বিরাম চিহ্ন বলতে কী বোঝ? বিরাম চিহ্নের ব্যবহারবিধি ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।

প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
খোলা পাতা – বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য।

বিরাম চিহ্ন: পরিচয় ও ব্যবহার বিধি

উত্তরঃ মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতে ভাষা ব্যবহার করে। ভাবের তারতম্যের জন্য ভাষা উচ্চারণের সময় কন্ঠস্বর উঁচু নিচু হয়। আবার মনের ভাব স্পষ্ট ও সঠিকভাবে প্রকাশের জন্য বাক্যের অর্থের সামঞ্জস্য ও ভাব অনুসারে কথার মাঝে থামতে হয়। লেখার সমর ভাব অনুযায়ী বিরতি বা বিরাম বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। বিরাম বোঝাতে ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলোকে বিরাম চিহ্ন বলে।

বিরাম চিহ্নের প্রয়োজনীয়তা:

বাক্যের প্রধান কাজ মনের ভাব প্রকাশ করা। আর সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাস দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করলেই তবে বাক্যগঠন সম্পূর্ণ হয়। অর্থ প্রকাশের জন্য পদগুলোকে যেমন বাক্যের মধ্যে যথাযথ বিন্যাস করতে হয়, তেমনি বিরাম চিহ্নেরও ব্যবহার করতে হয়। তাড়াতাড়ি হড়মুড় করে সব শব্দ বলে ফেললে, তাতে অর্থ প্রকাশ ব্যহত হয়। বক্তব্য বিষয়কে সাবলীল ভাবে প্রকাশ করতে গেলে শব্দগুলো উচ্চারণের সময় কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এ কৌশল মূলত বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের কৌশল।

যে-কোনো কিছু আমরা একটানা পড়তে পারি না। দম নেবার জন্য মাঝে মাঝে থামতে হয়। সেই থামার আবার রকমফের আছে। কখনো বেশিক্ষণ থামতে হয়, আবার কখনো অল্পক্ষণ থামতে হয়। গলার স্বরের ওঠানামা বা বলার ঢংয়ে বক্তার মেজাজ ধরা পড়ে। অবাক হওয়া, প্রশ্ন করা, অনুরোধ করা বা ধমক দেওয়া ইত্যাদি সবই ফুটে ওঠে কথা বলার ভঙ্গিমার ভিতর দিয়ে। কিন্তু কথা না বলে যদি লিখেই কাউকে কোনো বক্তব্য, মনোভঙ্গী ইত্যাদি জানাতে হয়, তখন কথা বলার সময় যে যে ভাব ও ভঙ্গী প্রকাশ পেয়েছে, লেখার ভিতরও সেই ভাব ও ভঙ্গীটাকে ফুটিয়ে তুলতে হয়। আর এটা করা সম্ভব যথাযথ বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের দ্বারা।

বিরাম চিহ্নের ব্যবহারে গদ্য ও পদ্যের পাঠ যেমন সাবলীল হয়, অর্থও তেমনি স্বচ্ছন্দ ও সুস্পষ্ট হয়। বিরাম চিহ্ন সঠিক স্থানে না পড়লে অর্থ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। যেমন- “এখানে ঘুঘু ফেলবেন না, ফেললে দশ টাকা জরিমানা দিতে হবে।”

এই বাক্যটিতে মাত্র একটা কমার যথাযথ ব্যবহার যদি না করা হয়, তাহলে দেখা যায়-

“এখানে থুথু ফেলবেন, না ফেললে দশ টাকা জরিমানা দিতে হবে।”

তাহলে, দেখা যায় যে, বক্তার বক্তব্য স্পষ্ট ও সঠিকভাবে প্রকাশর জন্য লিখিত বাক্যে বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

প্রশ্নঃ- বিরাম চিহ্নের কাজ কী?

উত্তরঃ বিরাম চিহ্নের প্রধান কাজ হলো- বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করা, বক্তব্য উপস্থাপন করা, বাকাংশ আলাদা করা এবং বাক্যাংশ সংগ্রথিত করা। বাক্যের প্রধান কাজ হলো মনের ভাব সুষ্ঠ ও যথাযথভাবে প্রকাশ করা। এর জন্য বাক্যের মধ্যে পদগুলোকে অর্থ অনুযায়ী পদবিন্যাস করতে হয়। পদবিন্যাস বাক্যকে অর্থবহ করে তোলে। এ ক্ষেত্রে বাক্যের অর্থকে শ্রোতা বা পাঠকের কাছে পৌছে দেওয়াই বিরাম চিহ্নের (ছেদ/ যতি চিহ্ন) কাজ।

প্রশ্নঃ- বিরাম চিহ্ন বলতে কী বোঝ? বিরাম চিহ্নগুলোর পরিচয় দাও।

উত্তরঃ মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করতে ভাষা ব্যবহার করে। ভাবের তারতম্যের জন্য ভাষা উচ্চারণের সময় কন্ঠস্বর উঁচু নিচু হয়। আবার মনের ভাব স্পষ্ট ও সঠিকভাবে প্রকাশের জন্য বাক্যের অর্থের সামঞ্জস্য ও ভাব অনুসারে কথার মাঝে থামতে হয়। লেখার সময় ভাব অনুযায়ী বিরতি বা বিরাম বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। বিরাম বোঝাতে ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলোকে বিরাম চিহ্ন বলে।

বিরাম চিহ্নগুলোর পরিচয়:

অবস্থান অনুসারে বিরাম চিহ্ন দুই প্রকার। যেমন-

এবার প্রতিটি বিরাম চিহ্নগুলোর পরিচয় নিম্নে দেওয়া হলো-

(ক) দাঁড়িঃ একে পূর্ণচ্ছেদ বলে। বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে এবং বাক্যের শেষে বসে। প্রশ্নসূচক ও বিস্ময়সূচক বাক্য ছাড়া অন্যান্য বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। পরোক্ষ প্রশ্নসূচক বাক্যের শেষেও দাঁড়ি বসে। এক সেকেন্ড থামতে হয়। যেমন-তুমি বাড়ি যাও। চিন্তায় আছি, সে এখানে আসবে কি না।

(খ) প্রশ্নবোধক চিহ্ন: প্রশ্নসূচক বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে। এক সেকেন্ড থামতে হয়। উদাহরণ-

(গ) বিস্ময় চিহ্নঃ (!) বিস্ময়সূচক বাক্যের শেষে বিস্ময় চিহ্ন বসে। এক সেকেন্ড থামতে হয়। বক্তব্যে হর্ষ, বিষাদ, আনন্দ, অবাক ইত্যাদি ভাব প্রকাশে বিস্ময় চিহ্ন বাক্যের শেষে বসে। যেমন-

(ঘ) কমা (,) পাদচ্ছেদ বলে। ‘এক’ বলতে যে সময় লাগে, সে পরিমাণ থামতে হয়। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। বাংলায় কমার বিচিত্র ব্যবহার বয়েছে। বিরাম চিহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কমা। সাধারণত, জটিল বাক্যের মাঝে, তারিখ লিখতে, ঠিকানা লিখতে, সম্বোধন পদের পরে, সংক্ষিপ্ত শব্দের পরে, নামের শেষে পদবি বা উপাধি থাকলে ইত্যাদি ক্ষেত্রে কমা বসে। যেমন- জটিল বাক্য: যদি সে আসে তবে আমি যাব। সম্বোধন পদ: হে নবীন, আলোর পথে এস।

(৬) সেমিকোলন (:) বাংলা অর্থ অর্থচ্ছেদ। ‘এক’ বলার দ্বিগুণ সময় পরিমাণ থামতে হয়। কমার চেয়ে

বেশি এবং দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের জন্য সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। এটি বাক্যের মধ্যে বসে। একাধিক স্বাধীন বাক্য এক বাক্যে লেখার ক্ষেত্রে, সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি লিখলে, সংযোজক অব্যয়ের পরিবর্তে ইত্যাদি ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-

(চ) কোলন (:) বাংলা অর্থ ছেদ বা দৃষ্টান্ত হেদ। বাক্যের মধ্যে বসে। এক সেকেন্ড সময় মেতে হয়। আগে যে সব ক্ষেত্রে ড্যাশ বা কোলন ড্যাশ বসতো বর্তমানে সে-সব ক্ষেত্রে কোলন ব্যবহৃত হচ্ছে। উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা ইত্যাদির আগে, বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে, কটা বেজে কত মিনিট তা বোঝাতে, চিঠি পত্র ও ফর্মে কোন তথ্য লেখার আগে-ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোলন বসে। যেমন-

(ছ) কোলন ড্যাশ: (:-) কোলন ড্যাশের বাংলা অর্থ ছেদ বা বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বসে। এক সেকেন্ড সময় পরিমাণ থামতে হয়। সাধারণত উদাহরণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোলন ড্যাশ চিহ্নের ব্যবহার হয়। যেমন-

সমাস হয় প্রকার। যথা:- দ্বন্দ্ব, দ্বিও, কর্মধারয়, বহুব্রীহি, অব্যয়ীভাব ও তৎপুরুষ।

(জ) ড্যাশ: (-) বাংলা অর্থ বাক্য সঙ্গতি চিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বসে। এক সেকেন্ড বিরাম নিতে হয়।  ড্যাসের বিচিত্র ব্যবহার রয়েছে। যেমন-

(ঝ) হাইফেন : (-) বাংলা অর্থ শব্দসংযোগ চিহ্ন। থামার কোনো প্রয়োজন হয় না। ইংরেজি থেকে বাংলায় এসেছে। তবে, বর্তমানে ইংরেজির চেয়ে বাংলায় বেশি ব্যবহৃত হয়। হাইফেন সব সময় দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। হাইফেন ড্যাসের অর্ধেক। হাইফেনের অনেক ব্যবহার রয়েছে। যেমন-

(ঞ) উর্ধ্বকমা বা লোপ চিহ্ন: (‘) বাংলায় একে ইলেক চিহ্ন বলে। ইংরেজিতে Apostrophe বলে। থামার প্রয়োজন হয় না। ইদানীং এর ব্যবহার কমে গেছে। দেখতেও অনেকটা বিচ্ছিরি, তাই যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভাল। তবে অর্থ বুঝতে অসুবিধা হতে পারে এমন স্থানে উর্ধ্বকমা দিতে হবে।

সাধারণত শব্দের একটি অংশ, বর্ণ বা অক্ষর বাদ দেয়া হয়েছে বোঝাতে লোপ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন- হইতে>হ’তে,   ওপরে>’পরে।

(ট) বন্ধনী চিহ্ন: ( ), { }, [ ]–  সাহিতো প্রথম বন্ধনী ও তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহৃত হয়, দ্বিতীয় বন্ধনী ব্যবহৃত হয় না। থামতে হয় না। বাক্যের মধ্যে সম্পর্কশূন্য পদ বা পদগুচ্ছে ব্যবহৃত হলে বন্ধনী চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন-নাও (বইটা হাতে দিয়ে) পড়।

বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে-  (বিরক্তসুরে) কী সব বলছ? (প্রস্থান)

(ঠ) এক বিন্দু বা সংক্ষেপণ চিহ্ন: (.) আগে এর ব্যবহার ছিল না। বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইংরেজিতে যেভাবে ব্যবহৃত হয়, বাংলাতেও সেভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন-

অবশ্য বর্তমানে বাংলায় সংক্ষিপ্ত শব্দ লিখতে এক বিন্দু চিহ্ন ব্যবহার হয় না। যেমন বিসিএস, এমএ, বিএ, পিএসসি ইত্যাদি।

(ড) বর্জন চিহ্নঃ বর্জন চিহ্ন হিসেবে দু’রকমের চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যথা:-

বক্তব্য থেকে কোনো কথা বাদ দেয়া হয়েছে, বাক্য অসমাপ্ত রয়েছে বোঝাতে ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়। যেমন- আমি বাড়ি গিয়ে…

মি. কুক একজন যথার্থ ডাক্তার.. রোগের উপর তার প্রচণ্ড অভিজ্ঞতা।

কবিতার ক্ষেত্রে কোনো স্তবক বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে তিন তারকা (*) চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

(চ) বিকল্প চিহ্নঃ (১) দুই বা ততোধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে এ চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয় তাদের মধ্যে যে কোনোটি হতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে ‘অথবা’। যেমন-

সেখানে আট/দশজন লোক আছে।

(৭) উদ্ধৃতি চিহ্ন: (‘-‘অথবা “-“) ইংরেজিতে একে কোটেশন মার্ক বলে। ইংরেজি থেকে বাংলায় আমদানি। এটি দু’রকমের। যথা:- জোড় উদ্ধৃতি ও এক উদ্ধৃতি।

অন্যের কথা উদ্ধৃত করতে হলে বা কোনো শব্দ বা বাকাকে আলাদা করে গুরুত্ব দিতে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করতে হয়। যেখানে একটি উদ্ধৃতি চিহ্নের প্রয়োজন সেখানে যে-কোনো একটি ব্যবহার করলেই হয়। যেখানে দুটো উদ্ধৃতি চিহ্নের প্রয়োজন সেখানে জোড় উদ্ধৃতি ও এক উদ্ধৃতি চিহ্ন বসাতে হয়। যেমন-

“হৈম ব্যথিত হইয়া প্রশ্ন করিল, ‘কেহ যদি বয়স জিজ্ঞাসা করে কী বলিব?  বাবা কহিলেন, “মিথ্যা বলিবার দরকার নাই, তুমি বলিয়ো, ‘আমি জানি না আমার শাশুড়ি জানেন’।”

উদ্ধৃতি চিহ্ন শুরু করলে শেষ করতে হয়। এর শুরু ও শেষ আছে।

(ত) দুই দাঁড়িঃ (।।) আসে বিরাম চিহ্ন হিসেবে দুই দাঁড়ি ব্যবহৃত হত, এখন এর ব্যবহার নেই। তবে ছন্দোবিশেষে যেখানে অন্ত্যানুপ্রাসের পূর্তি থাকে, সেখানে বাক্য শেষে দুই দাঁড়ি বসে। যেমন-

পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুম অলি সকল ফুটিল।।

প্রশ্ন: কমার ব্যবহার লেখ

উত্তর: বাক্যের মধ্যে স্বল্প মাত্রার বিরতির জন্য কমা চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিছু উচ্চারণের পর ভাবের সৌন্দর্যের জন্য কমার ব্যবহার করা হয়। এক বলতে যে সময় লাগে, ততটুকু সময় থাকতে হয়। কতকগুলো বিশেষ ক্ষেত্রে কমার ব্যবহার হয়। নিম্নে কমার ব্যবহার দেখানো হলো।

ড্যাসের ব্যবহার (গতিচিহ্নের ব্যবহার)

বাক্যের মধ্যে গতির প্রয়োজন অনুভব হলে ড্যাস বা গতিচিহ্নের ব্যবহার হয়। সাধারণত বাক্যাংশের পরেই এই চিহ্ন বসে। যেমন- ‘চল তোকে ফিরে রেখে আসি-কাপুরুষ।’

সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ (;)

অর্থযুক্ত বা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুই বা ততোধিক বাক্য যদি একটি অপরটির অঙ্গীভূত না হয়, তবে সেমিকোলন চিহ্নের দ্বারা তাদের পার্থক্য করা হয়।

যেমন- তার কবিতার সাধনবেগ ও প্রসাধন কলা দুইই অনন্য; নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ কারুকর্ম।

জটিল বা যৌগিক বাক্যে বাক্য ও বাক্যাংশের সংযোজনে সেমিকোলন চিহ্ন বসে যেমন- ‘ডাক্তার অবতারে বধ্য রোগী; উকিল অবতারে বধ্যমোয়াক্কেল; জমিদার অবতারে বধ্য প্রজা।’

দুই বাক্যাংশের মাঝে অব্যয় পদের ব্যবহারের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন- বিদ্যালয় ছিল বলে; নতুবা গ্রামটি রসাতলে যেত।

প্রবাদ-প্রবচন ও বাগধারা দিয়ে দুই বাক্যাংশের সংযোগ করার সময় সেমিকোলন প্রয়াগ হয়।  যেমন- সমাজে সৎলোক খুঁজে পাওয়া ভার: ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়।

অনেক সময় দুই বাক্য বা বাক্যাংশের সংযোগে অব্যয়ের পরিবর্তে সেমিকোলন বসে। যেমন-আগে পাঠ্য বই পড়া; পরে গল্প-উপন্যাস পড়া।

হাইফেনের বিকল্পেও ব্যবহৃত হয়-যা মা’র কাছ থেকে টাকা দিয়ে আয়।

সালের সংক্ষিপ্ত রূপ দেখাতে। ২১ ফেব্রুয়ারি ৫২।

বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত – ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ভাষা শিক্ষা – হায়াৎ মামুদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *