মহাকাব্যের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ
- মহাকাব্যের সংজ্ঞা ও ধারা
- মহাকাব্যের উৎপত্তির সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
- প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে মহাকাব্যের বিকাশ
- মহাকাব্যের বিষয়বৈচিত্র্য ও শিল্পরীতি
- বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্যধারার আগমন ও বিবর্তন
মহাকাব্যের উদ্ভব
জীবনের গভীরতম উপলব্ধি থেকে মহৎ কাব্যের সৃষ্টি। আমরা প্রধানত মহাকাব্যে এই উপলব্ধির সন্ধান করি। এ কথাটির মধ্যে মহাকাব্যের উৎসের বীজ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। মহাকাব্য ক্লাসিকধর্মী। সাধারণত বীর রসাতœক আখ্যান কাব্যকে মহাকাব্য বা বঢ়রপ বলা হয়। এই সুপ্রাচীন সাহিত্যটি প্রাচীনকাল থেকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে বিভিন্ন কবি প্রতিভাকে আশ্রয় করে বিকাশ লাভ করেছেন। তাই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে স্বতন্ত্রভাবে এটি বিকাশিত হয়েছে। তবে বাংলা মহাকাব্য রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মহাকাব্যের দুই বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

যুগের বিবর্তনের ধারায় মহাকাব্য আকৃতি ও প্রকৃতিতে পরিবর্তিত হয়ে জাত মহাকাব্য ও সাহিত্যিক মহাকাব্যরূপে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। যুগে যুগে অজ্ঞাতনামা কবির হাতে পড়ে গড়ে ওঠা জাত মহাকাব্য (হোমারের ইলিয়াড ও অডিসি’, বাল্মিকির ’ রামায়ণ ও ব্যাসের মহাভারত’) ও যুগের প্রয়োজনে নতুনরূপে কোনো একক কবির হাতে গড়ে ওঠা ’সাহিত্যিক মহাকাব্য ’ এ দুটোরই মধ্যে প্রতিফলিত হয় জাতির সমগ্র জীবনদর্শন, তাঁর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সাহিত্যিক মহাকাব্যের মধ্যে কবির সমসাময়িক যুগচেতনা, সমাজচেতনা, জাতীয় জীবনবোধ প্রতিফলিত হয়।
মহাকাব্যের উদ্ভব
ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে থেকেই বাংলা মহাকাব্য রচনার সূত্রপাত। ইংরেজি শিক্ষার সংস্পর্শে এসে শিক্ষিত বাঙালির মনে জন্ম নেওয়া জাতীয়তাবোধ এ কাব্য রচনার মূল কারণ। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাবে বাঙালি নতুন জীবনদর্শন, আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হয়ে ওঠে। ঊনিশ শতকের এ নবচেতনায় বাঙালি পাঠক ও কবিকে নতুনতর সৃষ্ঠিশীলতায় উদ্বুদ্ধ করে আধুনিক জীবনোল্লাসের উদ্বোধন মহাকাব্যেই সম্ভবপর হয়েছে, তাই সাহিত্যের মাধ্যমে জাতীয় নবচেতনার রূপায়নের উদ্দেশ্য নিয়েই বাঙালি কবিরা মহাকাব্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
মহাকাব্যের উদ্ভব
ঊনিশ শতকের বাঙালী -রেনেসাঁসের নান্দী পাঠ করেন রঙ্গলাল ÑমধুসূদনÑনবীনচন্দ্র । রঙ্গলাল কোনো মহাকাব্য রচনা না করলেও নবচেতনার আলোকে ইতিহাসের পটভূমিকায় বীররসকে কেন্দ্র করে মানবচেতনাকে মুক্ত মাঠে বিচরণের সুযোগদানে সচেষ্ঠ হন। তিনি মহাকাব্য লিখতে না পারলেও ”পদ্মিনী ” উপাখ্যান (১৮৫৮) নামক আখ্যান কাব্যের মধ্যে মধুসূদনের আগেই মহাকাব্যের বীজ বপনের ইঙ্গিত দেন তার বিখ্যাত উক্তিÑ
”স্বাধীনত হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়,
দাসত্ব শৃঙ্খল বল, কে কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?
স্বদেশ প্রেমের এ্মন্ত্র জাতীয়তাবোধ উন্মোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
ঊনিশ শতকের রেনেসাঁর প্রতীক মাইকেল মধুসূদন দত্ত পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য আদর্শের সমন্বয়ে রামায়নের অতি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে রচনা করেন তাঁর অমরকাব্য ’মেঘনাবদ কাব্য’। ঊনিশ শতকের নব্য শিক্ষিত বাঙালী মানসের সমাপ্ত ক্ষুধার রসদ এ কাব্যের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, নব ভাব নব ছ্ন্দ ও অলংকারের সমাহারে এ কাব্য মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে।
মহাকাব্যের উদ্ভব
মধুূসূদনের ব্যক্তিজীবন, কবিমানস ও যুগমানসে যে বিদ্রোহ জমা ছিল, মেঘনাবধ কাব্যের ছন্দ ও ভাবে তাঁর প্রকাশ পেয়েছে। রাম-রাবণের সম্বন্ধে প্রথাবদ্ধ ধারণা মধুসূদন ভেঙে দিয়েছেন। রাক্ষসরাজ রাবণ হয়ে উঠেছে বাঙালি মানসের প্রতীক। রাম এ কাব্যে পরদেশ আক্রমণকারী বিদেশী শক্তির প্রতীক। রাবণ, মেঘনাদ, প্রমীলা নবচেতনার ধারক ও বাহক।
গাইব মা, বীররসে ভাসি মহাগীত–
এ ধরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত কাব্যখানি চিত্রাঙ্গদার আর্তনাদে, অশোকবনে বন্দিনী সীতার চোখের জলে , প্রমীলার চিতারোহণে পুত্রহারা রাবণের হাহাকারে করুণ রসের প্লাবণে ভেসে গেছে।
পরাধীন ভারত মাতার শৃঙ্খল মুক্তির মানসে বঙালির জাতীয়তাবোধ উদ্বোধনের প্রয়াসে কবি এ কাব্যের বেশির ভাগ চরিত্রকে স্বদেশ প্রেমের মন্ত্রে দীক্ষা দিয়েছেন , তাইতো রাবণ বলতে পেরেছে-
”জন্মভূমি রক্ষাহেতু কে ডরে মারিতে?
যে ডরে সে মূঢ় ভীরু, শতাধিক তারে।”
গ্রীক মহাকাব্যের নেমেসিস বা নিয়তিবাদ তাঁর কাব্যে ট্র্যাজেডির মূলে কাজ করেছে। রাবণ মহাপরাক্রমশালী হওয়া সত্ত্বেও দেবতাদের ষড়যন্ত্রে পরাজিত হয়েছে।
মহাকাব্যের উদ্ভব
ছন্দের ক্ষেত্রে প্রচলিত পয়ার ভেঙে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করেন। উপমা-অলংকারের ক্ষেত্রে মধুকরীর মতো নানা সাহিত্য থেকে উপকরণ সংগ্রহ করেছেন।
মহাকাব্যের উদ্ভব
মধুসূদন প্রববর্তিত মহাকাব্যের ধারায় পদচারণা যারা করেছিলেন, মধুসূদনের মত প্রতিভা না থাকায় মহাকাব্য দ্বীপ্তিময় ঔজ্জ্বল্য পায়নি। তাই ’মেঘনাদবধ কাব্য’ মহাকাব্যের ধারায় একক আভিজাত্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।
হিন্দু পৌরানিক কাহিনি নিয়ে হিন্দু জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মধুসূদনের পরে যিনি মহাকাব্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেছেন, তিনি হলেন হেমচন্দ্র বন্দ্রোপাধ্যায়। হিন্দু জাতীয়তাবোধ প্রকাশক বৃত্রসংহার কাব্যে (প্রথম খন্ড ১৮৭৫, ২য় খন্ড ১৮৭৭) মূল কাঠামো হিসেবে পৌরানিক বিষয়কে কেন্দ্র কওে তাঁর কবিমানসের বিচিত্র কল্পনা প্রকাশ পেয়েছে। বৃত্র নামক