বাউল পদাবলির আবেদন বাংলার সর্বস্তরের মানবের কাছে।

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
খোলা পাতা – বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক …

বাউল পদাবলির সাহিত্যিক মূল্য বা শিল্পসৌকর্য

বাউল পদাবলি বাউল তত্ত্বের রসভাষ্য। বাউল ধর্ম সাধনার ক্রিয়া-কলাপ বাউল গানের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। তাই, ব্যক্তিগত ভাবানুভূতির প্রকাশ বা কোনো বিশিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির রূপায়ণ বাউল গানের মধ্যে খুব একটা সম্ভব নয়। বাউলেরা তাদের ধর্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লৌকিক জগৎ ও জীবনের নানা উপকরণ ব্যবহার করেছেন। তাছাড়া বাউল গান লৌকিক জীবন ঘনিষ্ট। বাউল গান লোক-সাহিত্য মাত্র নয়, এগুলো এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণের কথা। মনীষার ফসল ও সংস্কৃতির স্বাক্ষর”

লালনের পোট্রেট
লালনগীতির মানবতাবাদ

তাই, বাউল পদাবলি বা বাউল গানের মধ্যে এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণের কথা, ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। বাউল গান শেষ পর্যন্ত এ দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নানা চিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে।

বাউল পদাবলি বা বাউল গান ধর্মমূলক গান। উপমা-রূপক ব্যবহার করতে গিয়ে যেটুকু ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগের প্রকাশ ঘটেছে, তার মধ্যেই যতটুকু সাহিত্যদাস সম্ভব, তাই এর সাহিত্যিক মূল্য। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, আধুনিক কালের সাহিত্য-বিচারের মাপকাঠিতে এর বিচার করলে চলবে না।

আর কিছু না থাক ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতিটুকুই যদি সার্থকভাবে প্রকাশ পেয়ে চকৎকারিত্ব সৃষ্টি করে, তবে তার মূল্য কোনো অংশে কম নয়। সাধারণ মানুষের প্রাণের আবেগটুকু সার্থকভাবে রূপায়িত হয়েছে বলেই বাউল গানের আবেদন বাংলার সর্বস্তরের মানবের কাছে।

অশিক্ষিত প্রচারবিমুখ বাউলেরা সরল বিশ্বাস ও বাংলা মায়ের মাটির গন্ধ নিয়ে বাউল পদাবলি বা বাউল গানগুলো রচনা করেছেন। ভাবানুযায়ী পদবিন্যাস, ভাষার মার্জনা বা সচেতন ছন্দ-অলংকারের প্রয়োগ এর মধ্যে ততটা নেই। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাবানুভূতি যেভাবে এর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, তাই এর মূল বৈশিষ্ট্য।

সহজাত কবিত্বের অনুপ্রেরণায় ভাব যেভাবে প্রকাশ পাবার কথা ছন্দের আকারে তাই বেরিয়ে এসেছে। তাই,, এর ছন্দে কোনো কৃত্রিমতা নেই। তাদের ভাবানুভূতিকে সহজবোধ্য করার জন্য তারা তাদের চারপাশের চেনা-জানা জগৎ ও জীবন থেকে উপমা-রূপক ব্যবহার করেছেন। প্রকাশও করেছেন আটপৌরে ভাষায়। প্রকৃতির নিজস্ব সম্পদের মতো এ রচনা স্বাভাবিক, সহজ ও সরল। আর এর যে সৌন্দর্য, তা অযত্নে বেড়ে ওঠা বাগানের কোণে জাতি-গৌরবহীন বনফুলের সৌন্দর্য-মাধুর্যের মতো।

বাউল তত্ত্বের সাথে অনেকের মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে হৃদয়ের ঐশ্বর্যের যে প্রকাশ ঘটেছে, তার সাথে সবাই একমত হতে বাধা থাকে না। ঐশ্বর্যময় মানবিক ভাবানুভূতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা ও নৈরাশ্যের বৈচিত্র্যময় প্রকাশ বাউল গানে ঘটেছে। আর এ বৈশিষ্ট্যই বাউল গানকে সাহিত্যের সীমানায় এনে দিয়েছে।

বাউল পদাবলির ভাবানুভূতির মধ্যে রয়েছে কারুণ্য-মাধুর্য, প্রকাশভঙ্গির মধ্যে রয়েছে অকৃত্রিম সরলতা, তাই-ই এর সাহিত্যরূপ।  প্রাণের এমন সহজ সরল অকপট অভিব্যক্তিতে একটি মনোরম সাহিত্যরসের আস্বাদ আছে, ইহা একটি বিশিষ্ট সাহিত্য রস।

এদিক থেকে এ গানগুলো বাংলা সাহিত্যে একটা সাধারণ ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সম্পদ।

বাউল পদাবলি বা বাউল গান ধর্মভিত্তিক গান, তাই বিষয়-বৈচিত্র্য নেই। তবে ধর্মতত্ত্ব উপস্থাপনের ক্ষেত্রে জগৎ ও জীবনের রহস্য ও জন-জীবনের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, আচার-আচরণ, সংসার জীবনের অন্তর্নিহিত অসারতা ইত্যাদি বাউল পদাবলিতে বা বিষয় বাউল গানে ব্যক্ত হয়েছে।

এ সবের মধ্যে লোক-জীবনের হৃদয়ের স্পন্দন যেমন পাওয়া যায়, তেমনি গানের রচয়িতার একে অন্যের মধ্যে প্রভেদ ও ব্যক্তি অনুভূতির স্বাতন্ত্র্য চোখে পড়ে। বিষয়বস্তুর সীমাবদ্ধতা এবং ধর্মতত্ত্ব সাধনপ্রণালী বর্ণনার মধ্যে শুষ্কতা সত্ত্বেও গানগুলোর মধ্যে সহজ কবিত্ব-শক্তি ও সাহিত্য-রসের অনেক দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়।

বাউল পদাবলিতে প্রকাশ পেয়েছে গুরুর বন্দনা, গুরুর নিকট আত্মসমর্পণ, স্রষ্টার কাছে দীনতা প্রকাশ, দেহতত্ত্বের বর্ণনা, মনের মানুষের স্বরূপ ও লীলাখেলা বর্ণনা, সাধনার নানা পদ্ধতির ইংগিত, সাধনার কাঠিন্য ও সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের কথা, নিজের সাধন জীবনের অক্ষমতা, সাধনার পূর্ণফলের স্বরূপ ইত্যাদি বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যক্তি মানসের মাধুরী মিশিয়ে বাউল গানে ব্যক্ত করা হয়েছে। অনুভূতির গভীরতার কারণেই বাউল গানের মধ্যে কাব্য-সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

বাউলদের হৃদয়ের কাতরতার মধ্যে এ দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের ছায়াকে উপলব্ধি করেছে। তাই, বাউল গানকে এ দেশের সাধারণ মানুষ মনের কথা হিসেবেই গ্রহণ করেছে ও কদর করেছে। গুরু প্রসঙ্গে মনের কাতরতা যেভাবে সহজ অকপটভাবে প্রকাশ করেছে তাতে করুণা-মাধুর্য লক্ষ করা যায়। লালন যখন বলেন-

 গুরু দোহাই তোমার মনকে আমার                                                                                  লও গো সুপথে                                                                                                                                  তোমার দয়া বিনে তোমায় সাধব কি মতে।

বাউল পদাবলিতে তত্ত্ব কথা যা-ই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের বেদনার গভীর রূপটি প্রত্যক্ষ করা যায়। এর মধ্যে।

নানা প্রবৃত্তির জালে আবদ্ধ সাংসারিক মানুষ প্রকৃত সাধক জীবন আরম্ভ করতে পারে না। এ বিষয়ে হৃদয়ের গভীর আক্ষেপ-

এবার পরশ ছুঁয়ে সোনা হব সাধ ছিল মনে।                                                                               তা তো হলো না তা তো হলো না                                                                                                কেবল তাঁহার মিশাল জন্যে।

বাউল কবিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা সাধারণ বিষয়ের উপমা ও দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে, পল্লীজীবনের নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারগুলো তারা অনায়াসে তাদের গানের মধ্যে টেনে এনেছেন।

আজকে মানুষ সম্প্রীতি ও সাম্যের কথা বলে। অথচ বাউলেরা পরম নিষ্ঠার সাথে পথে-প্রান্তরে সম্প্রীতি ও সাম্যের কথা বলে গেছে পাঁচশ বছর আগে থেকেই। গতানুগতিক সংস্কার পীড়িত ও জাত-বিচারে আচ্ছন্ন মানুষ সম্পর্কে বাউলদের মতামত তাদের গানের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন-

সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে                                                                                          লালন কয় জেতের কিরূপ দেখলাম না এ নজরে।                                                                         কেউ মালা কেউ তসবি গলায়                                                                                             তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়                                                                                                      যাওয়া কিংবা আসার বেলায়                                                                                             জেতের চিহ্ন রয় কার রে।

ভগবানের কাছে কোনো জাতিভেদ নেই। ভক্তির দ্বারাই ভগবানের কাছে জাতিভেদ চিহ্নিত হয়। তাই লালন বলেন-

ভক্তির দ্বারে বাঁধা আছেন সাঁই                                                                                                          হিন্দু কি যবন বলে তার কাছে জাতের বিচার নাই।                                                                             ভক্ত কবির জেতে জোলা                                                                                                          প্রেম ভক্তিতে মাতোয়ালা                                                                                                  রামদাস মুচি এই ভবের পরে                                                                                                    পেলো রতন ভক্তির জোরে                                                                                                          তার স্বর্গে সদাই ঘণ্টা পড়ে                                                                                                  সাধুর মুখে শুনতে পাই।

ভগবান ভক্তের অধীন। তার কাছে জাত-অজাত বলে কিছু নেই। জাতের গৌরব করে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করে। লালন তাদের প্রতি লক্ষ করে বলেছেন-

লালন কয় জাত হাতে পেলে পুড়াতাম আগুন দিয়ে।

মানব জীবন বাউলদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেহধারী মানব তাদের কাছে পরম সম্পদ। তারা মনে করেন পরম ভাগ্যের জোরে মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়া যায়। তাই মানব জীবনকে হেলায় নষ্ট করা ঠিক না।

বাউলেরা মানুষের দেহের মধ্যে মনের মানুষ খুঁজে থাকে। এই পরম রহস্যময় মানবজীবনের গূঢ়রহস্যভেদ বর্ণনা করতে গিয়ে প্রকান্তরে মানব মহিমাকেই বড় করে প্রকাশ করেছেন। এখানেই গানের অনন্ত সৌন্দর্য-

অনন্তরূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই                                                                                                         শুনি মানবের উত্তম কিছুই নাই                                                                                                       দেব-দেবতাগণ করে আরাধন                                                                                                      জন্ম নিতে মানবে।

মানুষের হৃদয়ের আসল সত্ত্বা সম্বন্ধে আমাদের প্রকৃত জ্ঞান নেই। মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। আত্মা এক ও অভিন্ন। মানুষে মানুষে ঘৃণা ও ভেদাভেদ তাই বৃথা। কেননা খাঁচার ভিতর অচিন পাখি, আট কুঠরীর নয় দরজা ভেদ করে কাঁচা বাঁশের খাঁচা ছেড়ে ঠিকই উড়ে যাবে, যদি সত্যিই মন-বেড়ী পরানো না যায়।

এই যে অপূর্ব বর্ণনা, অনুভূতির প্রকাশভঙ্গি, ব্যক্তি মানুষের অন্তর অনুভূতির গভীরতম ব্যঞ্জনা বাউল গানের চিরন্তন আবেদনের স্বরূপ সম্বন্ধে আভাস দেয়।

গোষ্ঠী চেতনা, ধর্মীয় চেতনা, ধর্মীয় তত্ত্ব প্রকাশ, বৈচিত্র্যহীন বিষয়, আঙ্গিকের বৈচিত্রাহীনতা বাউল পদাবলির সাহিত্যিক মূল্যকে খর্ব করেছে। তবে অনুভূতি প্রকাশের অকৃত্রিমতা, সম্প্রীতি ও সাম্যের উদার মানবতার ঘোষণা, লৌকিক জীবন থেকে দৃষ্টান্ত প্রয়োগ- বাউল পদাবলিকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছে।

বিশেষ করে বাউল সম্রাট লালন শাহের জীবন-দর্শন ও তাঁর গান বাউল পদাবলিকে সাহিত্যের আসরে পাকাপোক্ত আসন করে দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত লালনের প্রভাব এড়াতে পারেন নি। রবীন্দ্রনাথ লাগান সংগীতের ভাব-ভাষা, উপমা প্রয়োগ ও সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হন।

বাউল গান বাউলদের মনের শৈল্পিক সত্ত্বার বাহক। উপমা, শব্দ, প্রতীক, হন্দ, গ্রহণযোগ্যতা, ঐতিহ্যের ব্যবহার, রূপকের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তাদের সে শৈল্পিক মনের পরিচয় পাওয়া যায়। এ শৈল্পিকগুণ আধুনিক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। এর মধ্যেই এর সাহিতারস ধরা পড়ে। বাউল গানের ভাব সাধারণত বিভিন্ন প্রতীকে প্রকাশিত। এই রহস্যময় প্রতীকের ব্যবহার সহজেই মানুষের দুষ্টি আকর্ষণ করে।  যেমন-

পড়শী —পরমাত্মার প্রতীক,

অচিন পাখি —-আত্মা,

চাবি —–গুরু,

সাঁই—- স্রষ্টা।

উপমার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাউলদের শৈল্পিক মনের পরিচয় রয়েছে। তাদের প্রতিটি তত্ত্বই উপমা-রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন-

সাই নিকট থেকে দূরে দেখায়                                                                                                                        যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায়                                                                                  দেখনা।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই জটিল তত্ত্বকে তারা চেনাজানা উপকরণ থেকে উপমা নিয়ে অপূর্ব ভঙ্গিমায় সহজবোধ্য করে তুলেছেন।

রস: সীমার সাথে অসীমের মিলন বা পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার মিলনের তত্ত্ব বাউল গানে প্রকাশিত। স্রষ্টাব সাথে সৃষ্টির মিলন যথার্থ হচ্ছে না, বাউলদের হৃদয়ে এ হাহাকার কোনোদিন শেষ হয় না। তাই, সে বেদনার সুর তাদের গানে উচ্চারিত। ফলে বাউল গানের প্রধান রস করুণ রস।

ছন্দঃ বাউল গান অশিক্ষিত গ্রাম্য গায়কদের গান। এটি ভজন সংগীত। ভাব-ভাষা সহজ সরল, তাই এর ছন্দও সহজ অন্তমিল প্রধান মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

শব্দঃ তৎসম, তদ্ভব ও লোকজ শব্দসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যমূলক শব্দ তারা ব্যবহার করেছেন।

তৎসম শব্দ — স্কন্দ, হস্তপদ,

লোকজ শব্দ –দড়া, জেলে, গাজি, গেরাম ইত্যাদি।

মুসলিম ঐতিহ্যমূলক শব্দ –আসমান, তসবি, নিরঞ্জন, সাঁই ইত্যাদি।

হিন্দু ঐতিহ্যমূলক শব্দ: বেদ বেদান্ত, শ্মশান, তীর্থ, বামন, রাম, পৈতা, হনুমান, গঙ্গা ইত্যাদি।

পরিশেষে বলা যায় যে, বাউল গান বাউল তত্ত্বের বাহন হলেও লৌকিক জীবনের স্পর্শ ও উপকরণ ব্যবহারে, সাধারণ মানুষের প্রাণের স্পন্দন ধ্বনিত হওয়ার কারণে, জগৎ ও জীবনের নানা উপকরণ উপমা-রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়াতে, আটপৌরে ভাষায় বর্ণিত হওয়াতে বাউল গান সাধারণ মানুষের হৃদয় বেদনার গান হয়ে উঠেছে। তাতে কাব্য-শ্রীও ফুটে উঠেছে।

তাই তাদের গানের আবেদন বাংলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছে গেছে। গানের ভাষা স্নিগ্ধ গীতিমূর্ছনায় পূর্ণ। উপমা-রূপকের সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের ব্যঞ্জনা ও ভাবের গভীরতা এ যুগেও বিস্ময়কর। সর্বস্তরের মানুষের কাছে এ গ্রহণযোগ্যতা দেখে সকলেই স্বীকার করেছেন যে, বাউল গান লোকসাহিত্য মাত্র নয়, এ গুলো এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণের কথা, মনীষার ফসল ও সংস্কৃতির স্বাক্ষর বহন করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *