কাজী আবদুল ওদুদের ‘ব্যর্থতার প্রতিকার’ প্রবন্ধ অবলম্বনে প্রদেশে হিন্দু-মুসলমানদের মিলন প্রয়াসে ব্যর্থতার কারণ ও প্রতিকারের স্বরূপ তুলে ধর।

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর

ব্যর্থতার প্রতিকার

মুক্তবুদ্ধির ধারক, মননশীল প্রবন্ধকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সক্রিয়, ‘শিখা’ গোষ্ঠীর অন্যতম সারথি কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪-১৯৭০) ছিলেন অসা¤প্রদায়িক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনি ধর্মের প্রকৃতরূপ অনুসন্ধানে সচেষ্ট থেকেছেন। এই মানবপ্রেমিক প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যিক নিজেকে ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও জাতীয় অভিমানের উর্ধ্বে উঠাতে পেরেছিলেন। প্রদেশের হিন্দু-মুসলমানদের বিরোধ নিরসন করতে তাদের মিলনের কথাই বলেছেন তিনি। তিনি রাজনৈতিক ছিলেন না তবু হিন্দু-মুসলমান বিরোধ প্রসঙ্গে যথেষ্ট প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ব্যর্থতার প্রতিকার প্রবন্ধে এ সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কাজী আবদুল ওদুদ ( ব্যর্থতার প্রতিকার প্রবন্ধ)

কাজী আবদুল ওদুদের সমকালে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ বেড়ে যায়। রাজনৈতিক সা¤প্রদায়িকতার খপ্পরে পড়ে। এ সময় কম্যুনিজমও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। হিন্দু-মুসলমানের তিক্ত সম্পর্কে প্রেক্ষাপটে কোনো অসা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মকান্ডও তখন গড়ে ওঠে নি।

এ রকম পরিস্থিতিতে কাজী আবদুল ওদুদ তাঁর অসাম্প্রদায়িক বিশুদ্ধ জাতীয়তাবোধ মন নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি হিন্দু জাতীয়তা, মুসলিম জাতীয়তা অন্যকথায় হিন্দু-মুসলিম সা¤প্রদায়িকতা এবং এই ভিত্তিতে ভারত বিভাগ সমর্থন করেন নি। হিন্দু-মুসলমানের মিলন প্রয়াসে লেখেন ব্যর্থতার প্রতিকার প্রবন্ধ।

প্রাবন্ধিক নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের স্বরূপ নির্ণয় করে তার মীমাংসা সম্পর্কে কিছু কথা বলেছেন। ১৯৩৫ সালে কাজী আবদুল ওদুদ বিশ্বভারতীতে ‘হিন্দু মুসলমানের বিরোধ’ সম্পর্কে নিজাম বক্তৃতা দেন। এ সম্পর্কে ১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেনÑএদেশের হিন্দু-মুসলমান বিরোধের বিভীষিকায় মন যখন হতাশ্বাস হয়ে পড়ে; এ বর্বরতার অন্ত কোথায় ভেবে পাই না, তখন মাঝে মাঝে দূরে দূরে সহসা দেখতে পাই দুই বিপরীত কূলকে দুই বাহু দিয়ে আপন করে আছে এমন একটি সেতু।

কাজী আবদুল ওদুদ হলেন সেই মিলন সেতু। তই রবীন্দ্রনাথ তাঁকে নমস্কার করেছেন। ওদুদের মননশীলতা, তাঁর পক্ষপাতহীন সূ² বিচারশক্তি, বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর প্রকাশ শক্তির বিশিষ্টতা দেখে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী বিদ্যাভবনে ভাষণ দেবার জন্য আহবান জানান।

বিশ্বভারতীতে ‘হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ’ সম্পর্কে কাজী আবদুল ওদুদ তিনটি ভাষণ দেন। তিনটি ভাষণের শিরোনাম ছিল যথাক্রমে ‘মুসলমানের পরিচয়’, ব্যর্থতার প্রতিকার, ও ‘দেশের জাগরণ’। এই তিনটির মধ্যে ‘মুসলমানের পরিচয়’ ও ‘ব্যর্থতার প্রতিকার’ প্রবন্ধ দুটি ‘শাশ্বত বঙ্গ’ প্রবন্ধ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।

প্রাবন্ধিক মনে করতেন যে, হিন্দু মুসলমানের বিরোধ ইংরেজ রাজনীতির প্রভাবজাত কিংবা সা¤প্রদায়িক ইতিহাসের ঘটনা নয়, এ বিরোধ অনেক দিনের। স্বদেশী আন্দোলনের আগেও যে দাঙ্গা হয়েছে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছেন-


বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে ফরিদপুরে ও যশোরে মুসলমান চাষি ও নমঃশুদ্রের ভিতরে দীর্ঘকালব্যাপী একাধিক দাঙ্গা হয়েছিল। ……. মুঘল শাসনের শেষভাগে গুজরাটে ও কাশ্মীরে যে দুটি ভীষণ সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল বিখ্যাত ইতিহাস “সিয়ারুল মোত আখেরীন” এ তার উলে­খ আছে। (মুসলমানের পরিচয়)

ব্যর্থতার প্রতিকার প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ ও তাদের মিলন প্রয়াসে ব্যর্থতার কারণ ও তার প্রতিকারের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।

কাজী আবদুল ওদুদের কথা হচ্ছে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের কারণ হিসেবে ইংরেজদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ ব্রিটিশরা এদেশে তাদের শাসন ব্যবস্থার ভিত পাকা করতে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সংঘাতের মাধ্যমে তাদেরকে বিভক্ত করে রাখতে চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিরোধের মূল কারণ রয়ে গেছে দুই স¤প্রদায়ের অভ্যন্তরে। কেননা পরস্পরের মধ্যে পাকা দেওয়ালে ব্যবধান থাকা সত্তে¡ও এক চালের নিচে হিন্দু-মুসলমান আহার করতে পারে না, এমনটি হিন্দু-মুসলমানের নিষিদ্ধ আহার্য না থাকলেও।

ভেদরীতিকে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের কারণ বলে যারা মনে করেন, প্রাবন্ধিকের ধারণা, তারা সঠিক নন। হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের যত কারণই থাকুক, প্রাবন্ধিকের ভাষায়Ñ

তাদের নিজেদের বহুকালের বিকৃত বুদ্ধি যে তার মূলে একথাটা সূত্রস্বরূপ ধরে নেওয়া সঙ্গত বৈ অসঙ্গত নয়। কেননা শুধু ইতিহাস নয়, বিচার ও আত্মবিশ্বস এর অনুকূলে। (ব্যর্থতার প্রতিকার)

হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের সূচনালগ্ন থেকেই বাংলার শ্রেষ্ঠ পন্ডিতগণ এ বিরোধ নিরসনের যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। মিলনের চেষ্টাও হয়েছে। পাঠান যুগের অনেক সাধু-সন্তের বাণীতে তার পরিচয় আছে। কিন্তু এ চেষ্টা বেশ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে কবীর ও আকবরের মধ্যেই। হিন্দু-মুসলমান বিরোধ সম্পর্কে আকবরের কীর্তি হচ্ছে অহিংসা ও মৈত্রীর বাণী প্রচার। কাজী ওদুদ বলেছেন যে, হিন্দু-মুসলমান বিরোধের শ্রেষ্ঠ সমন্বয়ী কবীর, দাদু ও রজ্জবজী। তবে এদের প্রচেষ্টাও আশানুরূপ ফল লাভ করে নি। তার কারণ এদের বাণীর মধ্যে নিহিত আছে। মূলত-


“হিন্দু ও মুসলমানের যে বিরোধ দেশে জাগলো তা শুধু চিন্তাধারার বিরোধ নয়, সেই বিরোধের সামাজিক ও রাষ্ট্রিক রূপও প্রবল।”


ব্যর্থতার প্রতিকার প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মনে করেন, মানুষের বৃহত্তর জীবনের প্রয়োজন এই জ্ঞানীদের বাণীতে মেলে নি। ফলে তাঁদের বাণী বিদ্যুতের মত ক্ষণকালের জন্য আলোকিত হয়েছে মাত্র।

হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ দেব ও রবীন্দ্রনাথের চেষ্টাকে প্রাবন্ধিক শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। প্রাবন্ধিক মনে করেন তাঁরা ‘বিকাশধর্মী’ মানুষ। রামকৃষ্ণের ‘যত মত তত পথ’ বাণী হিন্দু-মুসলমান বিরোধ সামঞ্জস্যের এক বড় মন্ত্র। কাজী ওদুদ রবীন্দ্রনাথের ‘জষরমরড়হ ড়ভ গধহ’ গ্রন্থে এ মত লক্ষ্য করেছিলেন। সেখানে কবি মানুষকে দেশে কালে বিভক্ত না দেখে এক অখন্ড বিকাশমান সমাজের সভ্যরূপে দেখেছেন। প্রাবন্ধিকের ভাষায়-

“এই যে বিকাশধর্মী মানুষ সমাজজীবনে অক্লান্তভাবে সৃষ্টিশীল হয়ে চলা যার জন্য সার্থকতার পথ, এর অভ্যুদয় দেশে না হলে হিন্দু-মুসলমান বিরোধ বলতে আমাদের যে দুঃখ বোঝায় তা দূর হবে না। এই-ই আমাদেরও প্রধান নিবেদন।”

কাজী ওদুদের ধারণা, এদেশে বিকাশধর্মী মানুষের অভ্যুদয় না হলে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ দূর হবে না। তিনি মনে করেন, এজন্য ‘বড় প্রয়োজন সৃষ্টিধর্মী নব নেতাদের’; সেই নেতাদের ‘কাম্য হবে একটি নবজাতি গঠন’ এবং তাঁদের সাধানার বিষয় হবে দেশের জনসাধারণের সর্বাঙ্গীণ উৎকর্ষ। কেননা তারই ভিতর নিহিত রয়েছে দেশের রাষ্ট্র জীবনের অথবা জীবনের সত্যকার বিকাশ সম্ভাবনা। (ব্যর্থতার প্রতিকার)

ব্যর্থতার প্রতিকার’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক ধর্মমোহের সমালোচনা করেছেন। প্রাবন্ধিক বলেছেন যে, এদেশে মানুষের অন্তর্নিহিত সৃষ্টিধর্মের ব্যর্থতার কারণ ধর্মমোহ। এই মোহের কারণেই ‘হিন্দু জাগরণের প্রতিক্রিয়ায় দেশের মুসলমানদের ভিতরে বিশেষভাবে জাগালো সা¤প্রদায়িক ধর্মবুদ্ধি’। ধর্মকে যারা আগাগোড়া মোহ বলেন তাদের মতের সমালোচনা করেছেন কাজী আবদুল ওদুদ। কেনন ‘জীবনের সার্থকতা ধর্মবোধে, অর্থাৎ সত্যে অথবা কোন আদর্শে সমর্পিত চিন্তায়’। এক্ষেত্রে তাঁর অভিমত-


“প্রত্যেক ধর্ম স¤প্রদায়কে মোহ থেকে মুক্ত করে প্রকৃত ধর্মপ্রীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা।” তবেই ধর্ম বিরোধের অনেকটা মীমাংসা সম্ভব।

প্রাবন্ধিকের ধারণা যে, মাহাত্মা গান্ধীর ধর্মমত সা¤প্রদায়িক বৃদ্ধির অনুকূল। প্রত্যেক ধর্মই পূর্ণাঙ্গ। অতএব, ধর্মান্তর গ্রহণ অচিন্তনীয়। মাহাত্মা গান্ধীর এরূপ অভিমতের সমালোচনা করে প্রাবন্ধিক বলেছেন-


“তিনি যে তাদের মতে বলেছেন, স্বধর্মে নিষ্ঠাবান হতে প্রকৃত ধর্মভাব নয়, ধর্মমোহই দেশে প্রবল হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। একালের বিবর্ধিত হিন্দু-মুসলমান বিরোধের জন্য তিনি আংশিকভাবে দায়ী একথা বলা যায়।”

প্রাবন্ধিক মনে করেন যে, ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ নিরসনকল্পে ধর্ম ও সা¤প্রদায়িকতার পরিবর্তে জ্ঞান ও জাতীয়তাকে বেছে নিতে হবে। তাঁর মতেÑ “হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের মীমাংসা হবে অতীতের পূজারী হয়ে নয়, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান হবে তার লক্ষ্য। শ্রদ্ধান্বিত হতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যতের উপর। হিন্দুত্ব ও মুসলমানত্ব অতীতে যে রূপ পরিগ্রহ লাভ করেছিল, তাই ধর্মের প্রকৃত রূপ নয়। বরং-

