বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য
শিক্ষার্থীদের জন্য আমার কথা:
প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
তোমাদের জন্য এই পেজ। এ পেজ সেই স্বপ্নবাজ তরুণদের, যারা সমকালীন জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতন, যারা হাজারো প্রতিযোগীর মধ্যে নিজেকে দেখতে চায়। এই পেজ স্বপ্ন পূরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সাহস দেবে, অনুপ্রেরণা যোগাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী লেখা পাওয়া যাবে:
- পেজের পরিচিতি
“এই অধ্যায়ে আমার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, ক্লাসে পাঠদানের নোট, গবেষণার জন্য দিকনির্দেশনা থাকবে। শুধু আমার শিক্ষার্থীরা নয়, দেশের সকল বাংলা বিভাগের ছাত্র-শিক্ষক উপকৃত হবেন—এই আমার আশা।”
- শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী পাওয়া যাবে (সাব-পেজের সারসংক্ষেপ)
ক্লাস নোট : বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের বাংলা বিষয়ের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সাজানো নোট।
ক্লাস প্রস্তুতি : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষকদের জন্য ক্লাস প্রস্তুতির টিপস, যে সব শিক্ষার্থী শিক্ষকতা পেশায় নতুন যোগদান করেছে, বা যারা এই পেশায় পেশাদারিত্বের পাশাপাশি এই পেশাকে নেশায় রূপ দিতে চায়, তাদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে টিপস থাকবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স বইয়ের তালিকা : বাংলা সাহিত্য, ভাষাতত্ত্ব, রসতত্ত্ব, ধ্বনিবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, ছন্দ, অলংকার, সাহিত্যতত্ত্ব, প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবি ও রচনার পরিচিতি, সাহিত্যের ইতিহাসের জন্য কোন কোন গ্রন্থ সহায়ক হিসেবে কাজে লাগবে তার নির্দেশনা থাকবে।
ব্লগ / প্রবন্ধ: শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কোর্সের সহায়ক নোট, শিক্ষাদর্শন, অভিজ্ঞতা, গবেষণা, ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা সহায়িকা : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সাজেশন ও প্রস্তুতির টিপস।
শিক্ষার্থীদের জন্য কেরিয়ার গড়তে সহায়িকা : শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবন শুরুর টিপস, চাকরির জগতের চ্যালেঞ্জ, যেকোনো কর্মের প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সাজেশন, কীভাবে ভালো করা যায় তার পরামর্শ শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে।
অন্যান্য সম্পদ : লিঙ্ক, ডাউনলোড ফাইল, ফেসবুক লিঙ্ক, পেজ লিঙ্ক, পিডিএফ ইত্যাদি।
- শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত বার্তা:
দেশের কাছে, সমাজের কাছে, মানুষের কাছে, যারা আমাকে আমি হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে, তাদের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে। সেই ঋণ পরিশোধের তাগিদে আমার এই পেজ। ভারমুক্ত হতে চাই –
“আমার শিক্ষকতা জীবনের সকল সঞ্চয়, অভিজ্ঞতা, শিখন-কার্যক্রম, এখানে উন্মুক্তভাবে থাকবে। একদিন হয়তো আমি থাকবো না, কিন্তু এই নোটগুলো থেকে ভবিষ্যতের ছাত্র-শিক্ষকরা যেন উপকৃত হন।”
4. শিক্ষক/ শিক্ষার্থীদের জন্য এবং পাঠকদের জন্য আহ্বান:
