বিশেষণ পদ কাকে বলে ? বিশেষণ পদের অজানা কাহিনি।


বিশেষণ পদ: আমরা কতটুকু জানি? { নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণের সহায়তায়)
গোড়ার কথা: কেউ ভাবে বিশেষণ পদ – তা এমন আর কী? দোষ-গুণ বুঝালেই তো বিশেষণ পদ। কিন্তু, গভীরভাবে পড়তে গেলেই বিশেষণ পদের বিচিত্র ব্যবহার আর রহস্যময়তা মাথা ঘুরিয়ে দেয়। বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের যত গর্বই থাক, সত্যি কথা বলতে কী—বিশেষণ পদ শুনলেই অনেকের মাথায় যেন আলগা ধোঁয়া উঠে! অনেকেই বিশেষণ পদকে স্বাভাবিকভাবে ধরে নিয়ে হালকা করে ভাবেন। অথচ ভাষার আসল রস, রং, ঢং, স্বাদ—সবই তো লুকিয়ে আছে বিশেষণ পদ–এর মায়াবী খেলায়।
কোন মানুষ কেমন, কোন বস্তু কেমন, কোন দৃশ্য কতটা মন ভোলানো—সবই প্রকাশ পায় একেকটা বিশেষণ পদ–এর মাধ্যমে। তাই, বাংলা ভাষার অলংকারশাস্ত্রের দরজা খুলতে গেলে প্রথমেই দরকার এই বিশেষণ পদ–কে ঠিকমতো চেনা। বিশেষ করে যারা বলেন “আমি নাকি বিশেষণ চিনিনা”—তাদের জন্যই আজকের এই সহজ, রসালো পরিচয়—বিশেষণ পদ, তার প্রকারভেদ, আর ব্যবহার-বৈচিত্র্যের মজার দুনিয়া।
যা কোনো কিছুকে বিশিষ্ট করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে। বিশেষণ শুধু যে বিশেষ্যকেই বিশেষিত করে তা নয়, অন্যান্য পদকেও বিশেষিত করে। ইংরেজীর adjective ও adverb দুই-ই বাংলায় বিশেষণ পদের অন্তর্ভুক্ত। আরবি ও ফারসিতে বিশেষণ পদকে গুণবাচক পদ বলে।
সংজ্ঞাঃ যে পদ অন্য পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। যেমন- চলন্ত গাড়ি, করুনাময় তুমি, দ্রুত চল, বহুত আচছা, এটা করা যাবে, খুব ভাল ছেলে।
বিশেষণ পদ প্রকার ভেদঃ
বিশেষণ পদ প্রধানত দু’প্রকার। যথা- (১) নাম- বিশেষণ ও (২) ভাব-বিশেষণ।
(১) নাম-বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
- ভাল ছেলেকে সকলে পছন্দ করে। (বিশেষ্য বিশেষণ)
- সে রূপবান ও গুণবান। (সর্বনামের বিশেষণ)
নাম বিশেষণের প্রকার ভেদ:
- (ক) রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ।
- (খ) গুণবাচক বিশেষণ: দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া, সৎ লোক, খারাপ বন্ধু।
- (গ) অবস্থাবাচক বিশেষণ: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোড়া পা।
- (ঘ) সংখ্যাবাচক বিশেষণ: হাজার লোক, দশ টাকা, দশ দশা।
- (ঙ) ক্রমবাচক বিশেষণ: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
- (চ) পরিমাণবাচক বিশেষণ: দু’কিলোমিটার রাস্তা, অনেক দুধ, কম দাম, এক কেজি চাল।
- (ছ) অংশবাচক বিশেষণ: অর্ধেক সম্পত্তি, সিকিপথ, যোলআনা দখল।
- (জ) উপাদান বাচক বিশেষণ: বেলে মাটি, মেটে কলসী, পাথুরে মূর্তি।
- (ঝ) প্রশ্ন বাচক বিশেষণ: কত দূর পথ? কেমন অবস্থা?
