টার্মপেপার কীভাবে প্রণয়ন করতে হয় ? বিস্তারিত আলোচনা কর।
সংকলনে: মোঃ আখতার হোসেন, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।
টার্মপেপার কী: ইংরেজি টার্মপেপারের বাংলা প্রতিশব্দ হলো পর্বপত্র। টার্ম শব্দটির অন্যতম অর্থ হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবর্ষের অংশ বা পর্ব। টার্ম বলতে নির্দিষ্ট সময়কালকে বোঝায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টার্মপেপার: শিক্ষা কর্মকা-ে টার্মপেপার শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে এভাবে- একটি পর্বে নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রণীতব্য অনুসন্ধানমূলক নিবন্ধ। শিক্ষাকর্মকা-ে শিক্ষার্থীর সৃজনীশক্তির বিকাশে বা শিক্ষণীয় বিষয়টি শিক্ষার্থীর কাছে প্রায়োগিক করে তুলতে টার্মপেপার একটি আবশ্যিক অংশ। শিক্ষার্থীর নির্ধারিত সিলেবাসের আলোকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটি অনুসন্ধানমূলক নিবন্ধ রচনার চর্চা থাকা উচিত। টার্মপেপার বর্ণনামূলক রচনা নয়, অনুসন্ধানমূলক, সমস্যার উৎস সন্ধানমূলক, তাই প্রণয়নকারীকে নির্ধারিত বিষয়ে ধারাবাহিক ও সুশৃংখলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যে ব্রতী হওয়ার একটা প্রবণতা সৃষ্টি হয়।

উদ্দেশ্য: পাঠ্যক্রমে টার্মপেপার রচনার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করার উদ্দেশ্য কী ?
সমাজ ও জীবন সম্পর্কিত বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করণে শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তুলতে পারে,
পাঠ্যক্রমের শিক্ষণীয় বিষয়টির প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটন করা সহ সমস্যা সমাধানে নিজেকে সম্পৃক্ত করার ক্ষমতা অর্জন হতে পারে,
বিষয়ের গভীরে প্রবেশের মানসিকতা সৃষ্টি হতে পারে, আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করার প্রবণতা সৃষ্টি হতে পারে।
অনুসন্ধীষ্ণু মনোভাবের জন্ম হয়।
অনুসৃত রীতি: সাধারণভাবে গবেষণা পত্র রচনার অনুশীলন করা বা প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত কাঠামো টার্ম পেপার রচনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়।
টার্মপেপারের বিভিন্ন অংশ
টার্ম পেপারের প্রধান অংশ তিনটি
- প্রস্তাবনা,
- মূল বিষয়বস্তু
- পরিপূরক অংশ।
১. প্রস্তাবনা অংশ
ক) মলাট (ঈড়াবৎ)
খ) শিরোনাম পৃষ্ঠা (ঞরঃষব ঢ়ধমব)
গ) মুখবন্ধ (ঢ়ৎবভধপব)
ঘ) কৃতজ্ঞতা স্বীকার (অপশহড়ষিবফমবসবহঃ)
ঙ) সারণী/রেখাচিত্র এর তালিকা (খরংঃ ড়ভ রষষঁংঃৎধঃরড়হং)
চ) সার-সংক্ষেপ (অনংঃৎধপঃ ড়ৎ ংুহড়ঢ়ংরং ড়ৎ বীবপঁঃরাব ংঁসসধৎু)
ছ) বিষয়সুচি (ঞধনষব ড়ভ পড়হঃবহঃং)
২. মূল বিষয়বস্তু
২.১ ভূমিকা (ওহঃৎড়ফঁপঃরড়হ)
ক) বিষয়ের/সমস্যার বিবরণ (ঝঃধঃবসবহঃ ড়ভ ঃযব ংঁনলবপঃ/ঢ়ৎড়নষবস)
খ) টার্মপেপার প্রণয়নের উদ্দেশ্য (ঙনলবপঃরাব ড়ভ ঢ়ৎবঢ়ধৎরহম ঃযব ঃবৎস ঢ়ধঢ়বৎ)
গ) টার্মপেপারের পরিসীমা (ঝপড়ঢ়ব ড়ভ ঃযব ঃবৎসঢ়ধঢ়বৎ)
ঘ) উপাত্তের উৎস ও সংগ্রহের পদ্ধতি (ঝড়ঁৎপবং ধহফ সবঃযড়ফং ড়ভ পড়ষষবপঃরহম ফধঃধ)
ঙ) সংজ্ঞা (উবভরহরঃরড়হ)
চ) সীমাবদ্ধতা (খরসরঃধঃরড়হ)
ছ) গবেষণালব্ধ ফলাফলের সারসংক্ষেপ (ঝঁসসধৎু ড়ভ ভরহফরহমং)

২.২ মূল অংশ (গধরহ নড়ফু)
ক) অধ্যায়সমূহ (ঈযধঢ়ঃবৎং)
খ) অধ্যায় শিরোনাম ও উপ-শিরোনাম (ঈযধঢ়ঃবৎ ঃরঃষব ধহফ ংঁন-ঃরঃষব)
গ) তথ্য বিশ্লেষণও প্রাপ্ত ফলাফল (অহধষুংরং ড়ভ রহভড়ৎসধঃরড়হং ্ ভরহফরহমং)
ঘ) সুপারিশমালা (জবপড়সসবহফধঃরড়হং)
৩. পরিপূরক অংশ (ঝঢ়ঢ়ষবসবহঃধৎু ঢ়ধৎঃ/ৎবভবৎবহপব সধঃবৎরধষং)
ক) পরিশিষ্ট (অঢ়ঢ়বহফরপবং)
খ) রেফারেন্স তালিকা (জবভবৎবহপব খরংঃ)
গ) গ্রন্থপঞ্জী (ইরনষরড়মৎধঢ়যু)
১. প্রস্তাবনা অংশ (চৎবভধঃড়ৎু চধৎঃং) ঃ
ক) মলাট (ঈড়াবৎ): আচ্ছাদন বা মলাট থাকবে। টার্ম পেপারকে আকর্ষণীয় করা এবং কোনো রকম ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করা মলাটের উদ্দেশ্য। মলাটে থাকবে Ñ পরিচিতি বা সনাক্তকরণমূলক সংখ্যা, টার্ম পেপারের শিরোনাম এবং প্রণয়ণের বা জমা দেওয়ার তারিখ। একটি নমুনা –
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
বাংলা বিভাগ
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ২০—
টার্ম পেপার
বিষয় ঃ বাংলা নাটকের বিকাশে মধুসূদনের অবদান।
নভেম্বর ২০২৫
খ) শিরোনাম পৃষ্ঠা (ঞরঃষব ঢ়ধমব): মলাটের পরের পৃষ্ঠা। মলাটের সকল তথ্যসহ এ পৃষ্ঠায় থাকবেÑ শিরোনাম, নির্দেশকারী ব্যক্তি/সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, অনুমোদনকারীর নাম ও ঠিকানা, প্রণয়নকারীর নাম ও ঠিকানা। শিরোনাম পৃষ্ঠার একটি নমুনা –
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
বাংলা বিভাগ
২০২৫ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ
টার্ম পেপার
বিষয় ঃ বাংলা নাটকের বিকাশে মধুসূদনের অবদান।
বিভাগীয় প্রধানের নির্দেশে প্রণীত
অনুমোদনকারী/তত্ত্বাকধায়ক প্রণয়নকারী
নাম ও পরিচিতি নাম ও পরিচিতি
তারিখ ঃ তারিখ ঃ
গ) মুখবন্ধ (ঢ়ৎবভধপব); শিরোনাম পৃষ্ঠার পরের পৃষ্ঠা। একে পূর্বকথা / প্রসঙ্গ কথা / ভূমিকা ইত্যাদি নামেও লিখে থাকেন অনেকে। টার্ম পেপারটিকে পাঠকের কাছে পরিচিতি করানোর মাধ্যম হচ্ছে এই মুখবন্ধ। এখানে বিষয়ের কোনো আলোচনা থাকবে না। তবে বিষয়ের উল্লেখ থাকবে। প্রণয়নকারীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত থাকতে পারে।
ঘ) কৃতজ্ঞতা স্বীকার (অপশহড়ষিবফমবসবহঃ): কেউ কেউ আলাদা পৃষ্ঠায় , আবার অনেকে মুখবন্ধের শেষের দিকে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাকেন। তাই শিরোনাম পৃষ্ঠার পরে বা মুখবন্ধের পরের পৃষ্ঠায় এর অবস্থান। এই অংশে নির্দেশক/ পরামর্শক/ বা গাইডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশমূলক বক্তব্য স্থান পাবে। এছাড়া যে সকল ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ, প্রতিষ্ঠান, পত্রপত্রিকা ও গ্রন্থাবলির সহায়তা গ্রহণ করা হয়েছে অত্যন্ত সংক্ষেপে তাদের বিষয়টিও উল্লেখ করতে হবে।
ঙ) সারণী/রেখাচিত্র এর তালিকা (খরংঃ ড়ভ রষষঁংঃৎধঃরড়হং): টার্ম পেপারে সন্নিবেশিত সারণী ও রেখাচিত্রের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। এই তালিকাটিও বিষয়সুচির মত প্রণীত হবে। তাবে সারণী, ছবি, ও রেখাচিত্রের সংখ্যা ৭/৮ টির বেশি হলেই এই তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। সংখ্যা ২/৩ হলে এই তালিকা সংযোজনের প্রয়োজন হবে না।
চ) সার-সংক্ষেপ (অনংঃৎধপঃ ড়ৎ ংুহড়ঢ়ংরং ড়ৎ বীবপঁঃরাব ংঁসসধৎু): অনেক সময় টার্মপেপারের বিষয়বস্তুর একটি সংক্ষিপ্তসার প্রণয়ন করা হয়। সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য এর প্রয়োজন হয়। তবে এটি সাধারণত বড় আকৃতির টার্ম পেপার বা গবেষণাপত্রের ক্ষেত্রেই প্রণীত হয়ে থাকে।
ছ) বিষয়সুচি (ঞধনষব ড়ভ পড়হঃবহঃং) ঃ বিষয়সুচি সন্নিবেশিত হবে সারসংক্ষেপ এর ( সারণী তালিকা ও সারসংক্ষেপ না থাকলে কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পর ) পরের পৃষ্ঠায়। ছোট টার্ম পেপারের জন্য বিষয়সুচি না থাকলেও চলে, কিন্তু আকারে ৩/৪ পৃষ্ঠার বেশি হলে বিষয়সুচি অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি পাঠককে টার্ম পেপারের অন্তর্গত বিষয়াবলি সম্পর্কে অবহিত করে। এ ছাড়াও পাঠক নিবন্ধটি থেকে ঠিক যে তথ্যগুলো বা যে বিষয়টি জানতে চায় নিবন্ধের মধ্যে সেগুলোর অবস্থান সময়ের অপচয় না ঘটিয়ে খুঁজে নিতে পারে। এই পৃষ্ঠার উপরের অংশের কেন্দ্রস্থলে লেখা থাকবে বিষয়সুচি, তার নীচে বাঁ দিকে অনুক্রমিকভাবে বিষয়াবলি সন্নিবেশিত থাকবে। ডানদিকে প্রতিটি বিষয়ের বিপরীতে পৃষ্ঠা সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়সুচি
মুখবন্ধ
কৃতজ্ঞতাস্বীকার
সারণী/রেখাচিত্রের তালিকা
সারসংক্ষেপ
১. ভূমিকা ——– ১
২.মূল অংশ ———————- ২
২.১ নাটকের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য ——————- ৩
২.২ নাটকের সূচনা কাল
২.৩ নাটকের সূচনাকালে রঙ্গমঞ্চের ভূমিকা ———– ৫
২.৪ নাটকের উন্মেষ —————— ৬
২.৫ নাটকের বিকাশ
২.৬ নাটক ও মধুসূধন
২.৭ নাটকের বিকাশে মধুসূধনের অবদান
২.৮ ———————————
২.৯ ——————————-
৩. উপসংহার
৪. সুপারিশমালা ( সমস্যামূলক টার্ম পেপারের ক্ষেত্রে )
৫. পরিশিষ্ট
বিষয় বা দফা বা আইটেমসমূহের গুরুত্ব অনুসারে বিষয়সুচিতে তার উপস্থাপনের ধরণ ঠিক করা হয়। মূল দফা বড় অক্ষরে এবং তার অন্তর্গত বিষয়সমূহ ছোট অক্ষরে লেখা হয়। সাধারণত পৃষ্ঠার বাঁয়ে দেড় ইঞ্চি মার্জিন এবং ডানে ও নীচে এক ইঞ্চি মার্জিন রেখে বিষয়সুচির অন্তর্গত বিষয়সমূহ লিখতে হয়। ভূমিকার উপরের অংশগুলো ক্রমিক নং ছাড়াই লেখা হবে এবং এগুলো বিপরীতে রোমান ছোট সংখ্যা দ্বারা পৃষ্ঠা নির্দেশ করতে হবে। ভূমিকা থেকে শুরু করে অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে পৃষ্ঠা সংখ্যা নির্দেশ করতে হবে।
২. মূল বিষয়বস্তু:
মূল বিষয়বস্তুতে দুটি উপশিরোনামে বহুবিধ বিষয় উপস্থাপন করা হয়। দুটি উপশিরোনাম হচ্ছে Ñ ভূমিকা ও মূল অংশ।
২.১ ভূমিকা (ওহঃৎড়ফঁপঃরড়হ):
টার্ম পেপারের ভূমিকা অংশে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ সাধারণত অন্তর্ভূক্ত থাকে।
ক) বিষয়ের/সমস্যার বিবরণ (ঝঃধঃবসবহঃ ড়ভ ঃযব ংঁনলবপঃ/ঢ়ৎড়নষবস): যে বিষয় বা শিরোনামের উপরে টার্ম পেপারটি রচিত হবে, তার একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এই অংশে স্থান পাবে।
খ) টার্ম পেপার প্রণয়নের উদ্দেশ্য (ঙনলবপঃরাব ড়ভ ঢ়ৎবঢ়ধৎরহম ঃযব ঃবৎস ঢ়ধঢ়বৎ)ঃ টার্ম পেপারটি কেন রচিত হচ্ছে তার কারণ এবং প্রণীত হওয়ার ফলাফল উল্লেখ করা হয়। যেমন অনার্সের ক্ষেত্রে টার্ম পেপার প্রণয়নের উদ্দেশ্য হিসেবে নিম্নের বিষয়গুলো উল্লেখ করা যেতে পারে।
- পাঠ্যক্রমের আবশ্যিক অংশ হিসেবে এটি রচিত।
- গবেষণাপত্র প্রণয়নের অনুশীলন হিসেবে এটি পরবর্তীতে সহায়ক হবে।
- যে বিষয়ে টার্মপেপার প্রণীত হলো সে বিষয়ে অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা করা ও সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা অর্জিত হয়েছে।
- পরবর্তীতে এ বিষয়ে গবেষণাকারীদের সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গ) টার্ম পেপারের পরিসীমা (ঝপড়ঢ়ব ড়ভ ঃযব ঃবৎসঢ়ধঢ়বৎ): টার্ম পেপারের আওতা বা পরিসর সম্পর্কে অর্থাৎ কী কী বিষয় এর অন্তর্ভূক্ত থাকবে তা এই অংশে উল্লেখ থাকবে। টার্ম পেপারের মূল বিষয়বস্তু অংশে সন্নিবিষ্ট অনুচ্ছেদ/অধ্যায়ের শিরোনামসমূহ পরিসীমায় উল্লেখ করতে হবে।
ঘ) উপাত্তের উৎস ও সংগ্রহের পদ্ধতি (ঝড়ঁৎপবং ধহফ সবঃযড়ফং ড়ভ পড়ষষবপঃরহম ফধঃধ): টার্মপেপার রচনার জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত ও তথ্য সংগ্রহের উৎস ও পদ্ধতি উল্লেক করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানগত যে সকল পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। উপাত্তের উৎসও উল্লেখ করতে হবে।
ঙ) সংজ্ঞা (উবভরহরঃরড়হ): টার্মপেপারে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রত্যয় বা টার্ম- এর ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞায়িত করা হয়।
চ) সীমাবদ্ধতা (খরসরঃধঃরড়হ): টার্ম পেপার মানসম্মতভাবে প্রণয়নের ক্ষেত্রে সে সকল উপাদান বাধা হয়ে দাঁড়াবে বা দাঁড়িয়েছে তার উল্লেখ থাকবে। যেমন, সময়স্বল্পতা, তথ্যসংগ্রহে বাধা, উপাত্ত ও তথ্যের অপ্রতুলতা ইত্যাদি।
ছ) গবেষণালব্ধ ফলাফলের সারসংক্ষেপ (ঝঁসসধৎু ড়ভ ভরহফরহমং) ঃ গবেষণালব্ধ ফলাফলের সারাংশ উপস্থাপন করতে হয়।
২.২ মূল অংশ (গধরহ নড়ফু)
সারবস্তু এখানে বিবৃত হয়। কয়েকটি বড় অধ্যায়/ অনুচ্ছেদ /অংশে বিভক্ত থাকবে। এই অংশে সংগৃহীত উপাত্ত, তথ্য, ধারণা ইত্যাদির বিস্তারিত বিবরণ থাকবে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ থাকবে। মূল অংশ লেখার সময় সুচিন্তিতভাবে স্থির করতে হয় ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ কতটা বিস্তারিত হবে। এই বিস্তারের উপর নির্ভর করে অধ্যায় শিরোনাম ও উপশিরোনামসমূহ স্থির করা হয়।
তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রাপ্ত ফলাফল (অহধষুংরং ড়ভ রহভড়ৎসধঃরড়হং ্ ভরহফরহমং): এ অংশে অনুসন্ধানলব্ধ তথ্যের বিশ্লেষণ, ফলাফল এবং প্রণয়নকারীর সমাপনী মন্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
সুপারিশমালা (জবপড়সসবহফধঃরড়হং): অনুসন্ধানলব্ধ ফলাফল এবং ফলাফলের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এ বিষয়ের সমস্যা সমাধানের যুক্তিনিষ্ঠ কিছু সুপারিশ থাকলে তা দিতে হবে।
৩. পরিপূরক অংশ:
পরিশিষ্ট: মূল অংশে উপস্থাপিত বিষয়ের ব্যাখ্যার স্বরূপ দেওয়া প্রয়োজন , কিন্তু মূল অংশে সন্নিবেশিত করার পক্ষে আয়তনে বড় কিংবা মূল বিষয়ের প্রতি পাঠকের মনোযোগ বাধাগ্রস্থ হয় এমন সকল সামগ্রী পরিশিষ্টে স্থান পায়। সাধারণত উপাত্ত ও তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত প্রশ্নমালা, বিস্তারিত হিসাব, নমুনা দলিল ইত্যাদি পরিশিষ্টে স্থান পায়।
মূল অংশে মূল বিষয় বিবৃত করার সময় অবশ্যই পরিশিষ্টের অন্তর্ভূক্ত বিষয়সমূহের উল্লেখ করতে হবে। পরিশিষ্টে একাধিক বিষয় অন্তর্ভূক্ত থাকলে ক, খ, গ বা অ, ই, ঈ দ্বারা ক্রম নির্দেশ করতে হবে।
রেফারেন্স তালিকা:
টার্মপেপার রচনা করতে গিয়ে সে সকল গ্রন্থ বা প্রবন্ধ থেকে তথ্য গ্রহণ করা হয় বা উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়, পরিপূরক অংশে রেফারেন্স তালিকা শিরোনামে সে সকল গ্রন্থ বা বর্ণানুক্রমিক প্রবন্ধের একটি তালিকা প্রদান করা আবশ্যক। অনেক সময় মূল অংশে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্রমানুসারেও রেফারেন্স তালিকা প্রণয়ন করা হয়। যদি গ্রন্থ বা প্রবন্ধের সংখ্যা স্বল্প হয়, তাহলে রেফারেন্স তালিকার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় পাদটীকা প্রদান করতে হবে। পাদটীকার প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য উপযুক্ত তারকাচিন্হ বা কোনো সংখ্যা ব্যবহার করা যেতে পারে। নমুনা-
সালিম আলী: বনের গান, আগমনী প্রকাশনী, ঢাকা, ১৯৮৬, পৃষ্ঠাঃ ১২Ñ১৩
সহায়ক গ্রন্থপঞ্জী
টার্মপেপার রচনার আগে বা রচনাকালে সে সকল প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত গ্রন্থ, প্রবন্ধ, রচনা, গবেষণাপত্র বা যে কোনো ধরনের লেখা সহায়তা করেছে বা লেখকের ধারণা সৃষ্টিতে সাহায্য করেছে তার বর্ণানুক্রমিক তালিকাই ইরনষরড়মৎধঢ়যু বা গ্রন্থপঞ্জী বা গ্রন্থনির্দেশিকা। নমুনা ঃ
আবদুল হাই, মুহম্মদ। ১৯৯৬। মুহম্মদ আবদুল হাই রচনাবলি, তৃতীয় খ-; ঢাকা, বাংলা একাডেমী।
রফিকুল ইসলাম। ১৯৯২। ভাষাতত্ত্ব। ঢাকা; বুক ভিউ।
প্রসঙ্গ-কথা/কৃতজ্ঞতাস্বীকার- এর একটি নমুনা:
অনার্স ক্লাসে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই যে-কোনো বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র বা অনুসন্ধানমূলক নিবন্ধ রচনার বাসনা ছিল। পাঠ্যসুচিতে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে টার্ম পেপার যুক্ত করার ফলে সে বাসনা পূরণের সুযোগ এসেছে। মধুসূদন আমার খুবই প্রিয়। মহাকবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তার আবির্ভাব নাটকের মধ্যে দিয়ে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার একটা প্রবল আগ্রহ ছিল। টার্ম পেপারের শিরোনাম হিসেবে বাংলা নাটকে মধুসূদনের অবদান বিষয়টি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। বাংলা বিভাগের —–অধ্যাপক/প্রভাষক, ——— ——– এর কাছে খুবই কৃতজ্ঞ এ রকম একটি শিরোনাম নির্ধারণ করার জন্য। তিনি এ ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।
বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকের রইল আন্তরিক অভিনন্দন, যারা আমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে এ টার্মপেপার রচনায় সাহায্য করেছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার সহপাঠীদের যারা আমার বিভিন্ন সময় আলোচনার মাধ্যমে এ নিবন্ধ রচনাকে উৎকৃষ্ট করছে।
সেমিনারের জনাব ———————– প্রয়োজনীয় বই প্রদান করে যে উপকার করেছেন, তা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সে ঋণ পরিশোধের নয়।
আমার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করি। এ রচনা যদি কারো কোনো উপকারে আসে তবে এ পরিশ্রম সার্থক হবে।
নাম ও পরিচিতি ।
জুলেখা
মাস্টর্স শ্রেণি
রোল 123
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন বাংলা বিভাগ সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
One Response