বনলতা সেন কাব্যে শিল্পমূল্য ও কবিমানস সমান্তরাল- যেখানে শিল্পবোধের অন্তরালে সময়, স্মৃতি ও সৌন্দর্যের রূপায়ণ।


শিল্পমূল্য ও কবিমানস বিচার এমন একটি বিষয় যেখানে নন্দনতত্ত্ব, কাব্যিক রূপ, ছন্দ, ভাষা, ভাব ও কবিমানসের শিল্পবোধ একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। বনলতা সেন কাব্য শিল্পমূল্য ও কবিমানসের যে প্রতিফলন তাতে বাংলা আধুনিক কবিতায় এক নন্দনধর্মী বিকাশ যা ছন্দ, চিত্রকল্প ও ভাষার অনুপম শিল্পসৌকর্যে কবিমানসের এক অন্তর্লোক উন্মোচন করে। কাব্যটি হয়ে উঠেছে মানবচেতনার অনন্ত অনুসন্ধান। এক সৌন্দর্যলোকে কবিমানসের আত্মপ্রকাশ। নন্দনবোধ, ভাবপ্রবণতা ও শিল্পলোকের এক অনন্য সংলাপ হয়ে গেছে কাব্যটি। কাব্যের সব রকম নন্দনতত্ত্বের মেলবন্ধনে আধুনিকতার এক অসাধারণ রূপকল্প কাব্যটি।
“বনলতা সেন: শিল্পমূল্যে ও কবিমানস এ যেন সমান্তরাল- শিল্পবোধের অন্তরালে সময়, স্মৃতি ও সৌন্দর্যের ভাষা”
শিল্পমূল্য ও কবিমানস
এক বিমূঢ় যুগের বিভ্রান্ত কবি জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)। তাঁর কাব্যে সমসাময়িক কালের সংশয়ী মানবাত্মার ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত পরিচয় পাওয়া যায়। বিশ শতকের জীবনের জটিলতা, ক্লান্তি, অবসাদের যথাযথ চিত্রকল্প সৃষ্টিতে, ইন্দ্রিয়ঘন পরিবেশ রচনায়, ইতিহাস তথা ভৌগোলিক চেতনার প্রকাশে মৃত্যু চেতনা ইত্যাদি প্রকাশে কবির স্বাতন্ত্র্য প্রথম থেকেই চোখে পড়ে। তাঁর সকল অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির স্মারকচিহ্ন হিসেবে বনলতা সেন কাব্যটি কবির কবি-খ্যাতির দ্যোতক।


অবকাশ, অবসর, অবসাদ, মৃত্যু, বিচ্ছেদ, শূন্যতা, ক্লান্তিকে অবলম্বন করেই বনলতা সেন কাব্যের বিভিন্ন কবিতার পরিব্যাপ্তি। কবি হাজার বছর ধরে ভ্রমণ পিয়াসী মন নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাস, সমাজ, ঐতিহ্য থেকে সৌন্দর্য সংগ্রহ করে সংশয়ী মনের ক্ষত দূর করতে চেয়েছেন। তিনি জীবনের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি খুঁজেছেন প্রকৃতির মধ্যে। বনলতা সেন কাব্যে প্রকৃতি কখনো আধার, কখনো আধেয়। প্রকৃতিকে এ ক্লাব্যে-কবি আত্মার আত্মীয় করে তুলেছেন।
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – রূপক-চিত্রকল্প
বনলতা সেন কাব্যের প্রতিটি কবিতাতেই ছড়ানো রয়েছে প্রকৃতির বিবিধ উপকরণ। যেমন- পাখি রৌদ্র, নদী, ধান, মাঠ, কুয়াশা, মেঘ, দুপুর, শালিক, সূর্য, হেমন্ত, শীত, বসন্ত প্রভৃতি। এ সবের মধ্য দিয়ে বাংলার সবুজ-শ্যামল ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁর অঙ্কিত প্রকৃতি যেন হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়। যেমন-
আমি যদি হতাম বনহংস;
হনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে
ছিপছিপে শরের ভিতর
এক নিরালা নীড়ে
(আমি যদি হতাম)
আসলে কবি পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতার কাছে থেকে ঘুরে এসে প্রকৃতির সংলগ্নতায় শান্তি খুঁজে ফিরেছেন।
সমসাময়িক কালের যুগযন্ত্রণা থেকে দু’দণ্ড শান্তির অন্বেষায় কবি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মধ্যে সত্যের সন্ধান করেছেন। বন্ধ্যাযুগের রূপকল্পে কবি প্রেমের অচরিতার্থ রূপ দেখে ব্যথিত, সৌন্দর্যহীনতায় পীড়িত, তাই তিনি প্রেমের ও সৌন্দর্যের প্রকৃত স্বরূপ খুঁজেছেন ভূগোল ও ইতিহাসের বৃহত্তর পটে। বনলতা সেন কাব্যের বনলতা সেন, হাওয়ার রাত, হায় চিল, নগ্ন নির্জন হাত, সুরঞ্জনা, সবিতা, মিতভাষণ প্রভৃতি কবিতার মধ্যে ইতিহাস-চেতনার স্বাক্ষর রয়েছে।
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – ইতিহাসচেতনা ও সময়চেতনা
দেশ-কালে সীমাবদ্ধ নাটোরের বনলতা সেনের পশ্চাতে রয়েছে ভূগোলের বিস্তৃতি ও ইতিহাসের বেধ। মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই বহু কাল ধরে তার অনুভূতি ও জ্ঞানের পরিধি বিস্তার করে আসছে। এ জন্যই কবি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে হাজার হাজার বছর ধরে-
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে। (বনলতা সেন)
উল্লিখিত প্রাচীন সভ্যতার নাম উচ্চারণের সাথে সাথে পাঠকের মন এক স্বপ্নের জগতে ছুটে যায় এবং ইচ্ছা, অনুভূতি ও কল্পনার পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায়।
বন্ধ্যাযুগের যুগযন্ত্রণা থেকেই জীবনানন্দের কাব্যে মৃত্যু চেতনা উঠে এসেছে। জীবনের বিভিন্ন মূল্যবোধের অসার্থকতায় সুগভীর বেদনা থেকেই তার স্ফূরণ ঘটেছে। বেঁচে থেকে তিলে তিলে মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করার চেয়ে অন্ধকারে সারৎসারে অনন্ত মৃত্যুর মতো মিশে থাকতে চেয়েছেন। আমি যদি হতাম কবিতার মধ্যে কবির মৃত্যু ভাবনা গভীর ব্যঞ্জনা পেয়েছে-
হয়তো গুলির শব্দ আবার;
আমাদের স্তব্ধতা,
আমাদের শাস্তি,
আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না; থাকতো না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার; (আমিযদি হতাম)
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – যুগের রূপায়ণ
তথাকথিত রোমান্টিকতার বিরুদ্ধে ত্রিশোত্তর কবিগোষ্ঠীদের সোচ্চার হতে দেখা যায়। ধনে, শক্তিতে, বিজ্ঞানে, সমাসাময়িক যুগের ঐশ্বর্য ও জীবনের উল্লাসকে দেখে আগের রোমান্টিক কবিরা আশাবাদী হয়েছেন। প্রেমের বর্ণনায় মোহাবেশ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিরহের মধ্যেও তাঁরা শূন্যতার বদলে পূর্ণতাকে দেখেছেন। জীবনানন্দ দাশ সে পরিপূর্ণতার মধ্যে জীবনের ক্ষয়িষ্ণু রূপকে দেখেছেন। আর জ্বরা ও মৃত্যু চেতনায় ক্লান্তি ও অবসন্ন হয়েছেন। কবি অচরিতার্থ প্রেমের কবি। কবি বিরহের মধ্যে পূর্ণতাকে খুঁজে পান নি, বরং দেখেছেন বিরহ দেহ, মন ও আত্মাকে বিধ্বস্ত করে দেয়। বিরহ মানেই অনন্ত শূন্যতা। হায় চিল কবিতার মধ্যে চিলের উদাস ডাক কবির মনে অসীম শূন্যতার প্রতীকরূপে দেখা দিয়েছে।
বন্ধ্যাযুগকে কবি হেমন্তের চিত্রকল্পে প্রকাশ করেছেন। হেমন্তের নিঃস্ব, রিক্ত, অনুর্বর রূপ এই ক্ষয়িষ্ণু সৃষ্টি সম্ভাবনাহীন যুগেরই প্রতিবিম্ব।
হেমন্ত আসিয়া গেছে; চিলের সোনালী ডানা হয়েছে খয়েরি;
ঘুঘুর পালক যেন ঝরে গেছে শালিকের নেই আর দেরি,
হলুদ কঠিন ঠ্যাং উঁচু করে ঘুমাবে সে শিশিরের জলে
ঝরিছে মরিছে সব এই খানে বিদায় নিতেছে ব্যাপ্ত নিয়মের ফলে।
( দুজন)
হেমন্তের আগমনে ফসলের অবসান হল অর্থাৎ রোমান্টিক যুগের শেষ হল। চারদিকে জীর্ণতার, ঘুরার, ক্ষয়ের মৃত্যুর চিহ্ন। এই প্রাণহীন পোড়ো জমিতে জমে আছে শিশিরের জল, যা বর্ষার জগের মতো ফলপ্রসু নয়। তাকে আলোকিত করছে সূর্য নয়, বরফের মত চাঁদ।
ইন্দ্রিয়ঘনত্ব তথা চিত্রধর্ম কবির কাব্যকে আরো বেশি অবয়বত্ব দান করেছে। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধদেব বসু বলেছেন-
ছবি আঁকতে তাঁর নিপুণতা অসাধারণ। তার উপর ছবিগুলো শুধু দৃশ্যের নয়, গন্ধের ও স্পর্শের বটে, রিশেষভাবে গন্ধের ও স্পর্শের।
কবির কাব্যে ইন্দ্রিয়ঘনতা ও চিত্র ওতপ্রোতভাবে বিরাজ করেছে। বনলতা সেন কাব্যের বিভিন্ন কবিতা থেকে কয়েকটি পংক্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সেখানে বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ানুভূতি স্থান পরিবর্তন করে এক নিবিড় ইন্দ্রিয়ঘনতার সৃষ্টি করেছে। এর ফলে প্রকৃতিকে, ছবিকে, চিত্রকে তার সমগ্ররূপসহ আরো শরীরীভাবে উপলব্ধি করা যায়।
তখন হলুদ নদী
নরম নরম হয় শর কাশ হোগলায় মাঠের ভিতরে।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে।
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – ইমপ্রেসনিস্ট
কবির কাব্যে ইমপ্রেসনিস্টদের মতো ছবির বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। রং, আলো, ছায়া অবলম্বনে শিল্পী ছবি আঁকেন। শিল্পীর চেতনায় যেমন ধরা পড়ে তেমনি অঙ্কিত হয় এবং একটা সামগ্রিক রূপ ফুটিয়ে তোলেন। খণ্ডাংশ দিয়ে সে ছবির মূল্যায়ন হয় না, হয় সামগ্রিকতা বিচার করে। জীবনানন্দের কবিতাও তাই। তাঁর বাণীর আধারে বন্দী করা ছবি খণ্ডিত নয়, একটা সামগ্রিক আবেদন নিয়েই তা মূর্ত। জীবনানন্দের কবিতা হঠাৎ পড়লে মনে হয় কিছুই বোঝা গেল না, তার বর্ণনা ছেঁড়া ছেঁড়া, খণ্ডিত মনে হয়। কিন্তু সমস্ত কবিতাটি পাঠ করার পর তার মধ্যে যে ছবি মূর্ত হয়, তা সামগ্রিক।
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – শিল্পপ্রকরণ
বনলতা সেন কাব্যের প্রকরণের দিক থেকে প্রধান বিশেষত্ব হলো শব্দের ব্যবহার। কবি প্রথা অনুযায়ী শব্দ ব্যবহার করেন নি। তিনি অতি প্রচলিত গ্রাম্য দেশজ শব্দ ও ইংরেজি শব্দ দিয়ে নিজস্ব শব্দ ভাণ্ডার গড়ে তুলেছেন, যেমন- শেমিজ, থুতনি, গাড়ল ইত্যাদি মৌখিক শব্দ। ভাব অনুযায়ী, অনুভূতি অনুযায়ী তিনি শব্দ ব্যবহার করেছেন। এ কাব্যগ্রন্থে কার্তিক, অমাণ, ফাল্গুন, আশ্বিন ব্যতীত অন্য কোনো মাসের ব্যবহার নেই, ঋতুর ক্ষেত্রে হেমন্ত, শীত এবং বসন্ত ব্যবহৃত হয়েছে। কবি তাঁর কবিতায় নায়িকার নামকরণ করেছেন তার দেহীরূপকে মূর্ত করে তোলার জন্য। তিনি শুধু বনলতা সেন নাম দিয়েই ক্ষান্ত হন নি, আরো নির্দিষ্ট করে তোলবার জন্য বলেছেন নাটোরের বনলতা সেন।
বিশেষণ প্রয়োগেও কবির নিপুণতা লক্ষ্যণীয়। প্রয়োগের গুণে অনুভূতিময় বিষয়ও স্পর্শময়, ঘ্রাণময় হয়ে উঠেছে। সমুদ্র সফেন, প্রেমিক চিল পুরুষ, শব্দহীন জ্যোৎস্না, শিশির ভেজা গল্প ইত্যাদি বিশেষণগুলো পাঠকের অন্তর স্পর্শ করে।
কবিতার আঙিনায় কবি বিশিষ্ট দেশজরীতি ব্যবহার করেছেন। অথচ কবিতা হয়েছে সহজ ও স্বাভাবিক। হলুদ কঠিন ঠ্যাং উঁচু করে ঘুমোবে সে শিশিরের জলে কত সহজ করে কবি এখানে ঠ্যাং শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সুষ্ঠু বিন্যাসের গুণে শব্দের রুক্ষতা পালিশ হয়ে নমনীয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষণ এবং ক্রিয়াপদ ব্যবহারে কবি ক্রিয়ার অপভ্রংশও ব্যবহার করেছেন। ছিনু, গেনু ইত্যদি। গ্রাম্য ক্রিয়াপদের ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়। যেমন ফলানো, ছুঁয়ে, ছেনে, ফেঁসে, ছিঁড়ে, ফেড়ে ইত্যাদি।
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – অলংকার প্রয়োগ
উপমা প্রয়োগে কবির খ্যাতি আকাশ ছোঁয়া। উপমাই কবিত্ব কবি তাঁর এ কথা বনলতা সেন কাব্যের উপমা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভুলে যান নি। তাঁর উপমাগুলো উজ্জ্বল, জটিল ও দূরগন্ধবহ। এ কাব্যের সবকটি কবিতার উপমার শরীরে কোমল স্পর্শানুভূতি, অন্তরঙ্গ মমতার সুর এবং বাংলাদেশের গ্রাম্য জীবনের নিত্য পরিচিতিরূপ ফুটে উঠেছে। যেমন-
বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ:
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
শিল্পমূল্য ও কবিমানস – ছন্দের ব্যবহার।
ছন্দের বিচিত্র ব্যবহার বনলতা সেন কাব্যে লক্ষ্য করা যায়। জীবনানন্দ দাশের ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য বাকরীতি ও কথারীতির মিলন। কথ্য ভাষার মধ্যেও কবি প্রবহমানতা ও গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর ছন্দ প্রধানত তানপ্রধান ছন্দ।
তানপ্রধান ছন্দে সাধারণত ২,৪,৫,৮ চরণের স্তবক হয়। কিন্তু কবি এর ব্যতিক্রম করেছেন। যেমন হায় চিল কবিতাটি ৭ চরণের একটি স্তবকে রচিত। পথহাটা কবিতাটি একটি সনেট। এর মাত্রামান ৮+৮+১০=২৮। এ কবিতায় কবি ৩ চরণের স্তবক সৃষ্টি করেছেন এবং প্রবহমানতা সৃষ্টি করেছেন। গদ্য কবিতা রচনাতেও কবির কৃতিত্ব রয়েছে। হাওয়ার রাত, ঘাস, নগ্ন নির্জন হাত ইত্যাদি গদ্য কবিতা।
অনুপ্রাসের ক্ষেত্রে কবির দক্ষতা রয়েছে। মধ্যানুপ্রাস, অন্ত্যানুপ্রাস, আদ্যানুপ্রাস লক্ষ্য করা যায়। মধ্যানুপ্রাসের দৃষ্টান্ত-
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।
ছন্দের ক্ষেত্রে কবির কলা-কৌশলের অভাব নেই। তবে কোথাও ছন্দের ত্রুটি লক্ষ্য করা যায় না। একই বাক্যের পুনরুক্তিতে কবি ছন্দের মধ্যে বৈচিত্র্য এনেছেন।
উপসংহার – শিল্পমূল্য ও কবিমানস
বনলতা সেন কাব্যটি কবির কবি খ্যাতির দ্যোতক। শিল্পমূল্য ও কবিমানস বিচার প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে সমগ্র কবি-মানসের রূপটি এ কাব্যে অল্পবিস্তর ধরা পড়েছে। ভাবের ব্যঞ্জনায়, প্রকৃতির অপূর্ব ব্যবহারে, চিত্রকল্প সৃষ্টিতে, উপমার সার্থক প্রয়োগে, শব্দ প্রয়োগে, বিশেষণের ব্যবহারে, ছন্দ ও অলংকার প্রয়োগে বনলতা সেন কাব্য কবির প্রতিভার অন্যতম স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। বনলতা সেন কাব্যে শিল্পমূল্য ও কবিমানস সমান্তরাল- যেখানে শিল্পবোধের অন্তরালে সময়, স্মৃতি ও সৌন্দর্যের রূপায়ণ।
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন বাংলা বিভাগ সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।