বনলতা সেন কাব্যের অতি সংক্ষিপ্ত (ক্যুইজ) প্রশ্নোত্তর


বনলতা সেন কাব্য – জীবনানন্দ দাশ
ভূমিকা: জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ আধুনিক বাংলা কাব্যধারার এক অনন্য সৃষ্টি। এই কাব্যে কবি ব্যক্তিগত জীবনবোধ, নিঃসঙ্গতা, সময়বোধ ও ইতিহাসচেতনা বা অতীতের প্রতি আকুলতার সঙ্গে মানবজীবনের চিরন্তন ক্লান্তি , হতাশা, বন্ধ্যাত্ব, যুগযন্ত্রণা এবং তা থেকে উত্তোরণের জন্য আশ্রয়ের সন্ধানকে কাব্যিকভাবে প্রকাশ করেছেন। এখানে প্রকৃতি, নারী ও স্মৃতি মিলেমিশে এক রহস্যময় নন্দনভুবন তৈরি করেছে। বনলতা সেন কাব্যটি উপমা, চিত্রকল্প, ইন্দ্রিয়ঘনত্বসহ আধুনিক সাহিত্যনন্দনতত্ত্বের বহুবিধ ব্যবহারে অনন্য।
- বনলতা সেন কাব্যের কবি কে?
উত্তর জীবনানন্দ দাশ।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ও মৃত্যু কত সালে?
উত্তরঃ জন্ম ১৮৯৯ সালে, মৃত্যু ১৯৫৪ সালে।
- জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোথায়?
উত্তর: বরিশাল।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ ঝরা পালক (১৯২৮)।
- বনলতা সেন কাব্যের মোট কবিতা কতটি?
উত্তর: ৩০টি।
- কবিতাগুলোর নাম লেখ।
উত্তর:
- বনলতা সেন,
- কুড়ি বছর পর,
- হাওয়ার রাত,
- আমি যদি হতাম,
- ঘাস,
- হায় চিল,
- বুনো হাঁস,
- শঙ্খমালা,
- নগ্ন নির্জন হাত,
- শিকার
- হরিণেরা,
- বেড়াল,
- সুদর্শনা,
- অন্ধকার,
- কমলালেবু,
- শ্যামলী,
- দুজন,
- অবশেষে,
- স্বপ্নের ধ্বনিরা,
- আমাকে তুমি,
- তুমি,
- ধান কাটা হয়ে গেছে,
- শিরীষের ডালপালা,
- হাজার বছর ধরে শুধু খেলা করে,
- সুরঞ্জনা,
- মিত ভাষণ,
- সবিতা,
- সুচেতনা,
- অঘ্রান প্রান্তরে,
- পথ হাঁটা
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যে কোন উপাধিতে খ্যাত?
উত্তর: রূপসী বাংলার কবি।
- জীবনানন্দ দাশের বহুল পরিচিত কবিতা কোনটি?
উত্তর: বনলতা সেন।
- জীবনানন্দ দাশের কাব্যের বিশেষত্ব কী?
উত্তর: ইতিহাস চেতনা, সময় চেতনা, তিমির হনন, বন্ধ্যা যুগের রূপকল্প, পৌরাণিক উপমা-চিত্রকল্প ইত্যাদি, অচরিতার্থ প্রেম, হতাশা, ব্যর্থতা, অবসাদ, মৃত্যু চেতনা, সমাজ চেতনা,
- জীবনানন্দ দাশকে কী বলা হয়?
উত্তর: বিপন্ন মানবতার নীলকণ্ঠ কবি।
- রবীন্দ্রকাব্য সম্পর্কে জীবনানন্দ দাশ কী মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: রবীন্দ্র প্রভাবে বাংলা কাব্যের মুক্তি নেই।
- জীবনানন্দ দাশের প্রিয় ঋতু কোনটি?
উত্তর: হেমন্ত।
- হেমন্ত ঋতু জীবনানন্দ দাশের কিসের প্রতীক হয়ে দেখা দিয়েছে?
উত্তর: বন্ধ্যা যুগের।
- ‘হায় চিল’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
উত্তরঃ ‘বনলতা সেন’ কাব্যের।
- ‘হায় চিল’ কবিতাটির সাথে কোন কবির কোন কবিতার মিল রয়েছে?
উত্তর: ইয়েটসের-He Reproves the Curlew
- ‘বনলতা সেন’ কবিতাটির সাথে কোন কবির কোন কবিতার মিল আছে?
উত্তর: কবি এডগার এলান পো-এর ‘টু হেলেন’ কবিতার সাথে।
বনলতা সেন কবিতা
- কবি কত বছর ধরে কোথায় পথ হাঁটছেন?
উত্তর ; হাজার বছর ধরে, পৃথিবীর পথে।
- কোথায় কোথায় চলেছেন ?
উত্তর: সিংহল, মালয়, বিম্বসার, বিদর্ভ নগরে,
- বনলতা সেনের বাড়ি কোথায় ?
উত্তর নাটোরে।
- কবিকে শান্তি দিয়েছিল কে?
উত্তর: নাটোরের বনলতা সেন, তাও দুদণ্ডের মতো।
- শিশিরের শব্দের মতো কে আসে?
উত্তর সন্ধ্যা আসে।
- ডানার রোদ্রের গন্ধ কে মুছে ফেলে?
উত্তর চিল।
- পাণ্ডুলিপি কখন আয়োজন করে?
উত্তর : পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে।
- রঙ নিভে যাওয়া কীসের প্রতীক?
উত্তর: মৃত্যু চেতনার।
- জীবনের লেনাদেনা মিটিয়ে কবি কার মুখোমুখি হতে চান?
উত্তর বনলতা সেনের।
কুড়ি বছর পরে কবিতা
- কুড়ি বছর পর কবি কার সাথে দেখা হওয়ার বাসনা করেন?
উত্তর: প্রেমিকের সাথে।
- কোন মাসে দেখা হবে বলে মনে করেন?
উত্তর : কার্তিক মাসে।
- এখানে কোন কোন প্রাণীর কথা আছে?
উত্তর: কাক, হাঁস, চিল আর পেঁচা।
- সোনালি চিলকে কে নিয়ে গেছে?
উত্তর: শিশির শিকার করে নিয়ে গেছে।
- মেঠো পথে দেখা হলে সেখানে গাছের আড়ালে কে উঁকি দিবে?
উত্তর: চাঁদ।
- জীবনানন্দ দাশ কোন ধরনের প্রেমের কবি?
উত্তর: যে প্রেম শেষ হয়ে গেছে, যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, সেই
অচরিতার্থ প্রেমের কবি।
- জীবনানন্দ দাশের উপমার উদাহরণ দাও।
উত্তর: পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে।
- জীবনানন্দ দাশের ইন্দ্রিয়ঘনত্ব বিষয়ক দু’টি কবিতার নাম বল।
উত্তর : হাওয়ার রাত, নগ্ন নির্জন হাত।
- আলোর মাধ্যমে সবকিছু দেখতে গিয়ে জীবনানন্দ দাশ প্রেমকে কী বলেছেন?
উত্তর: মণিকা আলো।
- জীবনানন্দ দাশ সময়কে জোনাকির আলোকের মতো দেখছেন কোন কবিতায়?
উত্তর: ‘হাজার বছর শুধু খেলা করে’ কবিতায়।
- জীবনানন্দ দাশ ভোরের আলোর প্রতীকে কোন বিষয়কে তুলে এনেছেন?
উত্তর: নতুন যুগের সম্ভাবনাকে।
- হাওয়ার রাত কবিতায় অসংখ্য কী দেখা যায়?
উত্তর: নক্ষত্রের।
- মশারিটা কীসের মতো ফুলে ওঠে?
উত্তর? মৌশুমী সমুদ্রের পেটের মতো।
- মশারিটাকে কবি কোথায় দেখে?
উত্তর: স্বাতী তারার কাছে সমুদ্রের সাদা বকের মতো উড়তে।
- আকাশে জেড়ে ওঠা মৃত নক্ষত্রের মাঝে কবি কাদের দেখে?
উত্তর:পৃথিবীর সমস্ত ধূসর প্রিয় মৃতদের মুখ।
- জীবনানন্দ দাশের যেসব কবিতায় মৃত্যুভাবনা উঠে এসেছে তাদের নাম বল।
উত্তর:, বনলতা সেন, শিকার প্রভৃতি
- জীবনানন্দ দাশ কোথায় ক্লান্তি নেই বলে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: লাশকাটা ঘরে।
- জীবনানন্দ দাশের কোন কোন কবিতায় ইতিহাস চেতনা উচ্চকিত?
উত্তর : অস্ত চাঁদে, বনলতা সেন, নগ্ন নির্জন হাত, সুরঞ্জনা, মিতভাষণ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে জীবনানন্দ দাশের কী মনে হয়েছে?
উত্তর: কালরাত্রি, অপব্যয়ী অক্লান্ত আগুন, পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ।
- কবি কতদিন ধরে পৃথিবীর পথে হাঁটছেন?
উত্তর: হাজার বছর ধরে।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কবি কোথায় কোথায় ঘুরেছেন?
উত্তরঃ সিংহল, মালয় সাগরে, বিম্বিসা, বিদর্ভ নগর।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় ক্লান্ত কবিকে কে দু’দণ্ড শাস্তি দিয়েছিল?
উত্তর: নাটোরের বনলতা সেন।
- বনলতা সেনের চুলের স্বরূপ কী?
উত্তর: বিধ্বস্ত বিদিশা নগরীর রাত্রিকালীন অন্ধকারের মতো কালো বনলতা সেনের চুল।
- বনলতা সেনের মুখের সৌন্দর্য কিরূপ?
উত্তর: কারুকার্য করা শ্রাবস্তীর মতো।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কোন দ্বীপের উল্লেখ আছে?
উত্তর: দারুচিনি দ্বীপ।
- কিসের সাথে বনলতা সেনের চোখ তুল্য?
উত্তর: পাখির নীড়ের সাথে।
- পাখির নীড় বলতে বনলতা সেন কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : শান্তির আশ্রয়স্থল।
- শিশিরের শব্দের মতো কী নামে?
উত্তর: সন্ধ্যা।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কোন কোন প্রাণীর উল্লেখ আছে?
উত্তর: চিল এবং জোনাকি।
- ‘কুড়ি বছর পর’ কবিতায় তোমার-আমার কত বছর পর কোন সময় দেখা হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কুড়ি বছর পর, কার্তিক মাসে।
- ‘কুড়ি বছর পর’ কবিতাটিতে ক’টি প্রাণির উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ ৫টি। কাক, হাঁস, পাখি, পেঁচা , চিল।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় সারারাত বিস্তীর্ণ হাওয়া কোথায় খেলা করেছে?
উত্তর: কবির মশারিতে।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় আকাশে একতিল ফাঁক ছিল না কেন?
উত্তর : সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা জেগে ওঠায়।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় নক্ষত্রের ভেতর কবি কী দেখেছেন?
উত্তর: প্রিয় মৃতদের মুখ।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় কবি যে রূপসীদের এশিয়া, মিশর, বিদিশায় মরে যেতে দেখেছেন তাদেরকে কী অবস্থায় দেখেছেন?
উত্তর: দীর্ঘ বর্শা হাতে তাদেরকে কাতারে কাতারে দাঁড়ানো দেখেছেন কবি
- কিসের সাথে বনলতা সেনের চোখ তুল্য?
উত্তর: পাখির নীড়ের সাথে।
- পাখির নীড় বলতে বনলতা সেন কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : শান্তির আশ্রয়স্থল।
- শিশিরের শব্দের মতো কী নামে?
উত্তর: সন্ধ্যা।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কোন কোন প্রাণীর উল্লেখ আছে?
