্রথার সাথে হৃদয়ধর্মের। রঘুপতির প্রভূত্বের ইচ্ছার সাথে গোবিন্দমাণিক্যের প্রেমের শক্তির দ্বন্দ্ব। রাজা চেয়েছে প্রেম জয়ী হোক। রাজপুরোহিত রঘুপতি চায় প্রভূত্ব জয়ী হোক। শেষ পর্যন্ত প্রেম জয়ী হয়েছে।
বিসর্জন নাটকের শুরুঃ নিঃসন্তান রাণীর সন্তান কামনা দিয়ে নাটকের শুরু। রাণী চায় প্রাণ, প্রাণের প্রতি ভালোবাসা তার প্রবল, অথচ বলি দিতে চায় শত প্রাণ। প্রগাঢ় ভালোবাসা প্রকাশে অনেকে নিজের প্রাণও তুচ্ছ মনে করে, অন্যদিকে অসহায় প্রাণীদের প্রাণের ক্রন্দন তারা শুনতে পায় না।
বিসর্জন নাটকের শুরুতে অপর্ণা কোন বাণী নিয়ে আসে ?
অপর্ণা বোঝাতে চায় যে, একদিক দিয়ে যখন মানুষ বুঝতে পারে প্রাণের আদর কতখানি, মা হয়ে প্রাণকে লালন করার জন্য ব্যাকুল, তখন কেন অন্য প্রাণকে বলি এই উদ্দেশ্য সাধন করতে হবে। গুণবতী সন্তানের আশায় একশত ছাগ বলি দিতে চান, অথচ চিন্তা করে দেখলেন না যে, এই চাওয়ার মধ্যে কতখানি নিষ্ঠুরতা আছে।
দুই পক্ষ: প্রেম, প্রাণের মূল্য যারা বুঝেছে। এই দলে আছে গোবিন্দমাণিক্য, অপর্ণা ও জয়সিংহ। অন্যদিকে আছে প্রথা, প্রতাপ, প্রাণের মূল্য যারা বোঝেনি। এই দলে আছে রঘুপতি, গুণবতী।
বিসর্জন নাটকের জয়সিংহের মনে আঘাত আসে কীভাবে ?
প্রথম আঘাত আসে অপর্ণার আহবানে। ২য় আঘাত রাজরক্তের জন্য রঘুপতির ভ্রাতৃহত্যা ষড়যন্ত্রে। রাজা গোবিন্দমাণিক্য জয়সিংহকে রঘুপতির ছলনা ধরিয়ে দিলে জয়সিংহের পায়ের তলার মাটি সরে যায়, প্রাণ বিসর্জন ছাড়া তার আর উপায় থাকে না।
বিসর্জন নাটকের ঐতিহাসিকতা:
মহারাজা গোবিন্দমাণিক্য, মহারাণী গুণবতী ও যুবরাজ নক্ষত্ররায় ঐতিহাসিক ব্যক্তি। মুর্শিদাবাদের নবাবের সাহায্যে নক্ষত্ররায়ের ছত্রমাণিক্য নামে ত্রিপুরার সিংহাসন অধিকার এবং গোবিন্দমাণিক্যের স্বেচ্ছায় রাজ্যত্যাগ ঐতিহাসিক ঘটনা।
জয়সিংহ চরিত্র: দ্বন্দ্বমুখর ও আকর্ষণীয়
জয়সিংহ: ছোটবেলা থেকে মা-বাবা-হারা জয়সিংহ বড় হয়েছে দেবী-মন্দিরে রঘুপতির আশ্রয়ে। তার শিশু হৃদয়ের বিকাশ ঘটেছে ব্রহ্মচারী তপস্বী পুজারী রঘুপতিকে অবলম্বন করে । বড় হলে দেবী ভক্তি তার মন অধিকার করেছে । আরো বড় হলে গোবিন্দমাণিক্যের চরিত্রমাধুর্য জয়সিংহের মনের শ্রদ্ধা ও প্রীতি আকর্ষণ করেছে ।
দেবীপ্রতিমার কল্পনায় ও ধ্যানে জয়সিংহের কিশোর মন বেড়ে উঠেছে । মুক তরুলতার মতোই জয়সিংহের সারল্য ও নিষ্ঠা । নবযৌবনের অবোধ বেদনা মাঝে মাঝে তার ভক্ত মনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে । এমন সময় অপর্ণার মর্মবেদনার ঢেউ এসে জয়সিংহের হৃদয়ে চেতনাকে আঘাত করে ।
”তোমার হৃদয় ব্যথা আমার হৃদয়ে
এসে পেয়েছে চিরজীবন ।”
এই ব্যথার-রাখী দুটি হৃদয়ের অদৃশ্য বন্ধন বেঁেধ দিয়েছে । অপর্ণার সত্যের আলো দিয়ে জয়সিংহ বুঝল Ñ
”শুধু ধরা দেও তুমি জীবনের মাঝে
মন্দিরের মাঝে নয়।”
জয়সিংহ ছোটবেলা থেকে মনে করে —-দেবী আর গুরুদেব, আর রাজা গোবিন্দমানিক্য, এ দাসের তিনটি দেবতা ।”
গোবিন্দমাণিক্য বলি নিষেধ করলে জয়সিংহ মনে প্রথম আঘাত পেল । ভাবল-
তিনটি দেবতা ছিল, এক গেল। শুধু
দুটি আছে বাকি।
কিন্তু মন তো যুক্তির বশ নয়। গোবিন্দমাণিক্য জয়সিংহের মনে যে শ্রদ্ধাপ্রীতির আলো জ্বালিয়েছিল, তা সে দেবীর মুখে প্রতিফলিত দেখেছিল। এখন সে দ্বীপ নিভে গেলে পর ভক্তির জোর কমে গেল। জয়সিংহের ভক্তি বিশ্বাসে টোল পড়লো। রঘুপতির ভ্রাতৃহত্যাষড়যন্ত্রে জয়সিংহ দ্বিতীয় আঘাত পেল। এতে তার দেবীভক্তিতে ও গুরুভক্তিতে সংশয় জাগলো। জয়সিংহের মনে সংস্কার ও সদবুদ্ধির দ্বন্দ্ব শুরু হলো।
বিসর্জন নাটকের চরিত্র – জয়সিংহ ও রঘুপতি:
জয়সিংহের জীবনের ভিত্তি হলো রঘুপতির প্রতি আস্থা রাখা। তাই গুরুকে ভ্রাতৃহত্যার পাপে জড়িত হতে না দিয়ে সে নিজেই সে কাজ করতে চায়লো। তবুও তার মনের দ্বন্দু ঘুচল না। অপর্ণার গানের মধ্যে সে জীবনের সহজ আনন্দের সাড়া পেল, অন্যদিকে রাজা যখন রঘুপতির ছলনা ধরিয়ে দিল, তখন জয়সিংহের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তার সামনে প্রাণ বিসর্জন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
বিসর্জন নাটকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র জয়সিংহ। রবীন্দ্র-নাট্য সাহিত্যে এমন চরিত্র আর নেই। অন্তর্দ্বন্দ্বই নাটকীয় চরিত্রের প্রাণ। এই অন্তর্দ্বন্দ্বই জয়সিংহ চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছে। অন্তর্দ্বন্দ্বে নিপীড়িত জয়সিংহের চিত্তের যে রূপ চিত্রিত হয়েছে, তার করুণ সৌন্দর্য পাঠককে মুগ্ধ করে । এখানেই বিসর্জন নাটকের অভিনবত্ব।
বিসর্জন নাটকের জয়সিংহের চরিত্রের বিশিষ্ট দিক:
বিসর্জন নাটকের জয়সিংহ চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো কোমল, মালিন্যবর্জিত ও শুভ্র, তার মধ্যে মানবিকতার অংশ বেশি। সে হৃদয়বান, কবি, দার্শনিক , প্রেমিক। সে জন্য সে সহজে বিশ্বাস করে এবং অকপট ও দুর্বল। আশৈশব শিক্ষা ও মন্দিরে পালিত হওয়ার কারণে সে আনুষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস করে, কালীকে ভক্তি করে, তার পুজোর মধ্যে সার্থকতা দেখে, রঘুপতির উপর তার দৃঢ় ভক্তি। সে তার পালক পিতা, গুরু। সে তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে রঘুপতির বিরাট ব্যক্তিত্বের ছায়ায় মন্দিরের প্রাঙ্গণে দিন কাটিয়েছে।
এমন সময় অপর্ণার আহ্বান তার জীবনে নতুনের গান তৈরি করে। ছাগশিশুর জন্য অপর্ণার কান্না জয়সিংহের সংস্কারাচ্ছন্ন মনকে মুক্ত করে তার নিজস্ব স্বরূপ অনেকখানি ব্যক্ত করে। এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় সে। স্নেহ-প্রেম-দয়ার মধ্যে যে অনির্বচনীয় মাধুর্য, জয়সিংহ তা আজ আস্বাদন করল। অপর্ণার ডাকে তার অন্তরাত্মা জেগে ওঠে এবং প্রেমের মধ্যে , আনন্দের মধ্যে সার্থকতা খুঁজতে লাগলো। জয়সিংহ বলে ওঠে –
তোমার মন্দিরে এ কী নূতন সঙ্গীত
ধ্বনিয়া উঠিল আজি হে গিরিনন্দিনী,
করুণাকাতর কণ্ঠস্বরে। ভক্তহৃদি
অপরূপ বেদনায় উঠিল ব্যাকুল Ñ
তার নবজাগ্রত হৃদয়ে নতুন সমস্যার জন্ম হলো। হাজারো প্রশ্ন মনে উদয় হলো। বিশ্বমাতা সত্যই কি প্রাণবলি চান, তাহলে প্রাণের জন্য মানুষের এত প্রেম-স্নেহ, দয়া, এত দরদ কেন? এই পুজো সত্য না স্নেহ-প্রেম সত্য ? মন্দিরের দেবী সত্য, না হৃদয়ের এই স্বভাব অনুভূতি সত্য ?
কঠিন পাষাণ-প্রতিমার পুজোয় তার হৃদয় ভরে না, তার হৃদয় জগতের সৌন্দর্যের মধ্যে, মানবের স্নেহ-প্রেমের মধ্যে ছুটে যেতে চায়। অথচ শাস্ত্র বলে, গুরুবলেন, এই নিরন্তর আনুষ্ঠানিক পুজোর মধ্যেই সার্থকতা , কিন্তু সে সার্থকতায় তো চিত্ত ভরে না, শান্তি পাওয়া যায় না, মুক্তি পাওয়া যায় না। চলমান জীবন তার কাছে শূন্য অনাবশ্যক মনে হয় –
কেবলি একলা। দক্ষিণ বাতাস যদি
বন্ধ হয়ে যায়, ফুলের সৌরভ যদি
নাহি আসে, দশ দিক জেগে উঠে যদি
দশটি সন্দেহসম, তখন কোথায়
সুখ, কোথা পথ। জান কি একেলা কারে
বলে। ——
সৃজনের আগে
দেবতা যেমন একা। তাই বটে।
তাই বটে। মনে হয়, এ জীবন বড়ো
বেশী আছে Ñ যত বড়ো তত শূন্য , তত
আবশ্যকহীন।
এই ব্যর্থ, নিরানন্দ জীবনের উপর তার প্রবল বিতৃষ্ণা এসে যায়। রঘুপতি রাজহত্যার আয়োজন করছে, দোদুল্যমানচিত্ত জয়সিংহের কানে হত্যার সপক্ষে রঘুপতি দীর্ঘ বক্তৃতা দেয়, কিন্তু জয়সিংহ এ প্রস্তাব অন্তর দিয়ে গ্রহণ করতে পারে না। তাই জয়সিংহ দেবীর উদ্দেশ্যে বলে –
মায়াবিনী, পিশাচিনী
মাতৃহীন এ সংসারে এসেছিস তুই
যার ছদ্মবেশ ধরে রক্তপান লোভে ?
প্রেম মিথ্যা,
স্নেহ মিথ্যা , দয়া মিথ্যা, মিথ্যা আর সব,
সত্য শুধু অনাদি-অনন্ত হিংসা ?
রঘুপতিকে বলে –
ছি ছি ভক্তিপিপাসিতা মাতা, তাঁরে বল
রক্তপিপাসিনী
তারপর রঘুপতি যখন গর্জন করে ওঠে –
বন্ধ হোক বলিদান তবে।
তখনই জয়সিংহের ভাবনার মোড় ঘুরে যায় Ñ
না, না, গুরুদেব,তুমি
জান ভালোমন্দ। সরল ভীক্ত বিধি
শাস্ত্রবিধি নহে। আপন আলোকে আঁখি
দেখিতে না পায়, আলোক আকাশ হতে
আসে। প্রভূ, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো দাসে।
ক্ষমা করো স্পর্ধা মূঢ়তার। ক্ষমা করো
নিতান্ত বেদনাবশে উদভ্রান্ত প্রলাপ।
বলো প্রভূ, সত্যই কি রাজরক্ত চান
মহাদেবী।
রঘুপতি বলে ওঠে –
হায় বৎস, হায়, অবশেষে
অবিশ্বাস মোর প্রতি ?
জয়সিংহ বলে ওঠে –
অবিশ্বাস ? কভু
নহে। তোমারে ছাড়িলে বিশ্বাস আমার
দাঁড়াবে কোথায়। বাসুকির শিরশ্চূত
বসুধার মত শূন্য হতে শূন্যে পাবে
লোপ। রাজরক্ত চায় তবে মহামায়া –
সে রক্ত আনিব আমি। দিব না ঘটিতে
ভ্রাতৃহত্যা।
এই হলো বিসর্জন নাটকের জয়সিংহের অস্থির চিত্তের কম্পমান ছবি।
হৃদয়ের ধর্ম ও স্নেহ-প্রেম তাকে টানছে একদিকে, শাস্ত্রবিধি ও গুরুর প্রতি অটল বিশ্বাস টানছে অন্যদিকে, ঘড়ির দোলকের মতো এভাবে তার মন একবার এদিকে , আরবার ওদিকে যাতায়াত করছে। বন্ধন ও আকর্ষণ উভয়েই সমান শক্তিশালী। প্রতিমা ও রঘুপতির বন্ধন যেমন কঠিন, অপর্ণার আকর্ষণও তেমনিই প্রবল। সংশয়ে জর্জরিত জয়সিংহের কাছে জগৎ ও জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য-মাধুর্য মায়ামাত্র হয়ে ওঠে, জীবন হয়ে ওঠে ক্ষণিক ও অর্থহীন।
সব মিথ্যা বৃহৎ বঞ্চনা-
তাই হাসিতেছি, তাই গাহিতেছি গান।
মিথ্যা বলে তাই এত হাসি; শ্মশানের
কোলে বসে খেলা, বেদনার পাশে শুয়ে
গান, হিংসাব্যাঘ্রিনীর খর নখতলে
চলিতেছে প্রতি দিবসের কর্মকাজ।
সত্য হলে এমন কি হত। তা অপর্ণা
তুমি আমি কিছু সত্য নই, তাই জেনে
সুখী হও – – – – – – – – –
যেমন করেই যাই, দিবা -অবসানে
পৌঁছিব জীবনের অন্তিম পলকে;
আচার -বিচার-তর্ক-বিতর্কের জাল
কোথা মিশে যাবে। ক্ষুদ্র এই পরিশ্রান্ত
নবজন্ম সমর্পিব ধরণীর কোলে।
দিশেহারা, উদার হৃদয়ের এ মর্মান্তিক বৈরাগ্য।
গুরুর নিকট অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে রাজহত্যার জন্য প্রস্তুত হলে, যখন জয়সিংহ জানতে পারে যে, রঘুপতিই দেবীর পেছন থেকে রাজরক্ত চাই বলে চীৎকার করেছে, তখনই ছুরি ফেলে দেয়। মাতা বিমুখ হয়েছেন রব উঠলে, যখন জানলো যে, রঘুপতিই প্রতিমার মুখ ফিরিয়ে রেখেছে, দেবী সত্যই মুখ ফেরান নি, তখন জয়সিংহের সংশয়ের ভার একটু কমেছে Ñ
মিথ্যা মিথ্যা, মিথ্যা; দেবী নাই প্রতিমার
মাঝে, তবে কোথা আছে ? কোথাও সে নাই।
দেবী নাই। ধন্য, ধন্য ধন্য মিথ্যা তুমি।তবে কি তার আজন্মের পুজো, শাস্ত্রবিধি পালন মায়ের প্রতি তার অবিচলিত ভক্তি অর্থহীন, নিষ্ফল ? এই মিথ্যা কি সত্য হয় না ?
তাই তার চরম কাতরোক্তি –
দেবী , আছ, আছ তুমি। দেবী থাকো। তুমি।
এ অসীম রজনীর সর্বপ্রান্ত শেষে
যদি থাক কণামাত্র হয়ে, সেথা হতে
ক্ষীণতম স্বরে সাড়া দাও, বলো মোরে
বৎস আছি। Ñ নাই , নাই। দেবী নাই।
নাই ? দয়া করে থাকো। অরি মায়াময়ী
মিথ্যা, দয়া কর, দয়া কর জয়সিংহে,
সত্য হয়ে ওঠ। আশৈশব ভক্তি মোর
আজন্মের প্রেম তোরে প্রাণ দিতে নারে
এত মিথ্যা তুই ?Ñ এ জীবন কারে দিলি,
জয়সিংহ। সব ফেলে দিলি সত্যশূন্য
দয়া শূন্য মাতৃশূন্য সর্বশূন্য -মাঝে।
জয়সিংহ দেবীর প্রতি ভক্তি অপেক্ষা মানবের প্রেমকেই কাছে পেতে চায় – দেবতায়
কোন আবশ্যক । কেন তারে ডেকে আনি
আমাদের ছোটোখাটো সুখের সংসারে।
তরা কি মোদের ব্যথা বুঝে। পাষাণের
মতো শুধু চেয়ে থাকে, আপন ভায়েরে
প্রেম হতে বঞ্চিত করিয়া, সেই প্রেম
দিই তারে, সে কি তার কোনো কাজে লাগে।
এ সুন্দরী সুখময়ী ধরণী হইতে
মুখ ফিরাইয়া , তার দিকে চেয়ে থাকিÑ
সে কোথায় চায়।
বিসর্জন নাটকের অপর্ণার আহ্বান ও জয়সিংহের দ্বন্দ্ব:
অপর্ণা তাকে মন্দির ছেড়ে যেতে বলে। এখন আর মন্দিরে থাকা তার পক্ষে স্বাভাবিকও নয়। সেও তা বুঝেছে। কিন্তু গুরুর কাছে করা তার প্রতিজ্ঞা পালিত নয় নি। তা ছাড়া পিতৃতুল্য গুরুর স্নেহ-বন্ধন আছে, কর্তব্যের বন্ধন আছে , আনুষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস ঘুচে গেছে বটে; কিন্তু রঘুপতির ব্যক্তিগত বন্ধন আছে। তা তো জয়সিংহের পক্ষে অচ্ছেদ্য। জীবন শেষ না করলে সে বন্ধন ছিন্ন করা যাবে না। তাই তার সংকল্প –
যাব যাব, তাই যাব, ছেড়ে চলে যাব।
হায় রে অপর্ণা, তাই যেতে হবে।
তবু যে রাজত্বে আজন্ম করেছি বাস
পরিশোধ করে দিয়ে তার রাজকর
তবে যেতে পাব।
এর পরেই জয়সিংহের আত্মবিজর্সন। নাট্যকার সুনিপুণভাবে জয়সিংহের চিত্তের দ্বন্দ্বটি ধীরে ধীরে উদঘাটিত করে অবশ্যম্ভাবী পরিণামের দিকে নিয়ে গিয়েছেন।
বিসর্জন নাটকের জয়সিংহের ট্র্যাজিক দিক:
পাশ্চাত্য সমালোচকদের মতে, চরিত্রের যে অন্তরতম দুর্বলতার কারণে জীবনে ট্র্যাজেডির জন্ম হয়, জয়সিংহের চরিত্রে সেই অন্তর্নিহিত দুর্বলতাই তার জীবনের শোচনীয় পরিণামের জন্য দায়ী। সেই দুর্বলতা এসেছে তার মনুষ্যত্ব থেকে, তার পবিত্র নিষ্কলঙ্ক হৃদয় হতে। জয়সিংহ যে ধাতুতে গড়া , সে-ধাতু উদার প্রেমিকের ধাতু, কবি ও দার্শনিকের ধাতু; তার মধ্যে কৃত্রিমতা নেই স্বার্থবুদ্ধি নেই।
আজন্ম শিক্ষা ও সংস্কারের বশে জয়সিংহের দৃঢ় বিশ্বাস হলো – মা মন্দিরে আছেন এবং রক্তবলি কামনা করেন। এ বিশ্বাস তার অন্তরতম উদার ও প্রেমিক সত্তাকে আচ্ছন্ন করেছিল, অপর্ণার চোখের জলে সে সেই প্রকৃত জীবনের সন্ধান পেল। প্রেমের স্পর্শে যখন সে জীবনের আনন্দময় স্বরূপের সন্ধান পেল, তখন আগের সংস্কার মিথ্যা বলে মনে হল, কিন্তু লৌকিক বুদ্ধি দ্বারা সে চালিত নয়, তাই সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুবিধামত আপোষ করতে পারল না , পারিপাশ্বিকের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে সংকোচ বোধ করল এবং শেষে মুত্যুতেই মুক্তিকামনা করল। নির্মল নিষ্পাপ অকপট আদর্শবাদী লোকদের জীবনে এ ভাবেই দুঃখ নেমে আসে।
পরিশেষে বলতে পারি জয়সিংহ প্রধান চরিত্র, কেননা তার আত্মবিসর্জনে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মন্দিরের সেবক। রঘুপতির পালিত, সে রাজপুত, পূর্বপিতামহ রাজা ছিল, মাতামহবংশ এখনও রাজত্ব কর। বিসর্জন নাটকের কোথাও এর পরিচয় না থাকলেও নাটকের প্রয়োজনে এ পরিচয় টেনে আনা হয়েছে।
জয়সিংহের চরিত্রে দৃঢ়তার অভাব, মনে কেবলই সংশয়, গুরুর প্রতি সন্দেহও গোপন করে না। গুরুর ভ-ামি দেখেও শপথ করে। শপথ পালন কালে সংশয়ে পড়ে। শপথ থেকে বাঁচার জন্য কৌশল করে। রঘুপতি কোন রাজরক্ত চায় তা জেনেও রঘুপতির সামনে আত্মহত্যা করে গুরুর উদ্দেশ্যই শুধু ব্যর্থ করে তা নয়, তাকে কঠিন আঘাতও দেয়।
বিসর্জন নাটকের চরিত্রটির অন্তর্দ্বন্দ্বের ক্রমবিকাশ সুকৌশলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নাট্যকার নিজেই বলেছেন-
জয়সিংহ রঘুপতিকে পিতার মত ভক্তি করত, সে বাল্যকাল থেকে মন্দিরের সকল অনুষ্ঠান ও পশুবলি দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই, যেখানে ভালোবাসা সেখানে রক্তপাত চলে না -এই উপলব্ধি তার মনে সম্পূর্ণরূপে স্থান পেতে দেরী হয়েছিল। অপর্নার ক্রন্দনেই প্রথমে তার পূর্ববিশ্বাস সম্বন্ধে সংশয় হতে শুরু হলো।
অপর্ণার চরিত্র: বাস্তব-অবাস্তবের মিশ্রণে রহস্যময়ী
অপর্ণার চরিত্র রহস্যময়ী চরিত্র, সাংকেতিক নাটকেই এ রকম চরিত্র বেশি শোভন। যে শক্তি নাটকে জয়ী হয়েছে, সেই স্নেহ-প্রেমের ভাবমূর্তি অপর্ণা। এ প্রেমের শক্তি এ নাটকে প্রলয়ংকরী শক্তিবাণ হিসেবে পরিচিত। এ শক্তি ঘটনাপ্রবাহের সাথে জড়িত নয়। ঘটনার বাইরে দাঁড়িয়ে অদৃশ্য স্থান থেকে যেন নাটকের মধ্যে তার অমোঘ প্রভাব নিক্ষেপ করেছে। নাটকের মধ্যে অপর্ণার স্থান নগন্য, কিন্তু তার প্রভাব নাটকের সর্বত্র। সে জয়সিংহকেও বিগলিত করেছে। রাজাকে স্বপ্ন থেকে জাগরিত করেছে।
এতদিন স্বপ্নে ছিনু
আজ জাগরণ। বালিকার মূর্তি ধরে
স্বয়ং জননী মোরে বলে গিয়েছেন
জীবরক্ত সহে না তাহার ।
রঘুপতিকেও সে পরোক্ষভাবে দূর থেকে আকর্ষণ করে শেষে তার উপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছে। নাটকে পরোক্ষভাবে তারই জয় ঘোষিত হয়েছে।
অপর্ণা চরিত্রে মানবিক অংশ অপরিস্ফুট ও ক্ষীণ। একে নাট্যিক চরিত্র বলা চলে না। এটি ভাব বা আইডিয়া। সত্য যেন প্রেমের রূপ ধরে তার মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। অপর্ণা প্রেমরসাশ্রিত সত্যের রহস্যমূর্তি। সে একটা ছায়ামূর্তি, সে যেন প্রকৃতির প্রতিশোধ এর রঘুদুহিতারই আর একটা রূপ। এ সব কারণে চরিত্রটির কোনো ক্রমবিকাশ কিংবা সুস্পষ্ট পরিণতি নেই ।
অপর্ণা চরিত্রে দেখা যায় জয়সিংহের প্রতি একটা মিথস্ক্রিয়া আছে। কিন্তু জয়সিংহের প্রতি তার প্রেমের পূর্ব-পর উদ্ভব ও পরিণতি নেই; আবেগের স্পন্দন নেই, চিত্তদ্বন্দ্ব নেই। তার সমস্ত কাজ অন্তরের মধ্যে একটা ভাবের উদ্বোধনের মধ্যে কেন্দ্রীভূত। একটা অশরীরিণী বাণীর মতো সংস্কারাচ্ছন্ন চিত্তের দ্বারে সে কেবলই ধ্বনিত করেছে –
এই অন্ধ সংস্কার ও হিংসা ছাড়িয়া প্রেম ও মানবতার মধ্যে চলিয়া আইস।
জয়সিংহকে বার বার মন্দির ছেড়ে চলে আসতে বলেছে Ñ
এসো তুমি
এ মন্দির ছেড়ে এসো Ñ ১ম অঙ্ক ১ম দৃশ্য
শেষ অঙ্কের শেষ দৃশ্যেও রঘুপতিকে বলেছে Ñ
পিতা, এসো এ মন্দির ছেড়ে যাই মোরা,
পিতা চলে এস। ৫ম অঙ্ক ৪র্থ দৃশ্য
প্রেম ও মানবতার মধ্যেই যে জীবনের সার্থকতা , এ কথার ইঙ্গিত দিতেই এ চরিত্রের সৃষ্টি। অপর্ণার আকর্ষণ সত্যের আকর্ষণ। তাই অত্যন্ত প্রবল, সত্য বলেই তা ধ্রুব। অসত্যের অচলায়তনের মধ্যে প্রেমের পথে বালিকার রূপ ধরে সত্যের রসমূর্তি হয়ে প্রবেশ করেছে। বিসর্জন নাটকের ভাবদ্বন্দ্বে অপর্ণার প্রভাব অনেক বেশি।
চরিত্রটি কাব্যধর্মী এবং নাটকের মধ্যে ব্যাপকভাবে স্থান পাওয়ায় নাটকের গতি প্রতিহত হয়েছে বলে আশুতোষ ভট্টাচার্য মনে করেন। তিনি তার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস দ্বিতীয় খণ্ডে বলেছেন যে, অপর্ণার বাণীর মধ্যে বৈচিত্র্য নেই, কাজে গতি নেই, এমন কি তার কোনো সুস্পষ্ট রূপও নেই, সেজন্য তার স্থান সংক্ষিপ্ত হলে ভালো হতো, এই একটি চরিত্রই নাটকটিকে গীতিধর্মী করে তুলেছে।
তবে আব্দুল ওদুদ এ প্রসঙ্গে অন্য কথা বলেছেন। তার কথার মর্মকথা হলো –
বিসর্র্জন নাটকের অপর্ণা চরিত্রের ক্রিয়াকলাপ দেখে মনে হতে পারে অপর্ণা একটি বাস্তব মানুষের চরিত্রের মতো হয় নি। বরং একটি আইডিয়ার ,ভাবের প্রতীক। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে সেটি হয় নি । কবির অপূর্ব সৃষ্টি অপর্ণার অন্তরে প্রেম ও করুণার শক্তি এতখানি প্রাণবন্ত হয়েছে যে, তার সেই অনাড়ম্বর, কিন্তু অব্যর্থ শক্তির সামনে প্রাচীন সংস্কারের সব বাধা সহজেই ভেঙে পড়েছে । অপর্ণা মহৎ চিন্তার প্রতীক না হয়ে একটি প্রাণবন্ত সত্য হয়ে উঠেছে। আর এ জন্যই বিসর্জন কবির একটি মহৎ সাহিত্যিক সৃষ্টি হতে পেরেছে ।
বিসর্জন নাটকের শেষের দিকে গোবিন্দমাণিক্য, রঘুপতি ও জয়সিংহ চরিত্রে ভাবালুতা প্রশ্রয় পেয়েছে, তবে অপর্ণার উপলব্ধির সত্যতা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রাণসম্পদ ছড়িয়ে দিয়ে ভাবাতিশয্য থেকে একে রক্ষা করেছে।
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন
বাংলা বিভাগ
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
বিসর্জন নাটকের উপর সহায়ক গ্রন্থ:
- হুমায়ুন কবীর – রবীন্দ্রনাথের নাট্যসাহিত্য
- সুকুমার সেন – রবীন্দ্র-সাহিত্যের পরিচয়
- শান্তিময় ঘোষ – রবীন্দ্রনাট্য সমালোচনা
- অজিতকুমার চক্রবর্তী – রবীন্দ্রনাটকের রূপ ও রস
- প্রমথনাথ বিশী – রবীন্দ্রনাট্য প্রসঙ্গ
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (সম্পা.) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক (সংকলন ও ভূমিকা)
- বুদ্ধদেব বসু – রবীন্দ্রনাট্য প্রসঙ্গে
- বিশ্বভারতী প্রকাশন – রবীন্দ্র রচনাবলী (বিশেষত নাট্যখণ্ডে বিসর্জন)
- আশুতোষ ভট্টাচার্য – রবীন্দ্রনাটকের নন্দনতত্ত্ব
- বিশ্বজিৎ ঘোষ – রবীন্দ্রনাট্য : রূপ ও দর্শনে
- আশুতোষ ভট্টাচার্য – বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ২য় খণ্ড