ধর্ম ভবিষ্যতে কিভাবে মানুষের জ্ঞান ও কর্মশক্তির সূতিকাগার হবে এই-ই হওয়া চাই হিন্দু-মুসলমান সব সম্প্রদায়ের লোকদের বিশেষ সাধনার বিষয়।

কাজী ওদুদের কাম্য ছিল অসা¤প্রদায়িক বিশুদ্ধ জাতীয়তা। তাই ‘হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ’ বক্তৃতামালার শেষ প্রান্তে তিনি এক অর্ধোচ্চারিত, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি করেছেন-

“জাতি বলতে কি বোঝ হবে ? বাঙালি, মাদ্রাজি, পাঞ্জাবি ? না ভারতীয় ? ভারতবর্ষ বহুকাল ধরে একটি দেশ। ভৌগোলিক পরিস্থিতির জন্য জন্য ভারতীয় না হয়ে ভারতবাসীর পরিত্রানও নেই। তবু আপত বাঙালি, মাদ্রাজি ও পাঞ্জাবি হওয়াই বেশি ভালো মনে হয়; কেননা তা হওয়া বেশি স্বাভাবিক ও কম কষ্টসাধ্য। অবশ্য ভারতীয়ত্বের বিরোধী যে বাঙালিত্ব মাদ্রাজিত্ব বা পাঞ্জাবিত্ব, তা কদাচ কাম্য নয়।”

প্রাবন্ধিকের এ উক্তি থেকে বোঝা যায় তিনি সা¤প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভারত বিভাগ সমর্থন করেন নি।

কাজী আবদুল ওদুদ হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ বিষয়ে অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। তাঁর যুক্তিপূর্ণ কথামালার চমৎকারিত্বে বিস্ময়ের উদ্রেক হয়। কিন্তু হিন্দু-মুসলমানের এই বিরোধ থেকে কীভাবে পরিত্রান ঘটবে, বা পরিত্রানের জন্য সমাজের কী করণীয়, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ইঙ্গিত তাঁর বক্তৃতামালায় পাওয়া যায় না। তাছাড়া একটি নবজাতি গঠন কীভাবে এই বহু ধর্ম-বর্ণ-স¤প্রদায় অধ্যুষিত ভারতবর্যে সম্ভবপর হতে পারে এবং জনসাধারণের সর্বাঙ্গীণ উৎকর্ষ সাধনের জন্য কীরূপ অর্থনীতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক, সে সম্বন্ধে তাঁর বক্তৃতায় কোনো স্পষ্ট নির্দেশ নেই। তবে সমকালের পেক্ষাপটে তাঁর প্রচেষ্টাকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

আলোচনা শেষে একথা স্বীকার্য যে, প্রাবন্ধিক সব সময় কামনা করেছেন অসা¤প্রদায়িক ভারতবর্ষ। হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের কারণ উম্মোচন করে তাদের মিলন ঘটাতে চেয়েছেন। মিলন চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছে তারও সূত্র উদ্ধার করতে চেয়েছেন। তবে মিলনের উপায় হিসেবে তিনি বিশুদ্ধ জাতীয়তা চেয়েছেন। আর ভারতীয় জাতীয়ত্বের রূপ হবে পূর্ণাঙ্গ মানবদেহ ও পূর্ণাঙ্গ মানব মস্তিস্ক সৃষ্টিশক্তির প্রকাশ যার ভেতরে হবে অবাধ। ইসলাম ও বেদান্ত মানুষের সৃষ্টিশক্তিরই পরিচয় চিহ্ন। মানুষের সেই সৃষ্টিশক্তি কোনো দিন নিঃশেষিত হবে না। চিরদিন অক্লান্ত ও অম্লান থাকবে, এই-ই তার জন্ম অধিকার। সে অধিকার সত্য হওয়ার মধ্য দিয়ে হিন্দু-মুসলমান সংঘাত নিরসনের এতদিনকার ব্যর্থতার প্রতিকার সম্ভব।

খোলা পাতা – বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য

মোঃ আখতার হোসেন
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
সরকারী কে.এম.এইচ কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *