বাংলা ভাষার আঞ্চলিক রূপ, তাদের ধ্বনি, রূপ ও ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
বাংলা উপভাষা : সংজ্ঞা ও পরিচয়:
উপভাষা (Dialect) শব্দটি গ্রিক থেকে ল্যাটিন ও ফরাসিতে সেখান থেকে ইংরেজিতে আসে। গ্রিকে উপভাষার অর্থ ছিল ‘কথা বলার প্রকৃতি’। ইংরেজিতে ‘উপভাষা’র অর্থ ছিল ‘কথা বলার ধরণ’, বিশেষ সম্প্রদায় দ্বারা অনুসৃত ভাষা রূপ। এ থেকে বোঝা যায় যে, উপভাষা আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যানুযায়ী চলিত ভাষার গঠিত রূপ।
‘উপভাষা হলো একটি ভাষার ভৌগোলিক রূপভেদ। সাধারণভাবে উপভাষা বলতে বোঝানো হয় দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র অঞ্চলে ব্যবহৃত ভাষাকে বা আঞ্চলিক ভাষাকে। ওয়েকলিনের মতে, উপভাষা বলতে সরলভাবে বোঝায়Ñ কোনো ভাষার অন্তর্গত বিচিত্র, পরস্পর বোধগম্য রূপকে।
ম্যাক্সমুলার বলেছেন – The real and natural life of language is in its dialects .
ফার্গুসন বলেছেন,
উপভাষা হচ্ছে কোনো ভাষার এক বা একাধিক বৈচিত্র্যের গুচ্ছ, যেগুলোতে বিদ্যমান থাকে একটা বা একগুচ্ছ সাধারণ বৈশিষ্ট্য, যা তাদের স্বতন্ত্র করে দেয় ভাষার অন্যান্য বৈচিত্র্য থেকে এবং ওই বৈশিষ্ট্যগুলোকে ভাষিক বা অভাষিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় এককরূপে।
তাহলে বলা যায়, উপভাষা হচ্ছে কোনো ব্যাপক ভাষা অঞ্চলে ব্যবহৃত ভাষার বিচিত্র আঞ্চলিক রূপ, যেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান নানা পার্থক্য, কিন্তু তা পরস্পর বোধগম্য।
বাংলা উপভাষা: প্রকারভেদ
বাংলা ভাষায় অনেক উপভাষা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, উচ্চ শ্রেণী ও নিম্নশ্রেণীর শিক্ষা-সংস্কারের ব্যবধান, সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের বৈষম্য ইত্যাদি কারণে এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক একটা স্বতন্ত্র উপভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বাংলা ভাষার উপভাষাগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য নানা চেষ্টা করা হয়েছে। স্যার জর্জ গিয়ারসন এবং ড. সুনীতকুমার চট্টোপাধ্যায় এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। ধ্বনিতত্ত¡, রূপতত্ত¡ ও পদক্রম অনুযায়ী অঞ্চলভেদে উপভাষাকে এভাবে ভাগ করা যায়- ১) পাশ্চাত্য এবং ২) প্রাচ্য।
১) পাশ্চাত্য: এ বিভাগে প্রাচীন গৌড় ও রাঢ় অবস্থিত। এটি আবার দুভাগে বিভক্ত। যেমনÑ
ক) উদিচ্য: গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত। এটি প্রাচীনকালে কামরূপ এবং বরেন্দ্র নামে অভিহিত হত।
রাজবংশী বা রংপুরী এর একটি প্রশাখা।
খ) দক্ষিণ-পশ্চিম: বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের বেশির ভাগ এর অন্তর্ভূক্ত। কুষ্টিয়া জেলাও এর মধ্যে।
২) প্রাচ্য : এ ভাগে প্রাচীন বঙ্গ অবস্থিত। প্রাচ্য বিভাগকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা ঃ
ক) দক্ষিণ-পূর্ব: ২৪ পরগনা জেলার পূর্বাংশ, যশোর, খুলনা জেলা, ঢাকা বিভাগ এবং নোয়াখালী।
খ) পূর্ব-প্রান্তিক: কাছাড় থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চল সকল স্থান।

বাংলা উপভাষা: তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য :
উপভাষা ব্যবহারকারীদের পেশা, বয়স, বিত্ত, শিক্ষা ও ধর্মের পার্থক্যে ভাষাগত পার্থক্য সূচিত হয়। স্থানজনিত কারণ ছাড়াও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে ভাষার রূপভেদ দেখা যায়। বাংলা ভাষার উপভাষা প্রধানত পাঁচটি। যথা ঃ
১) রাঢ়ী, ২) ঝাড়খন্ডী, ৩) বরেন্দ্রী, ৪) বাঙ্গালী, ৫) কামরূপী বা রাজবংশী।
বাংলা উপভাষা: রাঢ়ী উপভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য ঃ
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ঃ
১) অ স্থলে ও উচ্চারণ, হল > হলো, মত > মতো, মধু > মোধু।
২) শব্দের আদিতে শ্বাসাঘাত প্রবণতা আছে এবং এ জন্য পদের মধ্যবর্তী অন্তঃস্থিত মহাপ্রাণ বর্ণ অল্পপ্রাণ বর্ণে পরিণত হয়। যেমনÑ দুধ > দুদ, বাঘ >বাগ।
৩) শব্দের শেষের অঘোষ ধ্বনি ঘোষ ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়।
যেমনÑ কাক > কাগ, ছাত >ছাদ, উপকার > উবকার।
রূপতাত্তি¡ক বৈশিষ্ট্য ঃ
১) কর্তৃকারকের বহুবচনে ‘গুলি’, ‘গুলো’ এবং অন্যান্য কারকের বহুবচনে ‘দের’ বিভক্তি প্রয়োগ হয়।
ছেলেগুলি, ছেলেগুলো, ছেলেগুলা। আমাদের, তাদের, রামদের।
২) অধিকরণ কারকে ‘এ’ বা ‘তে’ বা ‘এতে’ বিভক্ত হয়। যেমনÑ ঘরে এসো, জলেতে মাছ আছে।
৩) মূখ্য কর্মে বিভক্তি যোগ হয় না, কিন্তু গৌণ কর্মে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
৪) যেমনÑ শিক্ষক ছাত্রদেরকে ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
গৌণকম মুখ্যকর্ম
ঝাড়খন্ডী উপভাষা ঃ (মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাকুড়া, সিংভূম) জঙ্গলে ভরে থাকার জন্য ‘জঙ্গল মহল’ নামেও পরিচিত ছিল।
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য :
১) আনুনাসিক ধ্বনির প্রাধান্য; আঁটা, বাঁসা, চাঁ, ঘঁড়া, জঁটা।
২) প্রায় সর্বত্রই ও-কার লোপ পেয়ে ‘অ’ কার হয়েছে। লোক > লক, গোয়াল > গয়াল, মোটা >মটা।
৩) অল্পপ্রাণ ধ্বনি মহাপ্রাণ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়। যেমনÑ দূর > ধূর, কাঁকড়া > খাঁকড়া, তোকে > তখে।
রূপতাত্তিক বৈশিষ্ট্য:
১) ক্রিয়াপদে ‘ক’ প্রত্যয়ের ব্যাপক ব্যাবহার, যাবেক নাই, করবেক।
২) নাম ধাতুর প্রচুর ব্যবহার, জ্বারাচ্ছে, মেঘ বিজলাচ্ছে।
৩) ‘আছ’ ধাতুর বদলে ‘বট’ ধাতুর প্রয়োগ। যেমনÑ উটা, ইউড়ার বটে। কে বটে লকটি। বিটি বটে ন।
বাংলা উপভাষা: বরেন্দ্রী উপভাষার বৈশিষ্ট্য:
উত্তরবঙ্গে প্রচলিত। মালদহ, দিনাজপুর, বাংলাদেশের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া জেলার লোকমুখের ভাষাকেই বরেন্দ্রী উপভাষা বলে।
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য :
১) ঝাড়খন্ডীর মতো এ উপভাষায়ও আনুনাসিক স্বরধ্বনি আছে।
২) স্বরধ্বনি প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে এ > এ্যা হয়। দ্যান, দ্যাক।
৩) শব্দের আদিতে অঘোষ মহাপ্রাণ থাকে। মধ্যে ও শেষে থাকলে সেগুলো অল্পপ্রাণ হয়ে যায়। বাঘ > বাগ।
রূপতাত্তিক বৈশিষ্ট্য:
১) কর্তৃকারকের বহুবচনে গুলি, গিলা এবং অন্য কারকের বহুবচনে ‘দের’ বিভক্তি দেখা যায়।
যেমন Ñ বান্দর গিলা, মাইয়াদের।
২) অধিকরণ কারকে ‘ত’ বিভক্তির প্রয়োগ হয়। যেমন Ñ মনে > মনত।
৩) অতীতকালের উত্তম পুরুষে ‘লাম’ ভবিষ্যৎকালের উত্তম পুরুষে মু, ‘ম’ বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়। যেমনÑ কলা গাড়লাম । ‘মুই’ নারী ক্যামনে দিম পাড়িরে।
বাঙ্গালী উপভাষা:
পূর্ববাংলার এটি প্রধান উপভাষা। ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা প্রভূতি বিশাল এলাকা জুড়ে বাঙ্গালী উপভাষা প্রচলিত। এই সব জেলার মধ্যে লোকমুখে উচ্চারণে আরও অনেক সূ² পার্থক্য আছে।
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ঃ
১) অপিনিহিতির ব্যাপক ব্যবহার। এমনকি, হ্ম, জ্ঞ, য-ফলা যুক্ত শব্দেও-
করিয়া > কইর্যা, আজি > আইজ, ব্রাহ্ম > ব্রাইম।
২) সংবৃত এ > বিবৃত ‘এ্যা’ হয়। যেমনÑ কেশ >ক্যাশ, তেল >ত্যাল।
৩) র এবং ‘ড়’ এর প্রচন্ড বিপর্যয়। অর্থাৎ এই উপভাষীরা ‘ড়’ কে ‘র’ এবং ‘র’ কে ‘ড়’ উচ্চারণ করে। যেমনÑ তাড়াতাড়ি বাড়ি এসো > তারাতারি বারি আইস, চার > চাড়।
কামরূপী বা রাজবংশী উপভাষা:
পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার এবং পূর্ববঙ্গের শ্রীহট্ট কাছাড়, রংপুর ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এ উপভাষা প্রচলিত।
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য:
১) বাঙ্গালী উপভাষার মতোই র এবং ড় এর বিপর্যয় ঘটে।
যেমনÑ শাড়ি পরে বাড়ি যাব > সারি পইর্যা বারি যামু।
২) অপিনিহিতির ব্যবহার আছে, তবে বাঙ্গালী উপভাষার মতো তত নয়। যেমনÑ আজি > আইজ।
৩) বাঙ্গালীর মতোই চ > ৎস, ছ >স, জ >দ, ঝ > ত হয়।
রূপতাত্তিক বৈশিষ্ট্য:
১) মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্মে ‘ক’ বিভক্তি যোগ হয়। যেমনÑ আমাকে ভাত দাও > হামাক বাত দ্যাও।
২) অধিকরণে ‘ত’ এবং অপাদানে ‘থাকি’ অনুসর্গ যোগ হয়। যেমনÑ ঘরত যামু, পাহুত, ঘরথাকি।
৩) পুরুষভেদে সর্বনামের নিম্নোক্ত রূপ লক্ষ্য করা যায়।Ñ
ক) উত্তম পুরুষ—‘মুই’Ñআমরা।
খ) মধ্যম পুরুষ — ‘তুই’Ñতোমরা।
উপভাষা নিয়ে উপরে আলোচিত অংশটি আমার শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে। নিবন্ধটি সংকলিত।
AI এর সাহায্যে বাংলা উপভাষার সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
বাংলা উপভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য :
১. ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য :
- পূর্ববঙ্গে ‘শ’ → ‘হ’ হয়ে যায় (যেমন: ‘শিশু’ → ‘হিসু’)।
- পশ্চিমবঙ্গে ‘অ’ ধ্বনি দীর্ঘায়িত হয় (যেমন: ‘কলম’ → ‘কলোম’)।
- উত্তরবঙ্গে নাসিক্য ধ্বনির আধিক্য দেখা যায়।
২. রূপগত বৈশিষ্ট্য
- পূর্ববঙ্গে ক্রিয়াপদের শেষে –ই, –ইল ব্যবহার বেশি হয় (যেমন: “করলই” → “করলাম”)।
- পশ্চিমবঙ্গে অব্যয় ব্যবহার ভিন্নধর্মী (যেমন: “কী করলি রে?”)।
৩. বাক্য গঠন
- পূর্ববঙ্গে সরল বাক্যরীতি বেশি,
- পশ্চিমবঙ্গে বাক্যরীতিতে হালকা টান,
- উত্তরবঙ্গে মিশ্র রূপ (কখনো হিন্দি-আঞ্চলিক প্রভাব)।
৪. শব্দভাণ্ডার
- পূর্ববঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার বেশি।
- পশ্চিমবঙ্গে সংস্কৃত ও তৎসম শব্দ বেশি ব্যবহৃত হয়।
- উত্তরবঙ্গে প্রাচীন মাগধী প্রভাব লক্ষণীয়।
৫. প্রভাব
বাংলা উপভাষা বৈচিত্র্য এনে ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে মানক বাংলা গঠনে এগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য বাদ গেছে, ফলে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক বিভাজনের আশঙ্কাও রয়ে গেছে।
উপসংহার
বাংলা উপভাষাগুলো শুধু আঞ্চলিক উচ্চারণ নয়; এগুলো আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনজীবনের প্রতিচ্ছবি। ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে বৈচিত্র্য সবসময় ইতিবাচক, কারণ এই বৈচিত্র্যের ভেতর দিয়েই মানক বাংলা ভাষার জন্ম ও বিকাশ ঘটেছে।
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর।
📚 রেফারেন্স (তথ্যসূত্র)
- চট্টোপাধ্যায়, সুনীতিকুমার। (১৯২৬)। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
- চট্টোপাধ্যায়, সুনীতিকুমার। (১৯৬৫)। ভারতীয় আর্যভাষার ইতিহাস। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
- চট্টোপাধ্যায়, এস. কে। (১৯২৬)। The Origin and Development of the Bengali Language। Calcutta University Press।
- গ্রিয়ারসন, জি. এ। (১৯০৩–১৯২৮)। Linguistic Survey of India: Vol. V. Indo-Aryan Family, Eastern Group (Bengali and Assamese)। Government of India।
- হক, মহফুজুল। (১৯৮২)। বাংলা উপভাষার ধ্বনিতত্ত্ব। ঢাকা: বাংলা একাডেমি।
- হক, মহফুজুল। (১৯৯০)। বাংলা উপভাষার ধ্বনি, রূপ ও বাক্যতত্ত্ব। ঢাকা: বাংলা একাডেমি।
- হক, মুহাম্মদ এনামুল। (১৯৬৪)। বাংলা ভাষার উপভাষা। ঢাকা: বাংলা একাডেমি।
- হাই, মুহাম্মদ আব্দুল। (১৯৬৭)। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও বিকাশ। ঢাকা: বাংলা একাডেমি।
- সেন, সুকুমার। (১৯৬০)। বাংলা ভাষার ইতিহাস। কলকাতা: ইস্টার্ন পাবলিশার্স।
- সেন, সুকুমার। (১৯৭১)। History of Bengali Language and Literature। Calcutta University Press।
- শহীদুল্লাহ, মুহাম্মদ। (১৯৫৯)। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। ঢাকা: বাংলা একাডেমি।
- কাজী, দীন মোহাম্মদ। (১৯৭৫)। বাংলা উপভাষা ও ধ্বনিতত্ত্ব। ঢাকা: ইউনিভার্সিটি প্রেস।
লেখা গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে
ধন্যবাদ