- (ঞ) নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক বিশেষণ: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।
বিভিন্ন উপায়ে গঠিত বিশেষণ পদ
- (১) ক্রিয়াজাত- হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি।
- (২) অব্যয়জাত- আচছা মানুষ, উপরি-পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
- (৩) সর্বনাম জাত- কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
- (৪) সমাসসিদ্ধ- চৌচালা ঘর, বেকার ছেলে , দিলদরিয়া লোক।
- (৫) বীপসা মূলক- হাসিহাসি মুখ, কাঁদো কাঁদো চেহারা।
- (৬) অনুকার অব্যয়জাত- কনেকনে শীত, তকতকে মেঝে।
- (৭) কৃদন্ত- কৃতি সন্তান, জানাশোনা লোক, অতীত কাল।
- (৮) তদ্ধিতান্ত- জাতীয় সম্পদ, নৈতিক বল, মেঠো পথ।
- (৯) উপসর্গ যুক্ত- নিখুঁত কাজ, অপহৃত সম্পদ, নির্জলা মিথ্যে।
- (১০) বিদেশি- নাস্তানাবুদ অবস্থা, লাওয়ারিশ মাল, লাখেরাজ সম্পদ।
২। ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
ভাব বিশেষণ পদ কয়েক প্রকার। যথা-
(ক) ক্রিয়া বিশেষণঃ যে বিশেষণ পদ ক্রিয়াপদের ভাব, রূপ, কাল নির্দেশ করে তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন-
- (১) ক্রিয়া সংঘটনের ভাব- ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
- (২) ক্রিয়া সংঘটনের কাল- পরে একবার এসো।
(খ) বিশেষণীয় বিশেষণঃ যে পদ নাম বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যেমন-
(১) নাম-বিশেষণের বিশেষণ– সামান্য একটু দুধ দাও। এখানে ‘একটু‘ নাম বিশেষণ, ‘সামান্য‘ বিশেষণের বিশেষণ।
(২) ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ– রকেট অতি দ্রুত চলে। এখানে ‘দ্রুত‘ ক্রিয়া বিশেষণ, ‘অতি‘ ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ।
(গ) অব্যয়ের বিশেষণঃ যে বিশেষণ অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে তাকে অবায়ের বিশেষণ বলে। যেমন- বহুত আচছা, এটা করা যাবে। ধিক তারে, শতধিক তারে, নির্লজ্জ যে জন।
ঘ) বাক্যের বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে, তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে। যেমন-বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন। দূর্ভাগ্যক্রমে আমরা আবার সমস্যার জালে জড়িয়ে পড়লাম।
৬) বিধেয় বিশেষণ: যে বিশেষণ বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিধেয়রুপে বাক্যের উদ্দেশ্যস্থানীয় বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে, তাকে বিধেয় বিশেষণ বলে। এক কথায় বাক্যের বিধেয় অংশে যে বিশেষণ, তাকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন- বালিকাটি সুন্দরী। তিনি দয়াবান।
বিশেষণ পদ কতটি তা জানি:
- ক ) নাম- বিশেষণ
- খ ) ভাব- বিশেষণ-
- ১) ক্রিয়া বিশেষণ
- ২) বিশেষণের বিশেষণ (ক) নাম বিশেষণের- বিশেষণ। খ) ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ।
- ৩) অব্যয়ের বিশেষণ
- ৪) বাক্যের বিশেষণ
- ৫) বিধেয় বিশেষণ
আরও কয়েকটি বিশেষণ পদ
- ১। ধন্যাত্মক বিশেষণঃ ধন্যাত্মক বা অনুকার শব্দ যখন বিশেষণ হিসেবে কাজ করে তখন ধন্যাত্মক বিশেষণ হয়। যেমন- কনকনে ঠান্ডা, টকটকে লাল, ঘুটঘুটে অন্ধকার।
- ২। সর্বনাম বিশেষণঃ সে-দিন, কী-কথা ইত্যাদি।
*** রুপ বা ব্যুৎপত্তি বিচারে সাধারণ বিশেষণ ( নাম বিশেষণ)
এ বিচারে সাধারণ বিশেষণ (নাম বিশেষ) তিন প্রকার হয়ে থাকে। যেমন-
