প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব – মধুসূদনের কাব্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাবের বহুমাত্রিক ব্যবহার আলোচনা কর।


প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব – মধুসূদনের কাব্যে
ভূমিকা
বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণ যুগে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এক অনন্য প্রতিভা । তিনি শুধু নতুন কাব্যরীতি প্রবর্তনই করেননি, তা ছিল সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের এক বিরল দৃষ্টান্ত। মধুসূদনের কাব্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে রয়েছে। তিনি একদিকে ভারতীয় পুরাণ, মহাকাব্য ও ঐতিহ্য থেকে বিষয়বস্তু গ্রহণ করেছেন, অন্যদিকে পাশ্চাত্যের কাব্যরীতি, গঠনশৈলী ও নান্দনিকতাকে আত্মস্থ করেছেন।
এই দুই ধারার মিলনে তাঁর কাব্যে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন সাহিত্যিক ধারা। ফলে তাঁর রচনায় প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব কেবল অনুকরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সৃজনশীল রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলা কাব্যধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কাব্যের ভাষা, চরিত্র নির্মাণ, কাব্যগঠন এবং ভাবধারায় এই প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের প্রভাব সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। তাই বলা যায়, মধুসূদনের সাহিত্যকে বোঝার জন্য তাঁর কাব্যে বিদ্যমান প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উনিশ শতকের বাঙালি জাগরণের মানস পুত্র, বাংলা সাহিত্যে আধূনিকতার উদগাতা মাইকেল মধুসূদন(১৮২৪-১৮৭৩) অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে বাংলা সাহিত্যাকাশে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে প্রচলিত প্রথা-শৃঙ্খল ভেঙে ভাব, ভাষা, বিষয়বস্তুতে এক নতুনের জোয়ার নিয়ে আসেন। তিনি মধুকরী বৃত্তি নিয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য জ্ঞান-সমুদ্র থেকে তিল তিল করে মধু সংগ্রহ করে রস-পিপাসু বাঙালির জন্য মধুচক্র তৈরি করেছেন। তাই মধুসূদনের কাব্য প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব ভরপুর।
বিভিন্ন কাব্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের প্রভাব
১। তিলোত্তমা সম্ভব (১৮৬০)ঃ মধুসূদনের প্রথম কাব্য তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য থেকেই প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব লক্ষ্যণীয়। প্রাচ্য পুরাণের নতুন আঙ্গিকে ও ভিন্ন মাত্রায় মধুসূদনের তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য রচিত। সুন্দ-উপসুন্দ দুই ভাইয়ের কাছে দেবতাদের পরাজয়, ব্রহ্মার সহায়তায় অপরূপা তিলোত্তমার সৃষ্টি এবং বিন্দা কাননে রেখে আসা, তিলোত্তমাকে কেন্দ্র করে দুই ভাই একে অপরকে হত্যা করা, দেবতাদের স্বর্গ জয়- এ কাব্যের কাহিনি। তিলোত্তমা সম্ভব কাব্যের কাহিনি পৌরাণিক, কিন্তু চরিত্র সংস্থাপন এবং ঘটনা-সংস্থাপন ইউরোপীয়। কীটস এর Hyperior অনুসরণে মধুসূদন পরাজিত দেবতাদের চিত্র এঁকেছেন।
পাশ্চাত্য প্রভাবজাত অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার একাব্যেই প্রথম ব্যবহৃত হয়। এ ছন্দেও যে বাংলা কাব্য রচনা করা যায়- এই বিশ্বাসে মধুসূদন এ কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। পরবর্তীতে ’মেঘনাদ বধ’ কাব্যে এসে এ বিষয়ে তিনি সফল হন।
২। ’মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১) ঃ মধুসূদনের কাব্যগুলোর মধ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় ’ মেঘনাদবধ কাব্যে’। মেঘনাদবধ কাব্যের মূল আখ্যায়িকা রামায়ণ হতে নেওয়া। মেঘনাদের হত্যা এ কাব্যের বর্ণনীয় বিষয়। কাহিনি বিন্যাস ও চরিত্র চিত্রণের ক্ষেত্রে কবি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সম্মিলন ঘটিয়েছেন। ইলিয়াড, ডিভাইন কমেডি, জেরূজালেম ডেলিভার্ড, প্যারাডাইস লস্ট, বাল্মীকি ও কৃত্তিবাসের রামায়ণ, কাশীরাম দাশের মহাভারত, কালিদাসের কুমারসম্ভব প্রভৃতি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য গ্রন্থের ভাবকল্পনা ও বিষয়বস্তু অবলম্বনে কবি এ কাব্যকে সম্মৃদ্ধি করেছেন। প্রাচ্য দেশীয় বাল্মীকি, বেদব্যাস, কালিদাস, ভবভূতি, কৃত্তিবাস , কাশীরাম দাস প্রমুখ থেকে উপাদান যেমন সংগ্রহ করেছেন, তেমনি পাশ্চাত্যের হোমার, ভার্জিল, দান্তে, মিল্টন, ট্যাসো প্রমুখ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁর কাব্য-নির্মাণে ব্যবহার করেছেন।
বীরবাহু চরিত্রটি বাল্মীকির রামায়ণে নেই, এটি কৃত্তিবাসী রামায়ণ থেকে নেওয়া। সীতা চরিত্রটি বাল্মীকির অনুসরণে রচিত হলেও তাকে দেবী করেও মানবী করেছেন। মেঘনাদকে সেনাপতি পদে বরণের ঘটনাটি বাল্মীকি ’রামায়ণ’ থেকে নেওয়া হলেও পার্বর্তী ঘটনার কোনো বিবরণ বাল্মীকির ’রামায়ণ’-এ নেই। ৪র্থ সর্গের ঘটনা বাল্মীকির বর্ণনা অনুযায়ী। ষষ্ঠ সর্গে মেঘনাদের মৃত্যু ঘটনাটি বাল্মীকি থেকে গৃহীত হলেও তার মধ্যে কবির মৌলিক কল্পনা-প্রবণতার ছাপ রয়েছে।
সপ্তম সর্গে রাবণ কর্তৃক লক্ষ্মণকে শক্তিশেল নিক্ষেপের ব্যাপারটি বাল্মীকির রামায়ণের হুবহু অনুকরণ বলা যেতে পারে। অষ্টম ও নবম সর্গে বাল্মীকির কোনো প্রভাব নেই। প্রাচ্যে যাদের অনুসরণ করেছেন, তাদের মধ্যে কৃত্তিবাসের কাছেই মধুসূদন বচেয়ে বেশি ঋনী, আর এটা ৪র্থ সর্গের প্রথমেই স্বীকার করেছেন। মধুসূদন-মানসে কৃত্তিবাসের প্রভাব বেশি বিস্তারের কারণ কৃত্তিবাসের মানবতাবোধ।
শিব-পার্বতী সম্পর্কিত ঘটনা, প্রকৃতি বর্ণনা, উপমা- অলঙ্কারের ক্ষেত্রে কালিদাসের প্রভাব দেখা যায়। কাশীরামের কাছ থেকে ’প্রমীলা’ নাম ও ভবভূতির কাছ থেকে ’মুরলা’ নামটি গ্রহণ করেছেন।
ঘটনার দিক থেকে পাশ্চাত্য প্রভাব যা দেখা যায় ২য় সর্গে ’রাজলক্ষী’র দেবতাদের সহায়তায় রামের জয় ও রাবণের পরাজয় কামনা করার সাথে ওডিসিতে দেবীর টেলিমেকাসের সহায়তার জন্য প্রস্তুত হবার মিল রয়েছে।
৫ম সর্গে মায়াদেবীর স্বপ্নদেবীকে নির্দেশ দিচ্ছেন ঘুমন্ত লক্ষ্মণের কাছে যেতে। ইলিয়াডের দ্বিতীয় পুস্তকে জিউস স্বপ্নকে নির্দেশ দিচ্ছেন আগামেননের কাছে যেতে। ৮ম সর্গে রামের পাতালে গমনের সাথে ইনিদের পাতালে পিতা এ্যানকিশিসের আত্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ, ওডিসির মাতার আত্মার সাথে মৃত্যুর দেশে দেখা করার সাথে মিল রয়েছে।
দ্বিতীয় সর্গে মেঘনাদের বিরূদ্ধে দেবতাদের হীন ষড়যন্ত্র শিবের কাছে পার্বতীর মোহিনী বেশে গমন, নবম সর্গে মেঘনাদের অন্ত্যেষ্ট্রিক্রিয়ার বর্ণনায় হোমারের প্রভাব স্পষ্টতই বেশি। তবে প্রমীলার সহমরণের মধ্যে বাঙালি হিন্দু নারীর গৌরবগাঁথা উচ্চারিত।
দেবদেবীর আচরণও পাশ্চাত্য প্রভাবজাত । ভারতীয় কল্যাণমুখী শাšত এবং কারুণ্য চরিত্র ধর্মের পরিবর্তে গ্রিক দেব-দেবীর উগ্র, হিংস্র, প্রতিশোধপরায়ণ, ভোগী চরিত্রধর্ম দেখা যায়। এটি হোমারের প্রভাবেই হয়েছে।
প্রাচ্যরীতি অনুযায়ী স্তুতি নান্দী বা মঙ্গলচরণের মধ্যে দিয়ে গ্রন্থ শুরূ হয়। কবি সে রীতি পরিহার করে প্রথমেই বীণাপাণির বন্দনাগীত করেছেন। এতে গ্রীক কবি হোমার, ইতালীয় কবি ভার্জিল এবং ইংরেজ কবি মিল্টনের প্রভাব লক্ষ্যণীয়।
রাময়ণ কাহিনির মহৎ ও স্নিগ্ধ কবিত্বের উপর হোমারের ইলিয়াড কাহিনির কঠিন ও দীপ্ত শৌর্যের রং ফলিয়ে নতুন কবিকল্পনার ফসল “মেঘনাদবধ কাব্য”। গ্রীক মহাকবি হোমারের অনুসরণে এ কাব্যের অধিকাংশ চরিত্র। মেঘনাদবধের শিব উমা যেন হোমারের জিউস হেরা। ইলিয়াডের আরেস মেঘনাদবধ কাব্যর স্কন্দ। মহামায়াকে স্বতন্ত্র দেবী কল্পনা মধুসূদনের নিজস্ব। মেঘনাদের পরিণাম হেক্টরের পরিণামের মতো। প্রমীলা কতকটা হেক্টরের স্ত্রী আদ্রোমিসের এবং কতকটা ট্যাসোর কাব্যের রণরঙ্গিণী ফ্লোরিদার মতো।
রামায়ণের চিরাচরিত বিশ্বাসকে পরিবর্তন করে রাবণকে ’বড়’ করে দেখার মধ্যে মিল্টনের প্রভাব লক্ষ করা যায়। রাবণের মধ্যে সমকালীন বাঙালি নবজাগরণের ফসল জাতীয়তাবাদের প্রতিফলন-পাশ্চাত্যের প্রভাবর ফসল প্যারাডাইস লষ্ট’র শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনার প্রতীক রাবণও তেমনি আশা এবং অফুরন্ত শক্তির প্রতীক।
গ্রিক মহাকাব্যের নিয়তিবাদও এ কাব্যে রয়েছে। সমস্ত শক্তি সামর্থ্য থাকলেও যে বিধির বিধানে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হতে হয় , তা গ্রীক নিয়তির বৈশিষ্ট্য । রাবণের ক্ষেত্রেও এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেনি।
উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মেঘনাদবধ কাব্যে পাশ্চাত্য প্রভাব লক্ষ করা যায়। ইলিয়াড এবং ওডেসির প্রধান উপমা হচ্ছে সিংহ, বাঘ ও আগুন। এ কাব্যেও সিংহ, ব্যাঘ্র ও অগ্নির উপমা ব্যবহৃত হয়েছে।
নারী চরিত্র পরিকল্পনার মধ্যেও পাশ্চাত্য প্রভাব রয়েছে। সরমা, সীতা, প্রমীলা, চিত্রাঙ্গদা প্রভৃতি চরিত্রে ভারতীয় আদর্শের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যক্তিত্ব, তেজস্বিতা, বীরত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ছন্দের দিক থেকেও মধুসূদন কবি মিল্টনের কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋনী। মিল্টনের Blank Verse অনুকরণে বাংলা ছন্দের চরণান্তিক অন্তমিল ও যতিপাতের বাধ্যবাধকতা দূর করে অমিত্তাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন এবং কবি এ কাব্যে তার স্বার্থক প্রয়োগ বাহন হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।
মেঘনাদ বধ কাব্যে’ পাশ্চাত্য প্রভাব সম্পর্কে সমালোচকদের মধ্যেও বিশেষ কোনো দ্বিমত নেই। ড. সুকুমার সেন বলেন- মেঘনাদবধের অধিকাংশ চরিত্র হোমারের সৃষ্ট চরিত্রানুযায়ী ।
মোহিত লাল মজুমদার বলেন- ”বাঙালি কবি কৃত্তিবাস কাব্যে কাহিনী অংশে তাঁহার প্রধান ঋনদাতা; কিন্তু গ্রীক কবি হোমারই তাঁহার কবি চিত্তকমলের রবি।”
৩। ব্রজঙ্গনা কাব্য(১৮৬১) ঃ ’ব্রজঙ্গনা’ কাব্যের মধ্যেও দেখা যায় মধুসূদনের আধুনিক উদার দৃষ্টিভঙ্গি। এ কাব্যের রাধা বৈষ্ণব কবিদের রাধার মতো নয়। তিনি রাধাকে প্রেমময়ী নারীরূপে সৃষ্টি করেছেন। এ রাধার মধ্যে চিরকালের বিরহিণী রাধাকে দেখতে পাওয়া যায়। পাশ্চাত্য প্রভাবে এ কাব্যটি বাংলা সাহিত্যে ইউরোপীয় প্রেম আদর্শের প্রথম গীতিকাব্য। আঙ্গিকের দিক থেকে কাব্যটি ইতালীয় আটচরণের ছন্দ স্তবক ”অটোভারিমায়” রচিত হয়েছে। পাশ্চাত্য Ode এর প্রথম বাংলায় অনুপ্রবেশ এ কাব্যের মধ্য দিয়ে।
৪। ”বীরঙ্গনা কাব্য” (১৮৬২)ঃ ইতালীয় কবি ওভিদের Heroides কাব্যের অনুকরণে ’বীরঙ্গনা’ কাব্য রচিত। কাব্যটির কাহিনি প্রাচ্যের অর্থাৎ রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ ও ভাগবতের। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব রয়েছে এ কাব্যে। শুধু আবেগের দিক থেকে নয়, পরিবেশ এবং ঘটনার দিক থেকেও ’বীরঙ্গনার’ সঙ্গে ”হিরোয়দস” এর সাদৃশ্য আছে। ’দুষ্মন্তের প্রতি শকুৃন্তলাকে ইউলিসিসের প্রতি পেনিলোপী’র পত্রের, সোমের প্রতি তারার পত্রের সাথে হিপোলিটাসের প্রতি ফেইড্রার পত্রের , দশরথের প্রতি কৈকেয়ী পত্রে সঙ্গে দেমোফোনের প্রতি ফিলিস’ এর পত্রের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
৫। ’চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬)ঃ বাংলা কবিতায় সনেট বা ’চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ সংযোজন করে মধুসূদন অভিনব কৃতিত্ব দেখান। প্রাচ্য পুরাণের নানা অনুষঙ্গ এ কবিতার প্রধান উপজীব্য হয়ে দেখা দিয়েছে। ইতালীয় কবি পেত্রাক এর অনুসরণে মধুসূদন এ সনেট রচনা করেন। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব রয়েছে।
, মধুসূদনের সকল কাব্যেই প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব রয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংমিশ্রণ রয়েছে। আর নিজের অপূর্ব সৃষ্টিক্ষমতার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব-এ জ্ঞানভান্ডারকে আত্মস্থ করে বাঙালির জন্য উপহার দিয়েছেন। এতে তাঁর কৃতিত্ব ও পান্ডিত্যের পরিচয় মেলে।
উপসংহার
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে এমন এক সেতুবন্ধন নির্মাণ করেছেন যেখানে প্রাচ্য ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যরীতির সফল সমন্বয় ঘটেছে। ভারতীয় পুরাণ, সংস্কৃত সাহিত্য ও জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পাশ্চাত্যের মহাকাব্যিক গঠন, নাটকীয়তা ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মেলবন্ধন ঘটেছে তাঁর কাব্যে । মধুসূদনে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব গভীরভাবে ক্রিয়াশীল। তাঁর কাব্যের মৌলিকতা ও শক্তি মূলত এই প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের প্রভাব–এর সৃজনশীল ব্যবহারে নিহিত।
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক রূপ গঠনে এই প্রাচ্য-পাশ্চাত্য প্রভাব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং মধুসূদনের কাব্যকে বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে আলোচনার উপযোগী করে তোলে। এজন্য বলা যায়, বাংলা কাব্যের আধুনিকতার বিকাশে মধুসূদনের রচনায় প্রতিফলিত প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের প্রভাব এক অনন্য ঐতিহাসিক অবদান হিসেবে চিরস্মরণীয়।