উত্তর: চিল এবং জোনাকি।
- ‘কুড়ি বছর পর’ কবিতায় তোমার-আমার কত বছর পর কোন সময় দেখা হওয়ারকথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কুড়ি বছর পর, কার্তিক মাসে।
- ‘কুড়ি বছর পর’ কবিতাটিতে ক’টি প্রাণির উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ ৫টি। কাক, হাঁস, পাখি, পেঁচা , চিল।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় সারারাত বিস্তীর্ণ হাওয়া কোথায় খেলা করেছে?
উত্তর: কবির মশারিতে।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় আকাশে একতিল ফাঁক ছিল না কেন?
উত্তর : সমস্ত মৃত নক্ষত্রেরা জেগে ওঠায়।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় নক্ষত্রের ভেতর কবি কী দেখেছেন?
উত্তর: প্রিয় মৃতদের মুখ।
- ‘হাওয়ার রাত’ কবিতায় উল্লিখিত তিনটি বন্য প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: সিংহ, জেব্রা, বাঘিনী।
- ‘আমি যদি হতাম’ কবিতায় কবি কী হওয়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: বনহংস।
- ‘আমি যদি হতাম’ কবিতায় কবি ফাগুনের চাঁদকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: সোনার ডিমের সাথে।
- ‘ঘাস’ কবিতায় হরিণেরা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে কোন ধরনের ঘাস?
উত্তর: কাঁচা বাতাবির মতো সবুজ ঘাস।
- ‘হায় চিল’ কবিতায় চিল কেঁদে কেঁদে কোথায় উড়ছে?
উত্তর: ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে।
- চিলের কান্নার সুরে কবির কী মনে আসে?
উত্তর: বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে।
- ‘বুনো হাঁস’ কবিতায় এঞ্জিনের শব্দের মতো কারা ছুটছে?
উত্তরঃ বুনো হাঁস পাখা মেলে ছুটছে।
- ‘বুনো হাঁস’ কবিতায় কার মুখ মনে পড়ার কথা আছে?
উত্তর: পাড়াগাঁর অরুনিমা সান্যালের মুখ।
- ‘শঙ্খমালা’ কবিতায় কবিকে কে চেয়েছে?
উত্তর: কোনো এক নারী।
- ‘শঙ্খমালা’ কবিতায় কোনো এক নারী কবিকে কীভাবে খুঁজেছে?
উত্তর: নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে খুঁজেছে।
- ‘শঙ্খমালা’ কবিতায় কবি কীরকম চাঁদের কথা বলেছেন?
উত্তর: শিঙের মতন বাঁকা নীল চাঁদ।
- ‘শঙ্খমালা’ কবিতায় কবি কীরকম মুখের কথা বলেছেন?
উত্তর: কড়ির মতো শাদা মুখ।
- ‘শঙ্খমালা’ কবিতায় অন্ধকার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন?
উত্তর: শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার।
- নগ্ন নির্জন হাত’ কবিতায় অন্ধকার কিসের মতো?
উত্তরঃ সহোদরার মতো।
- ‘নগ্ন নির্জন হাত’ কবিতায় ‘কোনো এক নগরী ছিল একদিন’ কোথায়?
উত্তর: ভারত সমুদ্রতীরে, ভূমধ্যসাগরে বা টায়ার সিন্ধুর পারে।
- ‘নগ্ন নির্জন হাত’ কবিতায় কোন প্রাসাদে কী ধরনের আসবাব ছিল?
উত্তর: পারস্য গালিচা, কাশ্মিরী শাল, বেরিন তরঙ্গের নিটোল মুক্তা প্রবাল।
- ‘নগ্ন নির্জন হাত’ কবিতায় উল্লিখিত রোদের রঙ কী?
উত্তর: কমলা।
- ‘শিকার’ কবিতায় পেয়ারা ও নোনার গাছ কিসের মতো সবুজ বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
উত্তর : টিয়ার পালকের মতো।
- ‘শিকার’ কবিতায় আগুন কিসের মতো লাল?
উত্তর: মোরগ ফুলের মতো লাল।
- ‘শিকার’ কবিতায় শিকারীরা কী শিকার করে?
উত্তর: হরিণীকে।
- ‘হরিণেরা’ কবিতায় হীরের প্রদীপ জ্বেলে কে হাসে?
উত্তর: শেফালিকা বোস হাসে।
- ‘হরিণেরা’ কবিতায় হরিণেরা কিসের মধ্যে খেলা করে?
উত্তরঃ হাওয়া আর হীরার আলোকে, হাওয়া আর মুক্তার আলোকে
- ‘শাদা থাবা বুলিয়ে বুলিয়ে খেলা করতে দেখলাম তাকে।’
- ‘বিড়াল’ কবিতায় কবি কার কথা বলেছেন?
উত্তর। বিড়ালের কথা।
- ‘সুদর্শনা’ কবিতায় সুদর্শনার শরীরকে কবি কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তরঃ এই পৃথিবীর ভালো পরিচিত রোদের সাথে।
- ‘অন্ধকার’ কবিতায় কবি পউষের রাতে কোথায় শুয়েছিলেন?
উত্তর: ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে।
- ‘অন্ধকার’ কবিতায় কী হিসেবে কবি পৃথিবীর মুখোমুখি দাঁড়াবার নির্দেশ পেয়েছেন?
উত্তর: মানুষিক সৈনিক সেজে।
- ‘অন্ধকার’ কবিতায় কীসের আর্তনাদে উৎসব শুরু হয়েছে বলে কবির মনে হয়েছে?
উত্তর। কোটি কোটি শুয়োরের।
- ‘অন্ধকার’ কবিতায় ভয়াবহ আরতি বলতে কবি কিসের কথা বলেছেন?
উত্তর: শত শত শূকরের চিৎকার, শত শত শূকরীর প্রসব বেদনার আড়ম্বরকে কবি ভয়াবহ আরতি বলেছেন।
- ‘কমলালেবু’ কবিতায় কবি আবার পৃথিবীতে কীভাবে ফিরে আসতে চান?
উত্তর: একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে।
- ‘শ্যামলী’ কবিতায় শ্যামলীর মুখের স্বরূপ কী?
উত্তর: শ্যামলীর মুখ সেকালের শক্তির মতন।
- ‘দু’জন’ কবিতায় শালিক তার হলুদ কঠিন ঠ্যাং উঁচু করে কোথায় ঘুমাবে?
উত্তর: শিশিরের জলে।
- ‘অবশেষে’ কবিতায় বিকেলের গাছগুলো কিসের মতো শান্ত থাকে?
উত্তরঃ অতিকায় হরিণের মতো।
- ‘অন্ধকারে ঠেস দিয়ে জেগে রব / বাঁদুড়ের আঁকাবাঁকা আকাশের মতো।’-এটি কোন কবিতার অংশ?
উত্তরঃ ‘বনলতা সেন’ কাব্যের ‘স্বপ্নের ধ্বনিরা’ কবিতার।
- ‘আমাকে তুমি’ কবিতায় কবিকে কী দেখিয়েছিল?
উত্তর : মস্তবড় ময়দান।
- ‘আমাকে তুমি’ কবিতায় দুপুরের বাতাস কী করে?
উত্তরঃ খররৌদ্রে পা ছড়িয়ে বর্ষীয়সী রূপসীর মতো ধান ভানে গান গায়।
- ‘আমাকে তুমি’ কবিতায় অসম্ভব বিষন্নতা নেমে আসে কীভাবে?
উত্তর: শ্মশানের চন্দন কাঠের চিতার গন্ধ, আগুনের ঘিয়ের ঘ্রাণ পাওয়া গেলে অসম্ভব বিষণ্ণতা নেমে আসে।
- ‘কাঁচ পোকা ঘুমিয়েছে- গঙ্গাফড়িং সেও ঘুমে’- উদ্ধৃতিটুকু বনলতা সেন কাব্যের কোন কবিতার?
উত্তরঃ ‘ তুমি’ কবিতার।
- ‘ওইখানে একজন শুয়ে আছে’-‘ধান কাটা হয়ে গেছে’ কবিতায় ‘ওইখান’ বলতে কোন স্থানের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : ধান কাটা হয়ে যাওয়া মাঠের ভিতর।
- শিরীষের ডালপালা’ কবিতায় বিকেল নদীকে কী বলেছে?