প্রায় চার দশকের অধ্যাপনা জীবনের কবে কোন মুহূর্তে কোথা থেকে আমার সমস্ত সঞ্চয় জমেছে আজ আমি নিজেও বলতে পারব না, বিভিন্ন সহায়ক গ্রন্থ, সহকর্মী, সহপাঠী, শিক্ষার্থী যেখানে যা পেয়েছি হয়তো সংগ্রহ করেছি। সেই কৃতজ্ঞতা বা ঋণ স্বীকারের উৎসও হয়তো জানি না। আমার সঞ্চয়ের মধ্যে অন্যের কথা বা জ্ঞান থাকতে পারে। স্বীকার না করা আমার কার্পণ্যতা নয়, বরং অজানা বলেই সম্ভব হয়নি। আজ অকপটে স্বীকার করি, যদি কোনো কথা, নোট বা বক্তব্য কারো সাথে মিয়ে যায়, ক্ষমা করবেন। আমিও রেখে গেলাম পথের ধারে। পাঠকগণ “আপনারা এখানে এসে শুধু পড়বেন না, বরং শেয়ার করবেন, আলোচনা করবেন, এবং জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।”
5.শিক্ষার্থীদের জন্য আমার শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার আলো —
“জ্ঞান একার সম্পদ নয়, সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিলে তবেই তার পূর্ণতা।”
শিক্ষার্থীদের জন্য আমার অনুভূতি:
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
নানান ভাবে নতুন জিনিস
শিখছি দিবারাত্র।
শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা যদি তারা শিক্ষক হতে চায়:
শিক্ষক নিজে যেমন শেখেন, তেমনি অন্যকে শেখান। তিনি অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের কাছেও শেখেন, শিক্ষার্থীই শিক্ষককে সৃষ্টি করেন। শিক্ষকের শিক্ষকতা জীবনের লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, সমাজের, রাষ্ট্রের সম্পদ। এ সম্পদের মালিক সবাই। কেননা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, রাষ্ট্র, ছাত্রছাত্রী শিক্ষককে সৃষ্টি করে, এদের প্রতিও শিক্ষকের ঋণ রয়েছে। ঋণের দায়বদ্ধতার তাড়ণায় জীবনের সমস্ত সঞ্চয় রেখে দিলাম এই বন্দরে, বন্দরের নোঙর তোলার আগে, কখন সংকেত আসে শেষ বন্দরে যাত্রার। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রচেষ্টা।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে আমার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের যে প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্লাস, প্রতিটি অভিজ্ঞতা—তা শুধু আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয় নয়; বরং একটি বৃহৎ ঐতিহ্যের অংশ। শিক্ষকতা আমার কাছে কখনোই কেবল পেশা ছিল না, বরং এক ধরণের সাধনা, এক ধরণের আত্মনিবেদন। আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানকে যদি ব্যক্তিগত সীমার ভেতরে আটকে রাখা হয়, তবে তা শুকিয়ে যায়। কিন্তু যখন তা ভাগ করে দেওয়া হয়, ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন জ্ঞান নতুন প্রাণ পায়, নতুন আলো ছড়ায়।
আমার কাছে শিক্ষকতা কখনো পেশা ছিল না, ছিল নেশা। ঐতিহ্যগতভাবে আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। বৃটিশ আমল থেকেই আমার পূর্বপুরুষ শিক্ষকতা পেশায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে এসেছেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জলপানি পাওয়া স্নাতক ডিগ্রিধারি পিতৃব্য গ্রামাঞ্চলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হতে হয়েছে পিতার আদেশে। তিনি প্রতিষ্ঠিত হেডস্যার ছিলেন, মৃত্যুর পর তার সমাধিস্থ করা হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানের তারই অফিসের সম্মুখে, তিনি ছিলেন সবার, তাই তার পরিবার নিজেদের বলে তাঁর প্রাণহীন দেহটা দাবি করেনি, বরং প্রাণহীন হিমশীতল দেহে প্রাণসঞ্চার করে তাঁকে সর্বজনীন করে দিয়েছে।
আমার পিতৃব্য শিক্ষক, বাবা শিক্ষক, আমার ৮ ভাইবোন সবাই শিক্ষক, চার ভগ্নিপতি শিক্ষক, নিজের সহধর্মিণী শিক্ষক, যাদের মেয়ে নিয়েছি, তারাও শিক্ষক। ফলে, আমি আমার শিক্ষার্থীদের মাঝে আখতার স্যার হয়ে উঠতে পেরেছি। আমারও অনেক ঋণ আছে।
শিক্ষকতা আমার কাছে সাধনা, এই ওয়েবসাইটের শিক্ষার্থীদের জন্য অংশটি সেই সাধনারই একটি সম্প্রসারণ। আমার শিক্ষকতা জীবনে যত নোট তৈরি করেছি, যত রেফারেন্স পড়িয়েছি, যত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ লিখে রেখেছি—সব কিছু ধীরে ধীরে এখানে সংরক্ষণ করব। আমি চাই, শুধু আমার কলেজ বা আমার শিক্ষার্থীরাই নয়, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—যারা অনেক সময় প্রয়োজনীয় বই বা দিকনির্দেশনার অভাবে ভোগেন—তারাও যেন এখানে এসে একটু আলো পান।
একজন শিক্ষক শুধু একজন ব্যক্তি নন, তাকে হয়ে উঠতে হয় একটি প্রতিষ্ঠান। একজন শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন, তখন তিনি শুধু পাঠ্যসূচি শেষ করার দায়িত্ব পালন করেন না; তিনি ইতিহাস বহন করেন, তিনি আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলেন। আমি বহুবার ভেবেছি—আমার তৈরি করা নোটগুলো, আমার সংগৃহীত রেফারেন্সগুলো, কিংবা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা ছোট ছোট দিকনির্দেশনাগুলো হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে, যদি আমি শুধু খাতার পাতায় বা ব্যক্তিগত ডায়েরিতে আটকে রাখি।
কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে, যখন ওয়েবসাইট ও ব্লগ আমাদের জ্ঞানের খোলা দরজা হয়ে উঠেছে, তখন কেন আমি আমার জীবনের এই সঞ্চয়কে সবার সামনে উন্মুক্ত করব না? তাই এই পেজটি শুধু একটি ওয়েবপেজ নয়— এটি এক ধরণের আর্কাইভ, এক ধরণের ডিজিটাল সংগ্রহশালা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু নোট নয়, বরং আমার শিক্ষকতা জীবনের দর্শন ও অভিজ্ঞতাও খুঁজে পাবে। তাইতো, এর নাম খোলাপাতা।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী পাওয়া যাবে:
১. ক্লাস নোট ও পাঠ্য সহায়িকা
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতিটি শাখাই বিস্তৃত—প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ, ভাষাতত্ত্ব-ধ্বনিবিজ্ঞান থেকে সাহিত্যতত্ত্ব, কবিতা থেকে নাটক, প্রবন্ধ থেকে উপন্যাস, ছোটগল্প থেকে মহাকাব্য । দীর্ঘদিন ক্লাস নেওয়ার অভিজ্ঞতায় আমি বিষয়ভিত্তিক অনেক নোট তৈরি করেছি, যা কেবল পরীক্ষার জন্য নয়, বরং বিষয়বস্তুর গভীরে যাওয়ার জন্যও কার্যকর।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবিতা: চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলি, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কাব্য,
- আধুনিক সাহিত্য: রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, মানিক, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র, মধুসূদন।
- ভাষাতত্ত্ব ও ধ্বনিবিজ্ঞান
- রসতত্ত্ব, অলঙ্কারশাস্ত্র, ছন্দ ও সাহিত্যতত্ত্ব
- সমালোচনা ও গবেষণা পদ্ধতি
এসব নোট আমি এখানে ধাপে ধাপে প্রকাশ করব। আমার চেষ্টা থাকবে এগুলোকে সহজবোধ্য ও পরীক্ষাভিত্তিক করার পাশাপাশি গবেষণার উপযোগী করে তোলা।
২. বিভিন্ন কোর্সের রেফারেন্স বইয়ের তালিকা
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই জিজ্ঞেস করে—“স্যার, কোন বই পড়ব? কোন লেখকের সমালোচনা বিশ্বাসযোগ্য?” আমি সবসময় বলি, শুধু এক-দুটি বইয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। একটি বিষয় বুঝতে হলে নানা দিক থেকে পড়তে হবে। তাই আমি প্রতিটি টপিকের জন্য রেফারেন্স বইয়ের তালিকা সংরক্ষণ করছি। সেই তালিকা আমার প্রতিটি নোট বা প্রবন্ধের শেষে পাওয়া যাবে।
৩. ব্লগ ও ব্যক্তিগত লেখা
শিক্ষকতা শুধু পাঠ্যক্রম নয়, বরং জীবনদর্শন। শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে আমি যতবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি, ততবারই নিজেকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। আমার ব্লগে থাকবে—
- শিক্ষকতা নিয়ে অভিজ্ঞতা ও অনুভব
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ নিয়ে পর্যবেক্ষণ
- সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে চিন্তাভাবনা
- আত্মজৈবনিক কিছু লেখা, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে গভীরভাবে স্পর্শ করে
- কেরিয়ার গঠনের পরামর্শ
- আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিকূল পরিস্থিতি উত্তোরণের উপায়
৪. শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাভিত্তিক সহায়িকা
শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সময়মতো সঠিক প্রস্তুতি নিতে পারে না। তাই এখানে থাকবে—
- গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
- সংক্ষিপ্ত সাজেশন
- উত্তর লেখার কৌশল
- অনুশীলন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র
- জটিল বিষয়ের সহজ উপস্থাপন
৫. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা দিকনির্দেশনা এবং চাকরি বা উদ্যোক্তা হওয়ার নির্দেশনা:
বাংলা বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী এম.এ. বা গবেষণা করতে চায়, কিন্তু তারা জানে না কীভাবে শুরু করতে হবে। তাই আমি এখানে কিছু নির্দেশনা দেব—
- গবেষণা বিষয় নির্বাচন
- থিসিস লেখার কাঠামো
- রেফারেন্স ও উদ্ধৃতির নিয়ম
- আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখা পাঠানোর কৌশল
- শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার বার্তা
তোমরা যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়ছ, তারা এক অর্থে ইতিহাসের ধারক। কারণ একটি ভাষার সাহিত্য মানেই তার সভ্যতার আয়না। তোমরা যদি এই বিষয়কে কেবল পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ করো, তবে এর আসল সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে। আমার আবেদন, বাংলা সাহিত্যকে শুধু পড়লে হবে না, তাকে বাঁচাও—তাকে নিজের ভেতরে ধারণ করো।
আমি জানি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক সীমাবদ্ধতা আছে—বইয়ের অভাব, শিক্ষক সংকট, গবেষণার সীমিত সুযোগ। কিন্তু মনে রেখো, সত্যিকারের আগ্রহ থাকলে যে কোনো অভাবকে জয় করা যায়। আমি এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা করছি।
আমার স্বপ্ন:
আমি চাই, একদিন এই ওয়েবসাইট হয়ে উঠুক বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি। এমন এক জায়গা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী রাত ২টায় বসে চর্যাপদের ব্যাখ্যা খুঁজে পাবে, অথবা একজন শিক্ষক হঠাৎ ক্লাসের আগে নজরুলের মানবতাবাদ নিয়ে একটি প্রবন্ধ রেফারেন্স করতে পারবেন।
এটি আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন হলেও, আমি বিশ্বাস করি একদিন এটি সবার যৌথ সম্পদে পরিণত হবে।
জ্ঞানের আলো সবার জন্য:
সবশেষে আমি বলতে চাই—জ্ঞান কারো একার সম্পদ নয়। একজন শিক্ষক যদি নিজের নোটকে কেবল নিজের কাছে আটকে রাখেন, তবে তা আসলে মৃত অক্ষরে পরিণত হয়। কিন্তু যখন তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন সেই জ্ঞান নতুন প্রাণ পায়। এই পেজের প্রতিটি লেখা, প্রতিটি নোট, প্রতিটি লিংক সেই বিশ্বাস থেকেই দেওয়া হবে।