১) এক পদময় বিশেষণঃ যে বিশেষণ পদে একটির বেশি শব্দ থকে না, তাকে এক পদময় বিশেষণ বলে। যেমন-
- ক) মৌলিক বিশেষণ– বড়, ছোট, এ. ও. সে, সাদা, কালো।
- খ) কৃদন্ত বিশেষণ– কর্তব্য, চলন্ত, (কৃৎপ্রত্যয় যোগে গঠিত)।
- গ) তদ্ধিত্যন্ত– শক্তিমান, দেশি, গোলাপি, (তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত)।
- ঘ) বিভক্তি যুক্ত-গ্রামের মেয়ে, (এর বিভক্তি)।
- ঙ) উপসর্গযুক্ত– বেহায়া, বিবস্ত্র, (বে, বি, উপসর্গযোগে)।
২। যৌগিক বিশেষণঃ সমাস দ্বারা গঠিত সমস্তপদ বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হলে তাকে যৌগিক বিশেষণ বলে। যেমন- বুকজোড়া, মনমরা, বুকফাটা ইত্যাদি।
[কখনও কখনও সমগ্র একটি বাকাই বিশেষণ পদ দিয়ে বিশেষিত হয়ে থাকে। যেমন- সত্যিই লোকটি খুব ভালো।
৩। বহুপদময় বা বাক্যময় বিশেষণঃ অনেক পদ মিলে বা কোন বাক্য যদি বিশেষণ হিসেবে কাজ করে তবে তাকে বহুপদময় বা বাকাময় বিশেষণ বলে। যেমন-
- বেড়া ভেঙ্গে পড়া বাগান।
- অনেক দেখে শিখেছে এমন ছেলেই চাই।
- তীর্থের কাকের মতো বসে থাকা প্রার্থীর দল।
গঠনগত দিক থেকে বিশেষণ পদ :
গঠনগত দিক থেকে বিশেষণকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
- ১) মৌলিক বিশেষণঃ যে বিশেষণ পদ আর ভাঙা যায় না, তাই মৌলিক বিশেষণ।
- ২) সাধিত বিশেষণঃ বিভিন্ন উপায়ে গঠিত বিশেষণ অর্থাৎ যে বিশেষণকে ভেঙ্গে বিশেষণ করা যায় তাই সাধিত বিশেষণ।
- কৃৎ প্রত্যয় যোগে-কর্তব্য, চলন্ত।
- তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে- শক্তিমান, দেশি, গোলাপি।
- সমাস যোগে- পাশকরা (ছেলে), দিলদরিয়া (লোক)।
বিশেষণ সম্পর্কে আরও যা জানা দরকার-
১) বিশেষণের বিশেষণের বিশেষণ– অত্যন্ত গাঢ় নীল রং।
এখানে ‘নীল‘- বিশেষণ, ‘গাঢ়‘- বিশেষণের বিশেষণ, ‘অত্যন্ত’– বিশেষণের বিশেষণের বিশেষণ।
২) তৎসম শব্দে বিশেষ্য স্ত্রী লিঙ্গ হলে বিশেষণ পদটিও স্ত্রী লিঙ্গ হয়। যেমন-
সুন্দরী নারী, কুহকিনী আশা।
৩) বিশেষণ পদ কখনও কখনও বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন- দূর্বলের সহায় আল্লাহ।
ক্রিয়া বিশেষণ গঠনের বিভিন্ন রীতি
- ১) বিভক্তিহীন শব্দ যোগে- ভাল খেলে, দ্রুত দৌড়ায়।
- ২) বিভক্তি যোগে- ধীরে চল, বেগে চলে।
- ৩) ভাবে, রূপে, সহকারে, ক্রমে ইত্যাদি শব্দ যোগে— ভাল ভাবে কাজ কর, উত্তমরূপে আহার কর, যত্নসহকারে কাজ কর, ভূলক্রমে এসে পড়েছি।
- ৪) বিভিন্ন রকমের শব্দদ্বৈতে- থেকে থেকে, দেখে দেখে, টপটপ।
- ৫) আবেগ সূচক ‘কী’ যোগে – কী খেলেছে।
- ৬) সমাসে- লাঠি হাতে ঢুকে পড়ল, যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম।
- ৭) বহুপদময় ক্রিয়া বিশেষণ- একটু আমি চোখের পাতা বুজেছি কি অমনি সে এল।
- ৮) না-যোগে- এমন তো হয় না, রাখি নি সন্ধান।
প্রশ্নঃ বিশেষণ পদের তারতম্য বা অতিশায়ন বলতে কি বোঝ আলোচনা কর। কিভাবে বিশেষণ পদের অতিশায়ন হয়। উদহরণ সহ আলোচনা কর।
উত্তর: বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ে তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে, তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন- যমুনা দীর্ঘ নদী, পদ্মা দীর্ঘতর, কিন্তু মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী।
বিশেষণের তুলনা দ্বারা উৎকর্ষ বা অপকর্ম নির্দেশ করাই বিশেষণের তারতম্য। তারতম্য শব্দটির মূলে আছে তর-তম কথাটি। সংস্কৃতে দুয়ের মধ্যে তুলনা বোঝাতে বিশেষণের সাথে ‘তর’ প্রত্যয় এবং দুয়ের বেশি ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে তুলনা বোঝাতে ‘তম‘ প্রত্যয় যুক্ত হয়। সংস্কৃতের এই রীতি বাংলাতেও প্রচলিত আছে।
ক) খাঁটি বাংলা শব্দের অতিশায়নঃ
১। খাঁটি বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে চাইতে, চেয়ে, হতে, অপেক্ষা, থেকে শব্দ ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে বিশেষ্যের সাথে প্রায়ই যষ্ঠী বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে এবং মূল বিশেষণের কোন পরিবর্তন সাধিত হয় না। যেমন- গরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি, বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।
২। বহুর মধ্যে অতিশায়ন: অনেকের মধ্যে একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বোঝাতে মূল বিশেষণের কোনো পরিবর্তন হয় না। মূল বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সবচেয়ে, সবথেকে, সর্বাপেক্ষা, সর্বাধিক প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়। (সাধুভাষায় ‘সর্বাপেক্ষা’ যুক্ত হয়। যেমন- জন্তুদের মধ্যে হাতি সবচেয়ে বড়।/ সবার বড়।
কিন্তু সাধু ভাষায়- জন্তুদের মধ্যে হস্তি সর্বাপেক্ষা বৃহৎ।
৩। দুয়ের মধ্যে অভিশায়নে জোর দিতে হলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম, অধিকতর প্রভৃতি বিশেষণীয় বিশেষণ যোগ করতে হয়। যথা- পদ্মফুল গোলাপের চেয়ে সুন্দর। ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
৪। কখন কখন ষষ্ঠি বিভক্তিযুক্ত শব্দে ধষ্ঠি বিভক্তিই চেয়ে, থেকে প্রভৃতি শব্দের কার্যসাধন করে। যেমন- এ মাটি সোনার বাড়া। (এ মাটি সোনার চেয়ে ঘাঁটি)
৫। সব চেয়ে বা সবার প্রভৃতি ব্যবহার না করেও এই তারতম্য প্রকাশ করা যায়। যেমন- রাম শ্যামের মতো চালাক নয়। (অর্থাৎ শ্যাম রামের চেয়ে বেশি চালাক)
তৎসম শব্দের অতিশায়ন
১। তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে ‘তর‘ এবং বহুর মধ্যে ‘তম‘ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে। যেমন- পদ্মা যমুনা অপেক্ষা দীর্ঘতর।
- সূর্য পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যে তুলনায় সূর্য বৃহত্তম।
- পৃথিবী চন্দ্রের চেয়ে বৃহত্তর।
- চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর।
তবে ‘তর’ প্রত্যয় যুক্ত বিশেষণটি শ্রুতিকটু হলে ‘তর’ প্রত্যয় যোগ না করে বিশেষণের পূর্বে অধিকতর শব্দটি যোগ করতে হয়। যেমন- অশ্ব হস্তী অপেক্ষা অধিকতর সুশ্রী।
২। বহুর মধ্যে অতিশায়নে তুলনীয় বস্তুর উল্লেখ না করেও ‘তম’ প্রত্যয় যুক্ত হতে পারে। যেমন- মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। দেশসেবার মহত্তম ব্রতই সৈনিকের দীক্ষা।
৩। তৎসম শব্দের অতিশায়নে ‘তর-তম’ এর মতো আরো দুটি প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন- ঈয়স্ ও ইষ্ঠ।
ক) দুয়ের মধ্যে তুলনায় ‘ঈয়স’ প্রত্যয় হয় এবং বছর মধ্যে তুলনায় ‘ইষ্ঠ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। বাংলায় এর কোন ব্যবহার নেই। ‘ঈয়স’ যুক্ত হলে পুংলিঙ্গে ঈয়ান এবং স্ত্রীলিঙ্গে ঈয়সী হয়। ‘ইষ্ঠ‘ যুক্ত হলে পুংলিঙ্গে ‘ইষ্ঠ’ এবং স্ত্রী লিঙ্গে ‘ইষ্ঠা’ হয়। যেমন-
| মূল বিশেষণ | দুয়ের তুলনায় | বহুর তুলনায় |
| লঘু | লঘীয়ান | লঘিষ্ঠ |
| অল্প | কনীয়ান | কনিষ্ঠ |
| পুংলিঙ্গে-গুরু | গরিয়ান | গরিষ্ঠ |
| স্ত্রীলিঙ্গে- গুরু | গরীয়সী | গরিষ্ঠা |
তিন ভাইয়ের মধ্যে রহিমই জ্যেষ্ঠ এবং করিম কনিষ্ঠ । সংখ্যাগুলোর লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক বের কর।
৪। অনেক ক্ষেত্রে ‘ইষ্ঠ’ প্রত্যয়ান্ত শব্দ সাধারণত বিশেষণের মত ব্যবহৃত হয়। ‘ইষ্ঠ’ প্রত্যয়ান্ত শব্দের ‘তর’ বা ‘তম’ প্রত্যয় যুক্ত করে অতিশায়ন বোঝান হয়। শ্রেয়+ইষ্ঠ শ্রেষ্ঠ; শ্রেষ্ঠ+তর শ্রেষ্ঠতর। শ্রেষ্ঠতম = শ্রেষ্টতম।
৫। ‘ঈয়স’ প্রত্যয়যুক্ত কোনো কোনো শব্দে স্ত্রীলিঙ্গ রূপ বাংলায় প্রচলিত আছে। যেমন- ভূয়সী প্রশংসা।
ছদ্মবেশী তারতম্য
অনেক সময় বিশেষণের অতিশায়ন শব্দ ছাড়াই প্রকাশ পায়। যেমন-
- ক) এবারে বৃষ্টি মন্দ হয়নি। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবারে বৃষ্টি বেশী হয়েছে।
- খ) অত দিয়ো না। অর্থাৎ যা দিচছ তার চেয়ে কম দাও।
- গ) তোর মত বোকা আর কেউ নেই। অর্থাৎ তুই সবচেয়ে বোকা।
‘ঈয়স‘ ও ইষ্ঠ যুক্ত শব্দ তুলনা অর্থ হারিয়ে বাংলায় ‘অতিশয়’ অর্থ গ্রহণ করেছে। যেমন-‘বলিষ্ঠ বাহু‘ বলতে সবচেয়ে সবল বাহু না বুঝিয়ে অত্যন্ত সবল বাহুই বোঝায়।
তুমি মহামহীয়ান। মহীয়সী মহিলা। ভূয়সী প্রশংসা।
কনিষ্ঠ মানে সবার ছোট। কিন্তু বাংলায় তা দুইয়ের মধ্যে ছোট বোঝায়। যেমন- রাম শ্যামের কনিষ্ঠ। সংস্কৃতে এক্ষেত্রে ‘কনীয়ান‘ হতো।
‘শ্রেষ্ঠ‘ শব্দটি সবার চেয়ে ভাল অর্থে চলে, কিন্তু শ্রেষ্ঠ গল্পের সংকলন যখন বলি তখন কারও লেখা খুব ভাল গল্পের সংকলনই বুঝি।
বিশেষণের তারতম্য প্রকাশে বাংলার নিজস্ব ভঙ্গী বেশি ফোটে প্রবাদ-প্রবচনে। যেমন-
- আপন চেয়ে পর ভাল।
- সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল।
- বয়সে বাপের বড়। (চেয়ে বাদ)
বিশেষ্যরূপে বিশেষণ- ভালকে ভাল বলব নাতো কি? এখানে প্রথম ভাল ‘বিশেষ্য’ দ্বিতীয় ভাল বিশেষণ। আমি ভালর ভাল মন্দের মন্দ। প্রথম ‘ভাল’ ও প্রথম ‘মন্দ’ বিশেষ্য। এসব ক্ষেত্রে বিশেষণ সবিভক্তিক হয়ে ওঠে।
সতর্কতা: বিশেষণ ভাষার অলংকারের মতো। সুপ্রয়োগে ভাষার লাবণ্য, তবে অপপ্রয়োগে বাগবিধি আহত হয়। একাধিক বিশেষণ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে পারে, তবে অকারণে ব্যবহার ভাষায় কৃত্রিমতা আনে। বিশেষণের পারম্পর্যের দিকেও লক্ষ রাখা দরকার। কম গুরুত্বপূর্ণ শব্দ আগে এবং বেশি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরে বসাতে হয়।
উপসংহার
শেষ কথা এই—ভাষাকে সুন্দর করতে ফুল ছড়াতে হয় না, শুধু দু-চারটে বিশেষণ পদ জানলেই কথার শরীরে লেগে যায় মিষ্টি রং। তাই বিশেষণ পদ–কে অবহেলা করলে ভাষা হয় শুকনো রুটি, আর সঠিক বিশেষণ পদ ব্যবহার করলে ভাষা রূপ নেয় ঝোল-মাংসের মতো টগবগে স্বাদে! বিশেষণ যদি ঠিকঠাক হয়—ব্যক্তি, বস্তু, অনুভূতি—সবই ফুটে ওঠে প্রাণবন্ত হয়ে। তাই আর ভয় নয়, এবার থেকে বিশেষণ পদ হবে আপনার ভাষার সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
মনে রাখবেন—যে লেখায়, যে বক্তৃতায়, যে আবেগে বিশেষণ পদ নেই, তা হলো খিচুড়িতে লবণ ভুলে যাওয়া। ফলে আজকের আলোচনার সারকথা—বিশেষণ পদ, বিশেষণ পদ, আর বিশেষণ পদ—এটাই আপনার ভাষার সৌন্দর্যের জাদুকাঠি!
বিশেষণ পদের ব্যবহার-বৈচিত্র্য
বাংলা ভাষায় বিশেষণ পদ শুধু “কেমন?” বা “কী রকম?” বলেই ক্ষান্ত থাকে না—তার কাজ আরও অনেক রঙিন। কথাকে সাজানো, আবেগে রং আনা, বস্তুকে চেনানো—সব জায়গায়ই বিশেষণ পদ নিজের নানারকম জাদু দেখায়। আসুন দেখি এর ব্যবহার-বৈচিত্র্যের কয়েকটি মজার দিক—
১. ব্যক্তি বা বস্তুর গুণ প্রকাশে
যেমন: সুন্দর ফুল, মেধাবী ছাত্র, দয়ালু মানুষ
এগুলো না হলে মানুষ কিংবা বস্তুর রূপ–স্বভাব বোঝাই যেত না।
২. রং, আকার, গঠন বোঝাতে
যেমন: লাল শাড়ি, বিশাল বাড়ি, গোল টেবিল
বিশেষণ না থাকলে জিনিসগুলোর চেহারাই অন্ধকারে থাকত।
৩. অনুভূতি প্রকাশে
যেমন: মধুর স্মৃতি, কঠিন সময়, বেদনাময় গান
অনুভূতির আসল রং ফুটিয়ে তোলে এই বিশেষণ পদই।
৪. সময় ও পরিমাণ বোঝাতে
যেমন: দীর্ঘ দিন, ক্ষুদ্র সময়, অনেক টাকা, অল্প কথা
এগুলো না থাকলে কথা হয়ে যেত ঠিক পরিমাপহীন।
৫. তুলনা গঠনে
যেমন: ভালো–ভালোতর–ভালোতম কিংবা ছোট–ছোটো–ছোটতম
তুলনার আসল মজা বিশেষণ পদ ছাড়া অসম্পূর্ণ।
৬. বাক্যে সুর ও সৌন্দর্য আনার জন্য
নির্জন রাত, শান্ত নদী, উজ্জ্বল সকাল—
এসব বিশেষণ বাক্যকে শুধু সাজায় না, পাঠককে দৃশ্যের মধ্যে টেনে নেয়।
৭. বিশেষ্যকে স্পষ্ট করে চেনাতে
যেমন: বাঙালি সংস্কৃতি, প্রাচীন সাহিত্য, নতুন বই
এগুলো না থাকলে বিষয়টি কোন শ্রেণির বা ধরণের তা বোঝাই যেত না।
৮. বিশ্লেষণধর্মী লেখায় নির্দিষ্টতা আনার জন্য
যেমন: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কার্যকর সমাধান, যুক্তিনির্ভর উপসংহার
বিশেষণ এখানে বক্তব্যকে ধারালো করে।
৯. ভাষার আবেগ ও রস বাড়াতে
গল্প–কবিতা–প্রবন্ধ—সব ক্ষেত্রেই লেখক বিশেষণ পদ দিয়ে তৈরি করেন নাটকীয়তা, হাস্যরস, রোমান্স, বেদনা।
১০. বক্তৃতায় শ্রোতাকে আকর্ষণ করতে
অসাধারণ প্রচেষ্টা, অনন্য অর্জন, প্রাণবন্ত পরিবেশ—
এই বিশেষণগুলো বক্তৃতার ঢং ও জোর বাড়িয়ে দেয়।
সারকথা, ভাষার দাবি অনুযায়ী কখনো শান্ত, কখনো উত্তেজিত, কখনো কোমল, কখনো জোরালো হয়ে ওঠে বিশেষণ পদের এই নানামুখী ব্যবহার। তাই বলা যায়—বিশেষণ পদ হলো বাংলা ভাষার রঙতুলি; যত যত্নে ব্যবহার করবেন, ততই কথা হবে সুন্দর, অর্থবহ ও প্রাণবন্ত।
বিশেষণ সম্পর্কিত ১০০টি প্রশ্ন + উত্তর
(বাংলা ব্যাকরণ, বোর্ড প্রস্তুতি, চাকরি পরীক্ষা—সব জায়গায় ব্যবহারযোগ্য)
১–২০ : বিশেষণের ধরন (Types of Adjective)
১) প্রশ্ন: কোনটি বিশেষণ?
নীল আকাশ
উত্তর: নীল (গুণবাচক)
২) প্রশ্ন: নিচের কোনটি পরিমাপক বিশেষণ?
অসংখ্য, ভালো, মিষ্টি
উত্তর: অসংখ্য
৩) প্রশ্ন: “পাঁচটি বই”—এখানে বিশেষণ কোনটি?
উত্তর: পাঁচটি (পরিমাণবাচক)
৪) প্রশ্ন: “আমার কলম”—এখানে বিশেষণ?
উত্তর: আমার (অধিকারবাচক)
৫) প্রশ্ন: কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
মিষ্টি আম
উত্তর: মিষ্টি
৬) প্রশ্ন: “এই ছেলে”—এখানে এই কোন ধরনের বিশেষণ?
উত্তর: নির্দেশক বিশেষণ
৭) প্রশ্ন: ‘সকল ছাত্র’—এখানে বিশেষণ কোনটি?
উত্তর: সকল (পরিমাণবাচক)
৮) প্রশ্ন: “প্রথম ব্যক্তি”—বিশেষণ?
উত্তর: প্রথম (সংখ্যাবাচক/ক্রমবাচক)
৯) প্রশ্ন: “ওই পাহাড়”—বিশেষণ?
উত্তর: ওই (নির্দেশক)
১০) প্রশ্ন: বাংলাদেশি মানুষ—বিশেষণ?
উত্তর: বাংলাদেশি (জাতিবাচক)
১১) প্রশ্ন: “খুশি মেয়ে”—খুশি কোন বিশেষণ?
উত্তর: গুণবাচক
১২) প্রশ্ন: “কয়েকজন ছাত্র”—বাক্যে বিশেষণ?
উত্তর: কয়েকজন (পরিমাণবাচক)
১৩) প্রশ্ন: “আমাদের স্কুল”—বিশেষণ?
উত্তর: আমাদের (অধিকারবাচক)
১৪) প্রশ্ন: ‘নানান সমস্যা’—নানান কী?
উত্তর: পরিমাপক বিশেষণ
১৫) প্রশ্ন: “দ্বিতীয় স্থান”—দ্বিতীয় কী?
উত্তর: ক্রমিক সংখ্যা নির্দেশক বিশেষণ
১৬) প্রশ্ন: “সুন্দর ফুল”—সুন্দর?
উত্তর: গুণবাচক
১৭) প্রশ্ন: “অনেক কাজ”—অনেক?
উত্তর: পরিমাণবাচক
১৮) প্রশ্ন: “তোমার বই”—তোমার?
উত্তর: অধিকারবাচক
১৯) প্রশ্ন: “ঐ শিশু”—ঐ?
উত্তর: নির্দেশক
২০) প্রশ্ন: “পাকা আম”—পাকা?
উত্তর: গুণবাচক
২১–৪০ : বাক্যে বিশেষণ শনাক্তকরণ
২১) প্রশ্ন: সবুজ মাঠে বাচ্চারা খেলছে—বিশেষণ?
উত্তর: সবুজ
২২) প্রশ্ন: দীর্ঘ নদীটি বয়ে চলেছে—বিশেষণ?
উত্তর: দীর্ঘ
২৩) প্রশ্ন: “অল্প মানুষ এসেছে”—বিশেষণ?
উত্তর: অল্প
২৪) প্রশ্ন: “চতুর ছাত্ররা দ্রুত লিখল”—বিশেষণ?
উত্তর: চতুর
২৫) প্রশ্ন: “তার সুন্দর গান”—বিশেষণ?
উত্তর: সুন্দর
২৬) প্রশ্ন: “কয়েকটি বল পড়ে আছে”—বিশেষণ?
উত্তর: কয়েকটি
প্রশ্ন: বড় বাড়িটি নদীর ধারে—বিশেষণ?
উত্তর: বড়
প্রশ্ন: “নতুন শিক্ষক এসেছেন”—বিশেষণ?
উত্তর: নতুন
প্রশ্ন: “এই ছেলেটি বুদ্ধিমান”—বিশেষণ?
উত্তর: এই
প্রশ্ন: “নীল তিমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী”—বিশেষণ?
উত্তর: নীল, বড়
প্রশ্ন: “সজীব বাতাস বইছে”—বিশেষণ?
উত্তর: সজীব
প্রশ্ন: “পুরনো বইগুলোর দাম কম”—বিশেষণ?
উত্তর: পুরনো
প্রশ্ন: “অসংখ্য তারা দেখা যাচ্ছে”—বিশেষণ?
উত্তর: অসংখ্য
প্রশ্ন: “কঠিন প্রশ্ন ছিল”—বিশেষণ?
উত্তর: কঠিন
প্রশ্ন: “সৎ মানুষ কজন আছে?”—বিশেষণ?
উত্তর: সৎ
প্রশ্ন: “মিষ্টি ফল খেতে ভালো লাগে”—বিশেষণ?
উত্তর: মিষ্টি
প্রশ্ন: “উচ্চ পাহাড়ে তুষার পড়ে”—বিশেষণ?
উত্তর: উচ্চ
প্রশ্ন: “আমার ছোট ভাই”—বিশেষণ?
উত্তর: ছোট
প্রশ্ন: “তার গরম চা ভালো লাগে”—বিশেষণ?
উত্তর: গরম
প্রশ্ন: “নরম বালিশে ঘুম দারুণ”—বিশেষণ?
উত্তর: নরম
৪১–৬০ : বিশেষণের শ্রেণীকরণ (Classification Practice)
প্রশ্ন: “দুই ভাই”—দুই = ?
উত্তর: সংখ্যাবাচক
প্রশ্ন: “তৃতীয় স্থান”—তৃতীয় = ?
উত্তর: ক্রমিক বিশেষণ
প্রশ্ন: “স্বাধীন দেশ”—স্বাধীন = ?
উত্তর: গুণবাচক
প্রশ্ন: “স্বর্ণের চুড়ি”—স্বর্ণের = ?
উত্তর: পদার্থবাচক বিশেষণ
প্রশ্ন: “ঢাকাই শাড়ি”—ঢাকাই = ?
উত্তর: জাতিবাচক
প্রশ্ন: “অনেক সময়”—অনেক = ?
উত্তর: পরিমাণবাচক
প্রশ্ন: “আমাদের পরিবার”—আমাদের = ?
উত্তর: অধিকারবাচক
প্রশ্ন: “প্রাচীন ঐতিহ্য”—প্রাচীন = ?
উত্তর: গুণবাচক
প্রশ্ন: “ওই বাড়ি”—ওই = ?
উত্তর: নির্দেশক
প্রশ্ন: “হাজারো মানুষ”—হাজারো = ?
উত্তর: পরিমাপক
প্রশ্ন: “স্টিলের গ্লাস”—স্টিলের = ?
উত্তর: পদার্থবাচক
প্রশ্ন: “জাপানি গাড়ি”—জাপানি = ?
উত্তর: জাতিবাচক
প্রশ্ন: “প্রথম অধ্যায়”—প্রথম = ?
উত্তর: ক্রমিক
প্রশ্ন: “মাঝারি আকার”—মাঝারি = ?
উত্তর: গুণবাচক
প্রশ্ন: “কিছু মানুষ”—কিছু = ?
উত্তর: পরিমাণবাচক
প্রশ্ন: “আমার দেশ”—আমার = ?
উত্তর: অধিকারবাচক
প্রশ্ন: “সুবর্ণ সুযোগ”—সুবর্ণ = ?
উত্তর: গুণবাচক
প্রশ্ন: “বিশাল আকাশ”—বিশাল = ?
উত্তর: গুণবাচক
প্রশ্ন: “ঐ ছাতা”—ঐ = ?
উত্তর: নির্দেশক
প্রশ্ন: “স্বর্গীয় সুর”—স্বর্গীয় = ?
উত্তর: গুণবাচক
৬১–৮০ : ফাঁক পূরণ (Fill in the blanks)
প্রশ্ন: ___ নদীটি খুব প্রশস্ত।
উত্তর: এই/ঐ (নির্দেশক)
প্রশ্ন: সে খুব ___ ছাত্র।
উত্তর: মেধাবী/ভালো (গুণবাচক)
প্রশ্ন: ___ মানুষ মাঠে জমেছে।
উত্তর: অনেক/অসংখ্য
প্রশ্ন: আজকের ___ দিনটি স্মরণীয়।
উত্তর: সুন্দর/উজ্জ্বল
প্রশ্ন: এটি আমার ___ বই।
উত্তর: প্রিয়
প্রশ্ন: সে ___ বাড়িতে থাকে।
উত্তর: বড়/নতুন/পুরনো
প্রশ্ন: ___ ছেলে দৌড়াচ্ছে।
উত্তর: ছোট/সেই/ওই
প্রশ্ন: ___ খাবারটি গরম।
উত্তর: এই/ওই
প্রশ্ন: সে খুব ___ মানুষ।
উত্তর: সৎ/ভদ্র
প্রশ্ন: ___ রাস্তাটি বন্ধ।
উত্তর: এই/ওই/সামনের
প্রশ্ন: শহরে ___ সমস্যা রয়েছে।
উত্তর: নানান/বহু
প্রশ্ন: ___ ছাত্ররা উপস্থিত।
উত্তর: সকল/সকলেই
প্রশ্ন: আজ ___ গরম পড়েছে।
উত্তর: প্রচণ্ড/ভীষণ
প্রশ্ন: সে খুব ___ গান গায়।
উত্তর: মিষ্টি/সুমধুর
প্রশ্ন: ___ লোকটি আমার চাচা।
উত্তর: ওই/সেই
প্রশ্ন: পাহাড়টি খুব ___।
উত্তর: উঁচু/উচ্চ
প্রশ্ন: রাস্তায় ___ যানজট।
উত্তর: প্রবল/তীব্র
প্রশ্ন: ___ ঘরটি খালি।
উত্তর: এই/ঐ/সামনের
প্রশ্ন: বাচ্চাটি খুব ___।
উত্তর: চঞ্চল/মিষ্টি
প্রশ্ন: এটি একটি ___ ঘটনা।
উত্তর: দুঃখজনক/অপ্রত্যাশিত
৮১–১০০ : বিশেষণ পরিবর্তন, সঠিক বিশেষণ নির্বাচন
প্রশ্ন: “মহিলা” শব্দের উপযুক্ত বিশেষণ—
উত্তর: ভদ্রমহিলা/সাহসী মহিলা
প্রশ্ন: “শিশু” শব্দের উপযুক্ত বিশেষণ—
উত্তর: ছোট শিশু/নির্মল শিশু
প্রশ্ন: “বাড়ি” শব্দে কোন বিশেষণ যোগ করলে অর্থ সুন্দর হয়?
উত্তর: সুন্দর বাড়ি
প্রশ্ন: “আকাশ”—উপযুক্ত ২টি বিশেষণ লিখো।
উত্তর: নীল আকাশ, বিশাল আকাশ
প্রশ্ন: “কাজ”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: কঠিন কাজ/সহজ কাজ
প্রশ্ন: “মানুষ”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: ভালো মানুষ/সৎ মানুষ
প্রশ্ন: “গান”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: মধুর গান
প্রশ্ন: “পানি”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: ঠান্ডা পানি
প্রশ্ন: “চিঠি”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: দীর্ঘ চিঠি
প্রশ্ন: “গাড়ি”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: নতুন গাড়ি/দ্রুতগামী গাড়ি
প্রশ্ন: “বন”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: ঘন বন
প্রশ্ন: “মাটি”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: উর্বর মাটি
প্রশ্ন: “জীবন”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: কঠিন জীবন/মধুর জীবন
প্রশ্ন: “রাত”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: গভীর রাত
প্রশ্ন: “সমস্যা”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: জটিল সমস্যা
প্রশ্ন: “স্বপ্ন”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: মধুর স্বপ্ন/অসম্ভব স্বপ্ন
প্রশ্ন: “পরীক্ষা”—উপयुक्त বিশেষণ?
উত্তর: কঠিন পরীক্ষা
প্রশ্ন: “শহর”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: ব্যস্ত শহর
প্রশ্ন: “স্মৃতি”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: মধুর স্মৃতি
প্রশ্ন: “শিক্ষক”—উপযুক্ত বিশেষণ?
উত্তর: ভালো শিক্ষক/নিষ্ঠাবান শিক্ষক

