সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ : একটা নান্দনিক পর্যালোচনা, ব্যবহার বৈচিত্র্য


সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ–ব্যবহার বৈচিত্র্য
ভূমিকা: বিশেষ্যের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম পদ বলে। যেমন রহিম ভাল ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়। এখানে দ্বিতীয় বাক্যটিতে সে শব্দটি রহিমের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। সে হল সর্বনাম।
সব নামের স্থানে ব্যবহৃত বিকল্প শব্দকে প্রথাগত ব্যাকরণে সর্বনাম অর্থাৎ সব নাম বলা হয়ে থাকে। যা নামের, অর্থাৎ আগে উল্লেখ করা হয়েছে এমন নাম বা বিশেষ্যের পরিবর্তে বসে, তাই সর্বন্যম। এ সংজ্ঞাটি ইংরেজির অনুকরণে- pro (for) noun pronoun.


সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ নিয়ে ভাষাবিদদের মন্তব্য:
সুনীতি কুমার এ সংজ্ঞাটিকে গ্রহণ করেছেন। তিনি পাণিনির সর্ব প্রভৃতি নাম হল সর্বনাম এ মতকে অনুসরণ করে নামকরণ করেছেন। সুনীতি বাবুর যুক্তি হলো- “সর্ব অর্থাৎ সর্বপ্রকার নামের স্থলে হয় বলিয়া সর্বনাম এই নামকরণ হইয়াছে।”
এ সংজ্ঞাটিকে অব্যাপ্তিদোষে দুষ্ট বলা যায়। কেননা, আমরা, তুমি, তোমরা এগুলো কোনো নাম বা বিশেষ্যের পরিবর্তে বসে না।
সর্বনাম শুধু বিশেষ্যের পরিববর্তে বসে বললে যেমন অব্যাপ্তি দোষ ঘটে। এ দোষ তেমনি আরও একটি কারণে ঘটে, কারণ সর্বনাম শুধু বিশেষ্যের পরিবর্তে বসে না, বাক্যাংশ বা পূর্ণবাক্যের পরিবর্তেও বসে। যেমন-
- যাকে তুমি চাও না সেই রাম এসেছে।– এখানে যাকে সর্বনামটি বাক্যাংশের পরিবতর্তে বসেছে।
- তুমি অন্যায় করেছ। তা, স্বীকার করা। —এখানে তা সর্বনামটি সম্পূর্ণ বাক্যের পরিবর্তে বসেছে।
সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ নিয়ে আমাদের কথা:
অতএব, আমরা সর্বনামের সংজ্ঞা দিতে পারি — যে পদ বিশেষ্য বা অন্য কোনো পদ বা বাক্যাংশ অতএব, আমরা সর্বনামের সংজ্ঞা বা বাক্যের পরিবর্তে বসে, তাকে সর্বনাম বলে।
সহজ ভাষায় সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
যে শব্দ নামের (বিশেষ্য) পরিবর্তে বসে, তাকে সর্বনাম বলে।
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের নাম বারবার ব্যবহার না করে তার পরিবর্তে সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: সে, আমি, তুমি, আমরা, ওটা, যে, এই ইত্যাদি।
উদাহরণ:
রাহিম স্কুলে গেছে। সে আজ নতুন বই পেয়েছে।
এখানে “সে” শব্দটি “রাহিম” নামের পরিবর্তে বসে সর্বনাম হয়েছে।
সর্বনামের উৎপত্তি ও অর্থবোধ
‘সর্ব’ মানে ‘সব’ এবং ‘নাম’ মানে ‘নাম’। অর্থাৎ সর্বনাম এমন একটি শব্দ যা সব নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হতে পারে— তাই নামের পরিবর্তক শব্দই সর্বনাম।
সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. ব্যক্তি বা পুরুষবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম ব্যক্তি বা পুরুষবাচক শব্দের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যক্তি বা পুরুষবাচক সর্বনাম বলে।
- ক) উত্তম পুরুষ আমি, আমরা:
- খ) মধ্যম পুরুষ তুমি, তোমরা।
- গ) নাম পুরুষ সে, তারা, তাহারা (সমস্ত বিশেষ্য পদই নামপুরুষ)
যে সর্বনাম ব্যক্তি বা প্রাণীর নির্দেশ করে।
যেমন: আমি, তুমি, সে, আমরা, তোমরা, তারা ইত্যাদি।
মন্তব্য:
পুরুষবাচক সর্বনাম মানেই মানুষের সাথে “সংলাপের দূরত্ব” –
আমি (নিকটতম), তুমি (মধ্যবর্তী), সে (দূরবর্তী)।
২. নির্দেশকবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম ব্যক্তি বা বস্তু বা প্রাণীর পরিবর্তে বসে উক্ত ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশকবাচক সর্বনাম বলে। যেমন এ, এরা, ও, গুলো, উহা সমস্ত সকল ইত্যাদি।
যে সর্বনাম কোনো বস্তু, ব্যক্তি বা স্থানের দিকে নির্দেশ করে।
যেমন: এই, ঐ, সেই, এটা, ওটা, সেটা ইত্যাদি।
মন্তব্য: হাত দিয়ে দেখানো যায় যাদের — তারা নির্দেশক সর্বনাম।
৩. সাকল্যবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম ব্যক্তি বা বস্তুর সমগ্রকে বোঝায়, তাকে সাকলাবাচক সর্বনাম বলে। যেমন সব, সবাই, সকল, সমুদয়, তাবৎ ইত্যাদি।
৪. আত্মবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম নিজের কথা বোঝায়, তাকে আত্মবাচক সর্বনাম বলে। যেমন স্বয়ং, খোদ , নিজ ইত্যাদি।
যে সর্বনাম নিজের প্রতি ইঙ্গিত করে, তাকে আত্মবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিজ, নিজের, আপন, আপনজন, স্বয়ং ইত্যাদি।
মন্তব্য: আয়নায় দেখা নিজের প্রতিবিম্বই আত্মবাচক সর্বনাম।
৫. দূরত্ববাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম দূরের কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে, তাকে দূরত্ব বাচক সর্বনাম বলে। যেমন ঐ, ঐসব, উহা, উনি ইত্যাদি।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম দ্বারা কোনো প্রশ্ন প্রকাশ পায়, তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে। যেমন কি, কিসের, কারা, কাদের, কতগুলো, কয়জন, কি সব ইত্যাদি।
প্রত্যয়বাচক সর্বনাম:
যে সর্বনাম প্রশ্ন করে বা প্রশ্নের উত্তর নির্দেশ করে।
যেমন: কে, কার, কাকে, কাহার, কাহাকে ইত্যাদি।
মন্তব্য ; প্রশ্নে যাদের ‘কে’ থাকে, তাদেরই প্রত্যয়বাচক সর্বনাম বলা হয়।
৭. অনির্দেশকবাচক/অনিশ্চয়বাচক সর্বনাম। যে সর্বনাম কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝাষ তাকে অনির্দেশকবাচক সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কিছু, কোনো, কারো ইত্যাদি।
যে সর্বনাম দ্বারা অজ্ঞাত বা অনির্দিষ্ট ব্যক্তি/বস্তু বোঝায়।
যেমন: কেউ, কিছু, কেউ একজন, কেউ না, কোনোটি ইত্যাদি।
মন্তব্য: চোখে আছে ধোঁয়াশা, মনেও অনিশ্চয়তা — এরা অনিশ্চয়বাচক সর্বনাম।
৮. নিত্যসম্বন্ধীয় সাপেক্ষবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম একটির সাথে অন্যটির সম্পর্কযুক্ত, তাকে নিত্যসম্বন্ধীয় বা সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বলে। একে পারস্পরিক সঙ্গতিমূলক সর্বনামও বলা হয়। যেমন যিনি-তিনি। যার-তার ইত্যাদি। যে-সে। যা-তা
যে সর্বনাম দুটি বাক্য বা ভাবের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, তাকে বলে সম্পর্কবাচক সর্বনাম।
যেমন: যে, যিনি, যাহা, যা, যাঁদের ইত্যাদি। উদাহরণ: যে মানুষ অন্যকে ভালোবাসে, সে-ই মানুষ।
মন্তব্য: সম্পর্কবাচক সর্বনাম হলো বাক্যের সেতুবন্ধনকারী শব্দ।
৯. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম অন্য বা অপর কিছুকে বোঝায়, তাকে অন্যাদিবাচক সর্বনাম বলে। যেমন -অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১০. ব্যতিহারিক বা পারস্পরিক সর্বনাম: যে সর্বনাম পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত তাকে ব্যতিহারিক বা পারস্পরিক সর্বনাম বলে। যেমন আপনা-আপনি। নিজে নিজে, আপসে (হিন্দি আপ-সে) ইত্যাদি।
১১. সম্বন্ধ, সংযোগজ্ঞাপক বা সঙ্গতিবাচক, সমুচ্চয়ী বা সাপেক্ষবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম দুটো পদ বা বাকাকে সংযোগ করে বা তাদের মধ্যে সম্বন্ধ তৈরি করে, তাকে সম্বন্ধ, সংযোগজ্ঞাপক বা সঙ্গতিবাচক, সমুচ্চয়ী বা সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বলে। যেমন যে যিনি, যারা, যা ইত্যাদি।
সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
বিষয়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে এটি শিক্ষামূলক, আকর্ষণীয় এবং পরীক্ষায়ও কার্যকর হয় ।
সর্বনাম নিয়ে বিশেষ মন্তব্য (একেবারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি)
বাংলা সর্বনামের সৌন্দর্য এর ভাষার সম্পর্কবোধে—
“আমি” ও “তুমি”-এর মধ্যে যে মধুর সেতু, “সে”-এর মধ্যে যে দূরত্ব, “আমরা”-তে যে ঐক্য, সেটিই সর্বনামের ভাষাতত্ত্বিক কবিতা।
সর্বনাম কেবল ব্যাকরণ নয়, এটি সম্পর্কের ভাষা—
এখানেই বাংলা ভাষার মানবিকতার ছোঁয়া।
উপসংহার –সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
সর্বনাম ভাষাকে দেয় সরলতা ও পুনরাবৃত্তি-বিরোধী সৌন্দর্য।
এটি ব্যাকরণের এমন এক রূপ, যা শুধু বাক্যকে সংক্ষিপ্ত করে না, বরং মানুষের মধ্যকার দূরত্ব ও ঘনিষ্ঠতাকেও প্রকাশ করে।
অতএব বলা যায়—
“সর্বনাম ব্যাকরণের হৃদয়— যেখানে ‘আমি’, ‘তুমি’ আর ‘সে’-র মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় মানবিক ভাষার স্পন্দন।”
প্রশ্ন: সর্বনামের ব্যবহার বৈচিত্র্য আলোচনা কর। অথবা, বাক্যের মধ্যে নামের বদলে ব্যবহৃত হওয়াই সর্বনামের একমাত্র কাজ নহে ব্যাখ্যা কর।
সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য
ভূমিকা: যে পদ বিশেষ্য বা অন্য কোনো পদ বা বাক্যাংশ বা বাকোর পরিবর্তে বসে তাকে সর্বনাম বলে।
তবে বিশেষ্যের পরিবর্তেই সর্বনাম বেশি ব্যবহৃত হয়। একই বিশেষ্য পদ বারবার ব্যবহার করলে ভাষার যে সৌন্দর্যহানি ঘটে, তা দূর করার জন্যই সর্বনামের প্রয়োজন। এ পদের ব্যবহার দ্বারা একই পদের বারবার প্রযোগ রোধ করা হয়। কিন্তু, নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হওয়াই সর্বনামের একমাত্র কাজ নয়, এর আরও কাজ আছে। সর্বনামের ব্যবহার বৈচিত্র্য সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
১. অনেক সময় সর্বনাম কোনো বাক্য বা বাক্যাংশের পরিবর্তেও ব্যবহৃত হয়। যেমন যাকে তুমি চাও না সেই রাম এসেছে। এখানে যাকে সর্বনামটি বাক্যাংশের পরিবর্তে বসেছে। তুমি অন্যায় করেছ। তা, স্বীকার করা। এখানে তা সর্বনামটি সম্পূর্ণ বাক্যের পরিবর্তে বসেছে।
২. উত্তম ও মধ্যম পুরুষ ছাড়া অন্য সর্বনামগুলো বিশেষণের মতো ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন সেই লোক, যে-সব মেয়ে, সে-দিনের কথা, এ-সকল কথা ইত্যাদি।
৩. সর্বনাম ক্রিয়া-বিশেষণরূপেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন এমন লোক দেখি নি। ছবি কেমন দেখলে?
৪. সর্বনামজাত বিশেষণ বাংলা ভাষায় দেশ, কাল, পরিমাণ ও সাদৃশ্য প্রকাশ করে। সর্বনামের মূল অংশের সাথে কতকগুলো বিশেষ প্রত্যয় যুক্ত করে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়ে থাকে।
যেমন: দেশবাচক – সেথা, কোথাও: কালবাচক— তখন, সেক্ষণ।
পরিমাণবাচক— এত যত: সাদৃশ্যবাচক— তেমন, যেমন।
৫. কোনো কোনো সর্বনাম আদর ও সম্ভ্রম বোঝায়। এটি সম্রমার্থক হতে পারে, আবার অনাদর বোঝালে তুচ্ছার্থক হতে পারে। যেমন-
- সম্ভ্রমার্থক— আপনি, ইনি ইত্যাদি।
- তুচ্ছার্থক — তুই।
বিশেষ বিশেষ সর্বনামে চন্দ্র বিন্দু যোগ করে সন্ত্রনার্থ প্রকাশ করা হয়। যেমন তাঁর, যাঁরা ইত্যাদি।
৬. যে-সব জোড়া জোড়া সর্বনাম একত্রে ব্যবহৃত হয়, তারা নিত্যসম্বন্ধী। যেমন যে সহে, সে রহে।
৭. কখনো কখনো উত্তম পুরুষে শর্মা আর মধ্যম পুরুষে মহাশয় বা হুজুর ব্যবহার হয়। এখানে বিনয় প্রকাশ করলে দাস, অধীনও ব্যবহৃত হয়। যেমন-করে সম্ভ্রমার্থ প্রকাশ করা
এ শর্মা (আমি) কাকেও ভয় করে না।
রেখো মা দাসেরে (আমাকে) মনে।
হুজুর (আপনি) যদি বলেন।
বান্দা (নিজে) হাজির।
৮. কোনো কোনো স্থলে সর্বনামের একবচনের পরিবর্তে বহুবচনের ব্যবহার করে উত্তম পুরুষে শিষ্টাচার এবং মধ্যম পুরুষে গৌরব বোঝানো হয়। যেমন-
- উত্তম পুরুষ — আমরা যেন দেশের জন্য প্রাণ দিতে পারি।
- মধ্যম পুরুষ– আপনাদের আশীর্বাদে সবই ভালো।
৯. কোনো কোনো সর্বনাম নিজের অর্থ বোঝাতে বিশেষ্যের অপেক্ষা রাখে না। এরা নিরপেক্ষ। যেমন-আমি, তুমি, আপনি ইত্যাদি।
১০. কিছু কিছু সর্বনাম বিশেষ্যের উপর নির্ভর করে নিজের অর্থ প্রকাশ করে। এরা সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন-তিনি, এ, তা ইত্যাদি।
১১. কয়েকটি সর্বনাম বিশেষণ, অব্যয় বা অন্য সর্বনামের সাথে মিলিত হয়ে মিশ্র সর্বনাম রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন যে কোনো, কোনো কিছু, আর কেউ ইত্যাদি।
১২. কিছু কিছু ক্ষেত্রে সর্বনামের দ্বিত্ব হয়। যেমন-
- ক) প্রত্যেকটি পৃথক বোঝাতে—যার যার কাজ। নিজ নিজ পথ।
- খ) কয়েকজনকে বোঝাতে– কেউ কেউ বলেন।
- গ) অল্লত্ব বোঝাতে কিছু কিছু খাও।
১৩. সর্বনাম বিশেষ্যপদ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যেমন-
হুজুরের যদি মর্জি হয়। এখানে কোনো কর্তা বা জমিদারের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ যেন বলতে চায়, আপনার যদি মর্জি হয়। (হুজুর এখানে আপনার।
আজ্ঞে কর্তা কী বলেন। এখানে কর্তা আপনি বাচক। অর্থাৎ আজ্ঞে, আপনি কী বলেন। করিমের দুই ছেলেই কৃতী, বড়জন ডাক্তার, ছোটজন ইঞ্জিনিয়ার। এখানে জন ছেলের স্থান নিয়েছে। বড়জন বড় ছেলে। ছোটজন ছোট ছেলে।
উপসংহার: সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য
উপরের আলোচনায় আমরা দেখতে পেলাম যে সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য বাংলা ব্যাকরণের একটি অপরিহার্য বিষয়। সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য বুঝতে পারলে ভাষার গঠন, ভাবপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বচ্ছতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। আসলে সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য কেবল কিছু ব্যাকরণগত নিয়ম নয়, বরং এটি ভাষার প্রাঞ্জলতা ও সৌন্দর্যের মূলভিত্তি। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য ভালোভাবে অনুধাবন করা, কারণ সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য আয়ত্ত করতে পারলেই বাক্য রচনায় সহজতা আসে এবং ভাষা হয় সাবলীল। সর্বোপরি বলা যায়— বাংলা ভাষার প্রাণবন্ত প্রকাশ ও সুশৃঙ্খল বাক্য গঠনের জন্য সর্বনামের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ এবং এর ব্যবহার বৈচিত্র্য জানা একান্ত প্রয়োজন।