আমি চাই, শুধু আমার শিক্ষার্থীরাই নয়, দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের সেই ছাত্রটিও উপকৃত হোক, যে হয়তো একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সাহিত্য পড়তে চায় কিন্তু সঠিক বইয়ের খোঁজ পাচ্ছে না। অথবা, কোনো শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা আছে, কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে ভর্তি হতে পারেনি,সেইসব শিক্ষার্থীরা যেন বঞ্চিত না হয়। অথবা, যারা মফস্বল শহরে বা প্রান্তিক পর্যায়ে থেকে শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে লেখাপড়া করে চলেছে, সুযোগের অভাবে কাঙ্খিত ফল লাভ করছে না, তাদের জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা।
একটি ছোট বাণী
“জ্ঞান তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা বিনা সংকোচে সবার মাঝে বিতরণ করা যায়।”
কর্মের মধ্যেই অমরত্ব
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোনার তরী কাব্যের সোনার তরী কবিতায় এক গভীর সত্য আমাদের শিখিয়েছেন—মানুষ বাঁচে না, বাঁচে তার কর্ম। মহাবিশ্ব কোনো ব্যক্তিকে ধরে রাখে না, মহাবিশ্বের কাছে ব্যক্তিগত অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু কর্মই থেকে যায়, কর্মই ইতিহাসে বীজ ছড়িয়ে দেয়, কর্মই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে ফসল ফলায়।
এতকাল নদীকূলে যা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে
তখন করুণা করে বলতে হয় – আমারে লও করুণা করে। কিন্তু জায়গা হয় না।
শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি
যা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।
আমি যখন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়াই, তখন আমার মনে হয়—আমার জীবনের স্থায়িত্ব নেই, কিন্তু আমার বলা একটি বাক্য হয়তো কোনো শিক্ষার্থীর ভেতরে অচেনা আলো জ্বালাবে। আমি হয়তো হারিয়ে যাব একদিন, কিন্তু সেই আলো হয়তো বেঁচে থাকবে তার ভেতরে, আবার ছড়িয়ে যাবে অন্যের ভেতরে। এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পথচলা সার্থক হয়।
আমার শিক্ষার্থীরা যদি একদিন আমার নোট, আমার দিকনির্দেশনা, কিংবা আমার অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হয়—তবে সেটিই হবে আমার সত্যিকারের উত্তরাধিকার। আমি চাই না কেউ আমাকে ব্যক্তি হিসেবে মনে রাখুক; আমি চাই, আমার কর্ম যেন তাদের মাঝে বেঁচে থাকে।
মানুষের জীবন ক্ষণিক, কিন্তু কর্ম চিরকালীন। কবিগুরু বলেছেন, মহাবিশ্ব ব্যক্তিকে নয়, কর্মকে গ্রহণ করে। সেই কর্মই আমার কাছে সাধনা—শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, তাদের মাঝে স্বপ্নের বীজ বপন করা।
যেদিন আমি থাকব না, সেদিন হয়তো আমার নাম মুছে যাবে, কিন্তু যদি আমার লেখা নোট কোনো শিক্ষার্থীকে সাহায্য করে, যদি আমার ব্লগের একটি লেখা কোনো শিক্ষকের ক্লাস নেওয়ার অনুপ্রেরণা হয়—তাহলেই আমি বুঝব আমি বৃথা যাইনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪০০ সাল কবিতার মতো –
আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে,
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ –
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ –
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে,
আজি হতে শতবর্ষ পরে?।
তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি
ভেবে দেখো মনে –
আমিও তাই বলি- অনাগত দিনের কোনো শিক্ষার্থী বা পাঠক কৌতূহল বশে আমার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে যেন ভাবে কে সে?
আমিও আমার শিক্ষার্থীদের মাঝে বাঁচতে চাই, তাদের সাফল্যের ভেতর আমার কর্মের ফসল দেখতে চাই।
ব্যক্তি নয়, কর্মই অমর—এই বিশ্বাস নিয়েই আমার শিক্ষকতা জীবন, আর এই ওয়েবসাইট আমার কর্মের সেই ধারাবাহিক রূপ।
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন
বাংলা বিভাগ
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।