অসুর কর্তৃক স্বর্গবিজয় এবং দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক পুনরায় স্বর্গজয় ও বৃত্রের নিধন এ কাব্যের মূল বিষয়। দেবতাদের কল্যাণের জন্য দশীচি মুনির মহান আত্মত্যাগ কবিকে মুগ্ধ করে। হিন্দু জাতীয়তাবোধের রূপায়ন, হিন্দু আচার-অনুষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান, মহাকাব্যের পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার ইত্যাদি কারণে কবি-প্রতিভা কম থাকা সত্ত্বেও মহাকাব্যের ধারায় তিনি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছেন।
মহাকাব্যের উদ্ভব
মহাকাব্যের ধারায় নবীন সেনের মহাকাব্য ‘রৈবতক (১৮৮৩), কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩) ও প্রভাস (১৮৯৬) এই তিনটি কাব্য ‘এয়ীকাব্য’ নামে পরিচিত। নবীন সেন মধুসূদনের অনুসরণে মহাকাব্য রচনা করেন। এ কাব্যে কবির ধর্মবোধ ও পুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে কাহিনী নিয়ে ভারতের সমাজ ও ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কৃষ্ণচরিত্র অবলম্বণে চৌদ্দ বছরে এই ‘ঊনবিংশ শতাব্দির মহাভারত’ রচনা করেন, সুভদ্রাহরণ, অভিমন্যুবধ ও যদুবংশ ধ্বংস-তিন কাব্যের এই মূল অংশকে কেন্দ্র করে কবি নিষ্কাম কর্ম ও নিষ্কাম প্রেমের যোরে আর্য-অনার্যের রাখিবন্ধন এবং অখন্ড হিন্দু সংস্কৃতির পত্তন করতে চেয়েছেন।
মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাসের কাহিনী অবলম্বনে ‘মহাশ্মশান’ নামে মহাকাব্য রচনা করে বাংলা মহাকাব্যের ধারায় কায়কোবাদ (১৮৫৮-১৯৫২) উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছেন। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আলকোরশী। বাঙালি মুসলমানের কাছে তিনি জাতীয়তাবোধের কবি হিসেবে পরিচিত। দশ বছর ধরে তিনখন্ডে মোট ৬০ সর্গে ৮৭০ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট মহাশ্মশান ১৯০৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয়যুদ্ধে মহারাষ্ট্রীয়দের পরাজয় এবং আহমদ শাহ আবদালীর বিজয় বর্ণনা কাব্যটির মূল বিষয়বস্তু। এ যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভ করলেও উভয় জাতির জীবনে করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতি নেমে আসে। এই ভয়াবহ সংগ্রামের মাধ্যমে মানব ভাগ্যের উত্থান পতনের বিষ্ময়কর রহস্য অনুধাবন করেছিলেন কবি। তাঁর মতে-
“একপক্ষে পানিপথ যেমন হিন্দু গৌরবের সমাধিক্ষেত্র অপরপক্ষে সেইরূপ মুসলমান গৌরবেরও মহাশ্মশান।”
এর সুবিশাল কাহিনির মধ্যে মহাকাব্যের অনেক উপাদান ছিল। নতুনত্ব না থাকলেও উপমা ও ভাষা প্রয়োগে কবির সরলতা ও অকৃত্রিমতার পরিচয় মেলে। এতে সমসাময়িক জাতীয় চেতনারও প্রকাশ ঘটেছে। হিন্দু কবিদের মতো তিনি সাম্প্রদায়িক সীমার মধ্যে না থেকে হিন্দুমুসলমানের সম্প্রীতির কথা বলেছেন। হিন্দু-মুসলমানের সংগ্রামের কাব্য হওয়া সত্ত্বেও মহাশ্মশান কাব্যে অসাম্প্রদায়িক আদর্শ অক্ষুন্ন রেখেছে।
মহাকাব্যের উদ্ভব
দেশ ও জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রাণীত করার মানসে সাহিত্যক্ষেত্রে আগমন সিরাজগঞ্জের কবি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর (১৮৭৯-১৯৩১)। তিনি ইতিহাসের পাতা থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন ‘স্পেনবিজয় কাব্য’(১৯১৪)। স্পেন বিজয় কাহিনি এ মহাকাব্যের মূল বিষয়। এ কাব্যে মুসলমানদের বীর্যবত্তা, ন্যায়পরায়ণতা, অকুতোভয় ও সত্যনিষ্ঠার পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। এ কাব্যের মধ্যেও সমসাময়িক জাতীয়তাবোধের প্রতিফলন ঘটেছে।
গতানুগতিক কাব্যধারায় স্বতন্ত্র সৃষ্টির মানসে মহাকাব্যের ধারায় আগমন ঘটে ‘কাসেমবধ’ মহাকাব্যের কবি আবুল-মা-আলী মুহাম্মদ হামিদ আলী বা এ,এম এম এইচ আলীর (১৮৭৪-১৯৫৪)। তাঁর এ কাব্য সর্ম্পকে বলা যায়-
“চরিত্র সৃষ্টি, ঘটনাবিন্যাস ও কাব্য সুষমার দিক থেকে এ কাব্য ‘মহাশ্মশান’ থেকে শ্রেষ্ঠত্ব বটে, অনেক ক্ষেত্রে ‘বৃত্রসংহারের’ চেয়েও শ্রেষ্ঠ। কাসেমবধে কবির দুর্লভ সংযম, প্রদীপ্ত বৃদ্ধি এবং চমৎকার কবিত্বশক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।”
এ কাব্যে নবীনসেন ও মধুসূদনের অনুসরণ লক্ষ করা যায়।
মহাকাব্যের উদ্ভব
মহাকাব্য জাতীয় উদ্দীপনা বোধের কাব্য। যুগের দাবীর প্রেক্ষিতে ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মহাকাব্য রচিত হলেও পরবর্তীকালে তার আবেদন না থাকার জন্য মহাকাব্য রচনা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের মত প্রতিভা সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে নিয়মিত হলেও মহাকাব্য রচনায় নিয়োজিত হয়নি। মহাকাব্যে অতিপ্রাকৃতের অবতারণা থাকে, বর্তমানকালের মানুষ তাতে আস্থাশীল নয়। বর্তমান গণতন্ত্রের যুগের ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে জাতির আশা প্রতিফলিত হয়। তাই মহাকাব্যের নায়কের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের চেয়ে গীতিকবিতার কবিহৃদয়ের বিচিত্র অনুভূতি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। গীতিকবিতার মধ্যেই এ যুগের মানুষ রসতৃপ্তি লাভ করে। তাই রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী মন্তব্য করেছিলেনÑ
“সুনিপুণ শিল্পী একালে তাজমহল গড়িতে পারেন, কিন্তু পিরামিডের দিন বুঝি একেবারেই চলিয়া গিয়াছে।”
এ কারণে রবীন্দ্রনাথ ‘ক্ষণিকা’ কাব্যে কৌতুকছলে বলেছিলেন-
আমি নাবব মহাকাব্য সংরচনে ছিল মনে
ঠেকল কখন তোমার কাঁকন
কিংকিনীতে,
কল্পনাটি গেল কাটি
হাজার গীতে
মহাকাব্য সেই অভাব্য
দুর্ঘটনায়
পায়ের কাছে ছড়িয়ে আছে
কণায় কণায়
মূল তথ্য কণিকা ( কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়)
- মহাকাব্যের সংজ্ঞা:
মহৎ (বিরাট, বিস্তৃত) বিষয় অবলম্বনে রচিত কাব্যই মহাকাব্য। এর মূল উপজীব্য বীরপুরুষ বা দেবপুরুষের বীরত্বপূর্ণ কর্ম এবং জাতির সামষ্টিক গৌরব। - উৎপত্তির প্রেক্ষাপট:
- প্রাচীন সমাজে কাব্যচর্চার প্রধান উৎস ছিল জাতির গৌরবগাথা ও যুদ্ধজয়।
- গোত্র, উপজাতি বা জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে মহাকাব্য রচিত হতো।
- ধর্মীয় আচার, পুরাণকথা, দেবদেবীর মাহাত্ম্য এবং বীরযোদ্ধাদের জীবনকাহিনি মহাকাব্যের উপজীব্য হয়ে ওঠে।
- ভারতীয় সাহিত্যে উদ্ভব:
- রামায়ণ (মহার্ষি বাল্মীকি রচিত) ও মহাভারত (ব্যাসদেব রচিত) ভারতীয় মহাকাব্যের আদি নিদর্শন।
- এ দু’টি মহাকাব্যে কেবল যুদ্ধ ও বীরত্ব নয়, সমাজজীবন, ধর্মনৈতিকতা, নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
- সংস্কৃত সাহিত্যেই পরে কুমারসম্ভব (কালীদাস), কিরातार্জুনীয় (ভারবি), শিশুপালবধ (মাঘ) প্রভৃতি মহাকাব্য রচিত হয়।
- শিল্পরীতি ও বৈশিষ্ট্য:
- মহৎ বিষয় ও বিস্তৃত কাহিনি।
- দেবতা, বীরপুরুষ, যুদ্ধ, সমাজ-সংস্কৃতি ইত্যাদি উপজীব্য।
- বিস্তৃত রূপকল্প, উপমা-উৎপ্রেক্ষা, অলঙ্কার ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষাশৈলী।
- নায়ক সাধারণত দেবতুল্য, কর্ম বীরত্বনির্ভর, এবং নৈতিক-আদর্শিক শিক্ষা প্রদান।
- বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্যের প্রভাব:
- মধ্যযুগে মহাভারত-রামায়ণের বঙ্গানুবাদ মহাকাব্যধারাকে সমৃদ্ধ করে।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত পাশ্চাত্য মহাকাব্যরীতি অনুসরণে রচনা করেন মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১), যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক আধুনিক মহাকাব্য।
রেফারেন্স গ্রন্থ তালিকা
- দাস, সুকুমার (১৯৫২)। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস। কলকাতা: প্রগতিশীল প্রকাশনী।
- সেন, সুকুমার (১৯৭৮)। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : প্রাচীন ও মধ্যযুগ। কলকাতা: আনন্দ প্রকাশন।
- ভট্টাচার্য, অরুণকুমার (১৯৯৩)। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস। ঢাকা: বিদ্যাপ্রকাশ।
- দত্ত, অমরেশ (সম্পা.) (১৯৮৮)। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইন্ডিয়ান লিটারেচার। নয়াদিল্লি: সাহিত্য একাডেমি।
- Macdonell, A.A. (1919). A History of Sanskrit Literature. Calcutta University Press.
- Keith, A.B. (1920). A History of Sanskrit Literature. Oxford University Press.
খোলা পাতা –
বাংলা বিভাগ,
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।
তৃতীয় বর্ষ ✌️১৯২
কল্যাণ হোক
তৃতীয় বর্ষ। রোল: ২৭৬
অনবদ্য প্রিয় স্যার