উত্তরঃ শান্ত হতে।
- ‘শিরীষের ডালপালা’ কবিতায় বিকেলের মেঘে কী লেপে আছে?
উত্তর: শিরীষের ডালপালা লেগে আছে।
- হাজার বছর অন্ধকারে কীভাবে খেলা করে?
উত্তর: জোনাকির মতো খেলা করে।
- ‘সুরঞ্জনা’ কবিতায় সুরঞ্জনার বয়স কত?
উত্তর: পৃথিবীর বয়সের সমান।
- ‘মিতভাষণ’ কবিতা অবলম্বনে কবির কাছে এখনও নারী অর্থ কী?
উত্তর: এখানো নারী অর্থ তুমি।
- ‘সবিতা’ কবিতা অবলম্বনে আমরা কখন কাদের সাথে মানুষ জন্য পেয়েছি?
উত্তর: ভূমধ্যসাগর ঘিরে যেসব মানুষ বাস করে তাদের সাথে কোনো এক বসন্তের রাতে আমরাও মানব জন্য পেয়েছি।
- ‘সুচেতনা’ কবিতায় সুচেতনাকে কবি কি আখ্যা দিয়েছেন?
উত্তর: সুচেতনাকে কবি দূরতর দ্বীপ বলেছেন।
- ‘বনলতা সেন’ কাব্যের কোন কোন কবিতায় দারুচিনি দ্বীপের উল্লেখ আছে?
উত্তর: বনলতা সেন এবং সুচেতনা কবিতায়।
- ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবি কলকাতার কী ভবিষ্যৎ নির্ণয় করেছেন?
উত্তর : কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে।
- ‘সুচেতনা’ কবিতা অনুসারে মানুষ এখনও কার কাছে ঋণী?
উত্তর: পৃথিবীর কাছে।
- ‘সুচেতনা’ কবিতা অবলম্বনে জাহাজ বন্দরে ভেড়ে কোন ফসল নিয়ে?
উত্তর: অগণন মানুষের লাশ নিয়ে।
- ‘সুচেতনা’ কবিতা অবলম্বনে পৃথিবীর ক্রমযুক্তি হবে কোন পথে?
উত্তর: শতাব্দীর মনীষীর আলো জ্বালার মধ্যে দিয়েই পৃথিবীর মুক্তি আসবে।
- ‘অঘ্রাণ প্রান্তরে’ কবিতায় লেখক কী জানেন?
উত্তর: লেখক জানেন তার প্রিয়ার দু’চোখ আর তাকে পৃথিবীর উপরে খোঁজে না।
- অঘ্রাণ প্রান্তরে’ কবিতায় বাবলার আঁধার গলিতে কে, কীভাবে নেমে আসে?
উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচা হিজলের ফাঁক দিয়ে বাবলার আঁধার গলিতে নেমে যায়।
- ‘পথ হাঁটা’ কবিতায় কোনো এক ইশারা মনে রেখে কবি কী করেন?
উত্তর: কবি শহরের পথ থেকে পথে হেঁটে বেড়ান।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় কবিতার সংখ্যা কত?
উত্তর: ৩০টি।
- ‘বনলতা সেন’ কাব্যের প্রথম ও শেষ কবিতা কী?
উত্তর: প্রথম কবিতা বনলতা সেন, শেষ কবিতা পথ হাঁটা
উপসংহার:
বনলতা সেন কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি আধুনিক মানুষের অন্তর্লোকের প্রতিচ্ছবি। জীবনের ক্লান্ত পথে হারিয়ে যাওয়া মানুষের আশ্রয় ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে ওঠে বনলতা সেন। তাই এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে চিরকাল জীবন্ত থাকবে এক অনুপম সংবেদন ও নান্দনিকতার স্মারক হিসেবে। আধুনিক মানুষের তথা আধুনিক জীবনবোধের এক অসাধারণ চিত্রকল্প বনলতা সেন কাব্য।
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন বাংলা বিভাগ সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।
ধন্যবাদ স্যার