ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ : বিভিন্ন শাখার পরিচয় এবং বাংলা ভাষার অবস্থান।

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
খোলা পাতা – বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য।

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ

ভূমিকা: ভাষাতত্ত্বে ভাষাবংশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যেমন- জীববিজ্ঞানে প্রাণীর বংশবিস্তার ও ক্রমবিকাশ বোঝার জন্য বংশতালিকা প্রয়োজন, তেমনই বিশ্বের সব ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য ভাষাবংশ ধারণা অপরিহার্য। বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রভাবশালী ভাষাবংশ হলো ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ, যার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৪০০-র বেশি ভাষা এবং বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ এই বংশের ভাষায় কথা বলে।

আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান – হুমায়ুন আজা

এই বিশাল ভাষাবংশ আবার বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত, যেমন ভারতীয়-ইরানি, জার্মানিক, স্লাভিক, রোমানীয়, কেল্টিক, বাল্টিক প্রভৃতি। ভাষার আন্তঃসম্পর্ক, শব্দের ব্যুৎপত্তি, ধ্বনির বিবর্তন ও ব্যাকরণগত মিল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গবেষকেরা এই বৃহৎ ভাষাবংশ নির্ণয় করেছেন। ভাষার ইতিহাস জানার সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক পথ হলো ভাষার ভাষাবংশ বিশ্লেষণ। বাংলা ভাষাও এই বিশাল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ পরিবারের একটি অংশ, তাই বাংলা ভাষার শিকড় বুঝতে হলে ভাষার ভাষাবংশ সম্পর্ক জানা অপরিহার্য।

পৃথিবীতে রয়েছে হাজার হাজার ভাষা। এর কোনটি প্রচলিত, আবার কোনটি অপ্রচলিত। এর মধ্যে কোনটির লিখিত নিদর্শন আছে, আবার কোনোটির লিখিত নিদর্শন নেই। ভাষা বিজ্ঞানীরা প্রচলিত অপ্রচলিত ভাষার অতীত ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে দেখেছে, অনেক ভাষার পূর্বরূপের মধ্যে মিল রয়েছে। এই মিলের উপর নির্ভর করে ভাষা বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ভাষাসমূহকে প্রধান ১২টি ভাষা বংশে (মোট ভাষাবংশ ২৬টি) ভাগ করেছেন। এসব ভাষা বংশের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশ। পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের ভাষা এ ভাষা বংশের অšতর্গত। এ বংশের ভাষায় রচিত প্রাচীন সাহিত্য অতি সমৃদ্ধ। এ ভাষা বংশ থেকেই জন্ম নিয়েছে আধুনিক ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, ইতালীয়, বাংলা, হিন্দি ইত্যাদি।

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শাখা:

১। ইন্দো-ইরানীয়: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর একটি দল প্রথমে ইরানে, পরে ভারতে বসতি স্থাপণ করে। ফলে মূল শাখা থেকে ইরানীয় ও ভারতীয় আর্যভাষা নামে দুটো উপভাষা সৃষ্টি হয়।
ইরানীয় শাখার অšতর্গত ভাষা হলো প্রাচীন পারসিক ও আবে¯তীয় ভাষা। প্রাচীন পারসিক পরিবর্তিত হয় পহলবি ও শাক ভাষার সাথে মিশে। পহলবি থেকে জন্ম নেয় ফার্সি, আফগানিস্তানের ‘পশতু’, বেলুচিস্তানের ‘বেলুচ’ ভাষা, ইরাকে ব্যবহৃত কুর্দিশ, উত্তর ককেশাশে ব্যবহৃত ওসেটিক সহ আরও অনেক অঞ্চলে ইরানীয় ভাষা ব্যবহৃত। অন্যদিকে আবেস্তীয় ভাষা প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের ভাষা হয়েই থেকেছে। এর কোনো আধুনিক রূপ পাওয়া যায় না।

ভারতীয় উপমহাদেশে আগত আর্যদের ভাষাই হলো ভারতীয় আর্য ভাষা। এর প্রাচীন রূপ হলো ঋকবেদ। ঋকবেদের শ্লোকের ব্যাখ্যা ও এর ভাষা রক্ষা করতেই সংস্কৃতের জন্ম হয়। ভারতীয় আর্য ভাষার তিনটি স্তর-


(ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা– বৈদিক সংস্কৃত (১২০০-৮০০ খ্রিঃপূ) ধ্রুপদী সংস্কৃত (৪০০ খ্রিঃপূর্ব)
(খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ঃ খ্রিঃ পূর্ব ৬০০ থেকে ১২০০ খ্রিঃ-এর মধ্যে এর জন্ম। পালিভাষা, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ এ স্তরের।
(গ) নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা ঃ আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগের কোনো এক সময় এ ভাষার জন্ম। প্রাকৃতের শেষের দিকে অপভ্রংশ পাওয়া যায়। এ অপভ্রংশ থেকেই বাংলা, আসামী, উড়িয়া, গুজরাট, হিন্দি প্রভৃতি আধুনিক ভারতীয় ভাষাগুলোর জন্ম হয়।

২। আর্মেনীয় ঃ আর্মেনীয় ভাষা দক্ষিণ ককেশাস ও পশ্চিম তুরস্কে প্রচলিত। পঞ্চম শতকে এর প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়। এ ভাষা প্রায় উনিশ শতক পর্যšত প্রচলিত ছিল, আধুনিক আর্মেনীয় ভাষার ২টা স্তর-

আর্মেনীয় ভাষা অন্য ভাষা দ্বারা বিপুলভাবে প্রভাবান্বিত হয়। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ইরানীয় ভাষা।

৩। গ্রীক ঃ আজ থেকে অনেক বছর আগে এশিয়া মাইনরের উপকূলে, গ্রিসে, সাইপ্রাসে, ইজিয়ান উপসাগরের দ্বীপপুঞ্জে মানুষ যে ভাষায় কথা বলতো তার নাম গ্রিক ভাষা। প্রাচীন গ্রিক ভাষার অনেকগুলো উপভাষা ছিল। তার মধ্যে অ্যাট্রিক-আয়োনিক, ডোরিক অন্যতম। উপভাষাগুলোর সম্মিলিত রূপ হলো কোইনে, আর এই কোইনে থেকে পরবর্তীকালে আধুনিক গ্রিক ভাষার জন্ম। ঐতিহাসিক বিচারে এথেন্সের গুরুত্ব ও জ্ঞানীদের প্রভাবে গ্রিক ভাষা সারা গ্রিসে প্রভাব বি¯তার করে। আলেকজান্ডারও তার রাজ্যে এই ভাষার বি¯তার ঘটান। গ্রিসের রাজনৈতিক ক্ষমতা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্বও কমে যায়। বর্তমানে গ্রিস, সাইপ্রাসে ও তুরস্কের কিছু অঞ্চলে এই ভাষা প্রচলিত।

৪। আলবানীয় ঃ গ্রিক, ল্যাটিন, তুর্কি, ইটালিয়ান প্রভৃতি ভাষার মিশ্ররূপ এই ভাষা। কেননা উক্ত ভাষাগুলো দ্বারা আলবানীয় ভাষা যথেষ্ট প্রভাবিত হয়। আলবানীয় ভাষাভাষীদের বাসস্থান নিয়েও ভাষাভাষীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আলবানীয় ইলিরিয়াদের অধীনে ছিল, পরে শ্লাভদের দ্বারা শাসিত হয়। ধরে নেয়া হয় এরা বলকান অঞ্চলে বসবাস করতো এবং এর প্রাচীন রূপ অনেক  বি¯তৃত অঞ্চল জুড়ে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে আড্রিয়াটির সাগরের ভাষার নাম, পূর্ব তীরের আলবেনিয়ার জনগণের মুখের ভাষার নামই আলবেনিয়ান ভাষা।

৫। ইটালীয় ঃ খ্রিঃ পূর্ব দুই হাজার বছর আগে ইটালীতে ইটালীয় ভাষা বাইরে থেকে আসে। খ্রিঃ পূর্ব ৬০০ পর থেকে এ ভাষা সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা হতে থাকে। এই ভাষার তিনটি উপভাষা- ল্যাটিন, উমুব্রিয়ান ও ওস্কান , ল্যাটিন ভাষা খুবই সমৃদ্ধ ভাষায় উন্নীত হয় এবং খ্রিঃ পূর্ব ৩য় শতকের দিকে ইউরোপের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ল্যাটিনের বিকৃতি থেকে ইটালিয়ান, ফ্রেঞ্চ, রুমানিয়ান, স্প্যাানিশ প্রভৃতি আধুনিক ভাষাগুলোর সৃষ্টি হয়। অন্য দুটি শাখাই লুপ্ত।                                                                                                  

৬। সেলটিক/কেলটিকঃ পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে এই ভাষা প্রচলিত ছিল, পরবর্তীকালে জার্মান ও ইটালীয় ভাষার প্রভাবে এ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই ভাষার অনেক প্রাচীন রূপ বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল। বর্তমানে মাত্র আয়ারল্যান্ডের আইরিশ ভাষা ছাড়া বাকি সব বিলুপ্ত। 

৭। জার্মানীয় ঃ চতুর্থ শতকের আগ পর্যšত জার্মানি ভাষা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। জার্মানীয় শাখার তিনটি উপশাখা-

৮। বালটো-শ্লাভীয় ঃ বাল্টিক ও শ্লাভীয় ভাষা এক হাজার বছর থেকে চিহ্নিত এবং এ দুটো উপশাখার সম্মিলিত নামই বালটো-শ্লাভীয়। বাল্টিক শাখাভূক্ত ভাষার মধ্যে প্রাচীন প্রুশীয় ভাষা লুপ্ত হয় এবং পরবর্তীকালে প্রুশিয়ানের পরিবর্তে লিথুনীয় ও জার্মান ভাষা ব্যবহৃত হতে থাকে। এর আরেকটি সৃজ্যমান ভাষা ল্যাটভিয়ান বা লেটিস ভাষা।

শ্লাভীয় ভাষাভাষীরা পোল্যান্ড ও পশ্চিম সোভিয়েট ইউনিয়নে বসবাস করতো। পরে রোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের ভাষা হিসেবে গৃহীত হবার পর সমগ্র পূর্ব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রচলিত শ্লাভীয় ভাষার তিনটি শাখা বিদ্যমান।

৯। আনা তোলীয় ঃ পন্ডিতদের অনুমান হিট্টি সাম্রাজ্য আনুমানিক ১৭০০ খ্রিঃ পূঃ থেকে ১২০০ খ্রিঃ পূঃ সমৃদ্ধি লাভ করে। খননের পর অনেক হিট্টি দলিল আবি®কৃত হয়। ধ্বনি বিচারে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার সাথে এর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। বলা হয় এই ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কন্যা-ভাষা। নাম ব্যবহার করা হয় ইন্দো-হিট্টি ভাষা, হিট্টি ভাষার সাথে সম্পর্কিত ভাষা হচ্ছে লুইয়িআন ও প্যালাইক, স্বল্প পরিচিত লিসিয়ান ও লিডিয়ানের সঙ্গে হিট্টির সম্পর্ক রয়েছে। এই ভাষাগুলো একত্রে আনা-তোলীয় ভাষারূপে পরিচিত।

১০। তুখারীয় ঃ উনিশ শতকে প্রাপ্ত তথ্যাদির আলোকে তুখারীয় ভাষার অ¯িতত্ব সম্পর্কে জানা যায়। এই ভাষার দুটো উপশাখা।

তুর্কিস্তানের বালুস্তুপের থেকে প্রাপ্ত প্রত্নিলিপি ও পুঁথিপত্র গবেষণা করে জানা যায় প্রাচীন ভারতীয় খরোষ্টি ও ব্রাক্ষীলিপির সাথে এর যথেষ্ট মিল রয়েছে, আর ভাষার দিক থেকে পাশ্চাত্যের প্রায় তেরশো বছর আগে এই ভাষা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

বাংলা ভাষার অবস্থান ঃ

ইন্দো-ইউরোপীয় বংশপীঠিকার মধ্যে বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ দেখানো হয়েছে। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের দুটো শাখা (১) শতম (২) কেšতম। কেšতম শাখার সাথে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই। শতম শাখাভূক্ত ভাষাভাষী কিছু মানুষ আনুমানিক খ্রিঃ পূর্ব ২০০০-১২০০ অব্দের দিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দিকে চলে আসে। এরা আর্য নামে পরিচিত। আর্যরা ভারতে আসলে তখন তাদের ভাষার নাম হয় ভারতীয় আর্যভাষা।

বেদসহ বিভিন্ন শাস্ত্র ও কাব্য এ ভাষার প্রাচীন নিদর্শন। ঋগবেদের শ্লোক ব্যাখ্যা ও ভাষা বিশুদ্ধ করতে বেদের ভাষা সংস্কার করা হয়। ফলে জন্ম হয় সংস্কৃত ভাষা। শিক্ষিত লোকেরা ব্যবহার করতো সংস্কৃত ভাষা। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা অনার্যদের সংস্পর্শে এসে পরিবর্তিত হয় এবং সৃষ্টি হয় প্রাকৃত ভাষা। অঞ্চলভেদে এই প্রাকৃত ভাষা বিভিন্ন নামে পরিচিত হয়। প্রাকৃতের পরিবর্তিত অবস্থার নাম অপভ্রংশ। এই অপভ্রংশ থেকেই নব্যভারতীয় অর্থাৎ আধুনিক ভাষাগুলোর জন্ম। গৌড়ীয় প্রাকৃতের পরবর্তী ¯তর গৌড়িয় অপভ্রংশ, গৌড়িয় অপভ্রংশ থেকেই প্রাচীন বাংলা ভাষার জন্ম।

তাহলে বলা যায় ভারতীয় আর্য ভাষা বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে আধুনিক ভারতীয় ভাষাগুলোর জন্ম।
ভারতীয় আর্য ভাষার তিন স্তর–

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা → কথ্যরূপ + সাহিত্যিকরূপ (বৈদিক সংস্কৃত)

মধ্যভারতীয় আর্যভাষা → পালি + প্রাকৃত+ অপভ্রংশ

নব্য ভারতীয় আর্যভাষা → বাংলা + উড়িয়া + হিন্দি ইত্যাদি (৬৫০-১২০০ খ্রি ঃ এর মধ্যে )

বাংলা ভাষার অবস্থান

বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ → ভারতীয়-ইরানি শাখা → ইন্দিক উপশাখা → পূর্বাঞ্চলীয় গোষ্ঠীর ভাষা।


সুতরাং বাংলা ভাষা সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত, আপভ্রংশ হয়ে আধুনিক রূপ পেয়েছে। বাংলা ভাষার শিকড় তাই খুবই দৃঢ়ভাবে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের সঙ্গে যুক্ত।

উপসংহার:

ভাষা একদিনে তৈরি হয় না, বরং হাজার বছরের বিবর্তনের ফল। তাই ভাষার ইতিহাস বুঝতে হলে ভাষাবংশ বিশ্লেষণ অপরিহার্য। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ সবচেয়ে বিস্তৃত ও শক্তিশালী ভাষাপরিবার, যার শাখায় ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাষা অন্তর্গত। ভাষার শব্দভাণ্ডার, ধ্বনি, রূপান্তর, ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় সব ভাষা একই প্রাচীন ভাষাবংশ থেকে এসেছে। বাংলা ভাষার অবস্থান স্পষ্টভাবে ভারতীয়-ইরানি শাখার ইন্দিক উপশাখায়, যা প্রমাণ করে বাংলা ভাষা পৃথিবীর বৃহত্তর ভাষাগত ঐতিহ্যের গর্বিত উত্তরাধিকারী। তাই ভাষাতত্ত্ব, ব্যুৎপত্তি ও ভাষা ইতিহাসের গবেষণায় ভাষাবংশ ধারণা শুধু একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং ভাষা-সভ্যতার যৌথ শিকড় অনুসন্ধানের অপরিহার্য পদ্ধতি।

পরিশেষে, বাংলা ভাষার উৎসমূল এভাবে দেখা যায়Ñ বাংলা ভাষার প্রাচীন রূপ অপভ্রংশ , এর আগের রূপ প্রাকৃত। তারও আগের ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে বাংলা প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার অšতর্ভুক্ত। এর প্রাচীনরূপ ইন্দো-ইরানীয় বা আর্য। এই ইন্দো-ইরানীয় আবার শতম শাখার এবং এই শতম শাখা আবার ইন্দো-ইউরোপীয় শাখার অšতর্ভূক্ত।

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *