৪৯তম বিসিএস-বাংলা পরীক্ষায় চর্যাপদকেন্দিক সম্ভাব্য প্রশ্নমালা ও উত্তর
৪৯তম বিসিএস-বাংলা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ৪৯তম বিসিএস-বাংলা বিষয়ে যে কয়টি পদ আছে সেই পদের জন্য বাংলা বিষয়ের স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। ৪৯তম বিসিএস-বাংলা তাদের চোখে এনে দিয়েছে স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পুরনের জন্য ৪৯তম বিসিএস-বাংলা পদের জন্য লড়ছে হাজার হাজার স্বপ্নপাগল তারুণ্য। ৪৯তম বিসিএস-বাংলা -তে পদের সংখ্যা খুবই কম, তবুও ৪৯তম বিসিএস-বাংলা থেকে একটি পদ নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে কে না চায় ?
মনে পড়ে আমার জীবনে ১৭তম সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার কথা। সেই প্রতিযোগিতায় বাংলায় পদ ছিল মাত্র ২১টি। মনে ছিল কী দ্বিধা, সেই দ্বিধা নিয়েই সংগ্রামে নেমে পড়ি। আশা ছিল ক্ষীণতম, কেননা, আমি ব্রাত্যজন, অখ্যাত আমার প্রতিষ্ঠান, যাপিত জীবনের নানা প্রতিকূলতা তো ছিলই। তবুও পেয়েছিলাম সেই স্বপ্নকে। ৪৯তম বিসিএস-বাংলা তো স্পেশাল বিসিএস, এখানে স্বপ্নপুরনের আশা অনেক। ৪৯তম বিসিএস-বাংলা চাকরি প্রত্যাশিতদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কেননা সবার জীবনে এ রকম স্পেশাল বিসিএস আসে না। আশা করি আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা ৪৯তম বিসিএস-বাংলা থেকে একটি পদ দখল করে নিবে। আমি সেই প্রচেষ্টার পথে সহায়ক হিসেবে ধারাবাহিকভাবে সম্ভাব্য প্রশ্নমালা ও উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ৪৯তম বিসিএস-বাংলা তাদের জীবনের স্বপ্ন পুরনের সহায়ক হোক।
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি ?
উত্তর: চর্যাপদ।
প্রশ্ন: চর্যাপদের রচয়িতা কারা ?
উঃ- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ।
প্রশ্ন: চর্যাপদ রচনায় কারা পৃষ্টপোষকতা করেছেন ?
উঃ-পাল রাজারা।
প্রশ্ন: চর্যাপদের আবিষ্কারক কে ?
উঃ- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কত সালে কে কোথা থেকে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় নেপালের রাজদরবারের পুথিশালা থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন: কত সালে কোথা থেকে প্রকাশিত হয় ?
পরবর্তীকালে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কী নামে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: এটি “হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন: পাণ্ডুলিপিতে কতটি পদ ছিল?
উত্তর: পাণ্ডুলিপিতে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ এবং ২৪ জন কবির নাম ছিল।
প্রশ্ন: চর্যাপদ আবিষ্কারের স্থান কোনটি ?
উঃ- নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থশালায়।
প্রশ্ন:হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত চর্যাপদের পুথিটির নাম কী ?
উঃ- চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় ।
প্রশ্ন: চর্যাপদের মোট পদকর্তার সংখ্যা কত? চর্যাপদের প্রাচীন পদকর্তা কে ?
উঃ- পদকর্তার সংখ্যা :- ২৪ জন। প্রাচীন পদকর্তা :- লুইপাদ।
প্রশ্ন:চর্যাপদ গ্রন্থাকরে প্রকাশের সময় এর পদ সংখ্যা কত ছিল ?
উঃ- সাড়ে ৪৬ টি।
প্রশ্ন:চর্যাপদের সবার্ধিক সংখ্যক পদ কার রচিত ?
উঃ কাহ্ন পা। পদের সংখ্যা ১২টি (মতান্তরে ১৩টি)।
প্রশ্ন:কোন আমলে চর্যাপদ রচিত হয়েছে ?
উঃ- পাল রাজাদের আমলে।
প্রশ্ন:বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ কাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন ?
উঃ- সেন রাজাদের দ্বারা।
প্রশ্ন:চর্যাপদের ভাষা কি ?
উঃ- সন্ধ্যা ভাষা ।
প্রশ্ন:চর্যাপদের কবিতাগুলি প্রধানত কোন ছন্দে লেখা হত ?
উঃ- পাদাকুলক। মূল চর্যা কোন ছন্দে রচিত তা নিশ্চিত করে বলা যায় না, তবে গঠন বিচারে আধুনিক মাত্রাবৃত্ত ছন্দের মতো মনে হয়। সেজন্য অনেকে বলেন মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।
প্রশ্ন:চর্যাপদের বিষয়বস্তু কি ?
উঃ- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণের সাধন পদ্ধতি বর্ণনা।
প্রশ্ন:তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের গানের সংখ্যা কত ?
উঃ-৫১ টি।
প্রশ্ন:চর্যাপদে কোন ধর্ম প্রকাশিত হয়েছিল ?
উঃ- বৌদ্ধধর্ম। তবে সহজিয়া বৌদ্ধ
প্রশ্ন:চর্যাপদের পদগুলি কোন শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল ?
উঃ- দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে। শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে।
প্রশ্ন:চর্যাপদ কোন ভাষার প্রাচীনতম দৃষ্টান্ত ?
উঃ- বাংলা ভাষার।
প্রশ্ন:চর্যাপদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদকর্তার নাম কি ?
উঃ- ভুসুকু। ৮ টি।
প্রশ্ন:কাহ্নপাদ অন্য কোন নামে পরিচিত ছিলেন ?
উঃ- কৃষ্ণাচার্য।
প্রশ্ন:সরহপাদের পদের সংখ্যা কত ?
উঃ- ৪টি।
প্রশ্ন: চর্যাপদে ব্যবহৃত রাগের সংখ্যা কত? সর্বাধিক ব্যবহৃত রাগ কোনটি ?
উঃ- রাগের সংখ্যা ১৭ টি। পটমঞ্জরি।
প্রশ্ন:চর্যাপদের পদকর্তাদের কি নামে পরিচিত ?
উঃ- সিদ্ধাচার্য।
প্রশ্ন:‘সন্ধ্যা’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ কি ?
উঃ- সম্যক ধ্যান।
প্রশ্ন: চর্যাপদের গানে কোন রাগটি পাওয়া যায় ?
উঃ- মল্লার।
প্রশ্ন: ‘Origin and Development of Bengali Language’ – বইটির লেখক কে ?
উঃ- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন:চর্যাপদে ব্যবহৃত উল্লিখিত প্রবাদের সংখ্যা কত ?
উঃ প্রবাদের সংখ্যা ৬টী।
প্রশ্ন: চর্যার ‘আশ্চর্যচর্যাচয়’ নামকরণটি কে করেছিলেন ?
উঃ- বিধুশেখর শাস্ত্রী।
প্রশ্ন: চর্যাপদের টীকা কে লিখেছিল? টীকাকার কে ?
উঃ- মুনি দত্ত । তিনি চর্যাপদের টীকা সংস্কৃত ভাষায় লিখেছিলেন। মুনি দত্তের টীকার নাম ‘নির্মলগিরা টীকা’।
প্রশ্ন: চর্যাপদে ১টি করে পদের রচয়িতা কয় ?
উঃ- ১৬ জন সংখ্যক কবি। তারাঁ প্রত্যেকে ১টি করে পদ রচনা করেছেন।
প্রশ্ন: মূল চর্যা সংকলন গ্রন্থের নাম কী ?
উঃ- চর্যাগীতি কোষ।
প্রশ্ন: ‘চর্যাপদ’ শব্দটির অর্থ কি ?
উঃ- যাপিতজীবন চলার পদ্ধতিকে চর্যা বলে। ‘চর্যা’ থেকে বর্তমানে ‘চর্চা’ শব্দটির উৎপত্তি। ‘পদ’ অর্থ চরণ বা পা। ’জীবন যাপনের পদ্ধতি বা আচরণ যে কবিতায় বা চরণে লিখিত থাকে’ তা-ই ‘চর্যাপদ’ শব্দটির অর্থ দাঁড়ায়
প্রশ্ন: চর্যাপদের সর্বশেষ পদকর্তা হিসেবে কাকে ধরা হয়? তাঁর পদের নম্বর কত ?
উঃ- ’সরহ পা’ । ৫০ নং পদ।
প্রশ্ন:চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদকের নাম কি ?
উঃ- কীর্তিচন্দ্র।
প্রশ্ন: তিব্বতী অনুবাদের খোঁজ দেয় কে ?
উঃ- ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়।
প্রশ্ন: তিব্বতী অনুবাদের গ্রন্থ প্রথম সংগ্রহ করেন কে ?
উঃ- প্রবোধ চন্দ্র বাগচী।
প্রশ্ন: ‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী’–পদটির রচয়িতা কে ?
উঃ-ঢেণ্ঢনপাদ।
প্রশ্ন: ‘উঁচা উঁচা পাবত তহি বসই সবরী বালী’ পদটির রচয়িতা কে ?
উঃ- শবরপাদ।
৪৯তম বিসিএস-বাংলা
চর্যাপদ : তথ্য-কণিকা
- চর্যাপদ কোন ধর্মাবলম্বীদের? সহজিয়া বৌদ্ধ
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ কোনটি? চর্যাপদ
- চর্যাপদ কোন রাজাদের আমলে রচিত হয়। পাল রাজাদের
- চর্যাপদ প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়? বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
- বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন কোনটি? চর্যাপদ, কে সংকলন করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
- চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়? নেপালের রাজ গ্রন্থাগার থেকে
- চর্যাপদে কার পদসংখ্যা সবচেয়ে বেশি? কাহ্নপা
- চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়? ১৯০৭ সালে।
- প্রকাশিত হয় কত সালে ? ১৯১৬ সালে
- চর্যাপদে কতজন কবির পদ রয়েছে? ২৪ জন
- চর্যাপদের ৬টি প্রবাদ বাক্য হল:
১. আপনা মাংসে হরিণা বৈরী,
২. দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায়,
৩. হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন,
৪. হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী,
৫. বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ,
৬. আন চাহন্তে আন বিনধা।
- প্রবাদগুলো চর্যাপদের কোথায় ব্যবহৃত ?
এই প্রবাদ বাক্যগুলো চর্যাপদের বিভিন্ন পদে পাওয়া যায় এবং এগুলো নৈতিক ও জীবনবোধক শিক্ষা প্রদান করে।
- আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী (৬ নং পদ, ভুসুকুপা): হরিণের নিজের মাংসই হরিণের জন্য শত্রু, অর্থাৎ মানুষের নিজের লোভের কারণে নিজেরই ক্ষতি হয়।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (১২ নং পদ, লুইপা): একবার দোহন করা দুধ কি বেচে (চুলোয়) থাকে বা দোহন করা দুধ কি আবার বাটে ফিরে যায় ? অর্থাৎ, যা একবার ঘটে যায়, তা আর আগের অবস্থায় ফিরে যায় না বা যা একবার শেষ হয়ে যায়, তা আর পাওয়া যায় না।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (১৮ নং পদ, কঙ্কন): নিজের হাতে থাকা কঙ্কণ (এক ধরনের অলঙ্কার) আয়নার প্রয়োজন হয় না, অর্থাৎ যা নিজের কাছে আছে, তার জন্য প্রমাণ বা আয়নার প্রয়োজন নেই।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (২৯ নং পদ, তিস্শাদ্য): হাঁড়িতে ভাত নেই, কিন্তু নিত্য অতিথি আসে। অর্থাৎ, অভাব সত্ত্বেও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়। এর সাথে অনেক প্রবাদের সাদৃশ্য মেলে । যেমন- যেখানে সন্ধ্যা হয় সেখানে বাঘের ভয়, ভাঙা পা খালে পড়ে ইত্যাদি।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (২৬ নং পদ, কানু পা): ভাল সঙ্গীদের জন্য কি আমি মন্দ বলদ (পশু) বরণ করব? বা দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। অর্থাৎ, ভালো মানুষের জন্য কি খারাপ হওয়া বা খারাপের সঙ্গে মেশা উচিত।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (২৫ নং পদ, ভুসুকুপা): এক কাজ করতে অন্য কাজ ঘটে যাওয়া, বা অন্য কিছু খুঁজতে গিয়ে অন্য কিছু ধরা পড়া বা পাওয়া। অর্থাৎ, যা খোঁজা হচ্ছে, তা না পেয়ে অন্য কিছু প্রাপ্তি হওয়া। অর্থাৎ কার্য ও কারণের বিভ্রান্তি।
1. হরিণের মাংসই তার জন্য শত্রু।
2. দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?
3. হাতের কাঁকন দেখার জন্য দর্পণ প্রয়োজন হয় না।
4. হাড়িতে ভাত নেই তবু প্রতিদিন অতিথি আসে।
5. দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল।
6. অন্য চাহিতে, অন্য বিনষ্ট। চায় এক পায় আর এক।
৪৯তম বিসিএস-বাংলা – চর্যাপদ থেকে গুরত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন
১. প্রশ্ন: চর্যাপদের মূল পান্ডুলিপিটি কোথায়?
উত্তর। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী পান্ডুলিপিটি নেপালের রাজদরবার থেকে গ্রহণ করেন। কাজ শেষে ফেরত দেন যথাসময়ে।
নীলরতন সেন ১৯৬৫ সালে ঐ পান্ডুলিপি থেকে গ্রন্থ সম্পাদনা করেন।
রাজদরবারের গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে সেটি জাদুঘরে পরিণত হয়।
বইগুলো নেপালের জাতীয় আর্কাইভসে নেওয়া হয়।
বর্তমানে চর্যাপদের মূল এবং সম্পূর্ণ খন্ডটি আর পাওয়া যায় না।
৪৯তম বিসিএস-বাংলা – চর্যাপদ থেকে আরও কিছু প্রশ্ন:
প্রশ্ন: কাহ্ন কাকে বিয়ে করতে চলেছে:
উত্তর ডোম্বীকে।
প্রশ্ন; কাহ্ন কাকে ছিনাল বলেছে? ডোম্বী রমণীকে।
প্রশ্ন: . চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
উত্তরঃ প্রাচীন কোন ছন্দ তা জানা কঠিন। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন: চর্যাপদে প্রাপ্ত বিচিত্র রকম মানুষের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ মাঝি (কামলি), বেশ্যা (দারী), শিকারী (অহেরী), নেয়ে (নোবাহী)। ডোমিনীর নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে । কাপালিক (কাপালি), যোগী (জোই), পণ্ডিত আচার্য (পণ্ডিতচার্য), শিষ্য (সীস) ইত্যাদি
প্রশ্ন: চর্যাপদের পদকর্তাদের সম্পর্কে ধারণা দাও।
চর্যাপদের মোট কবি ২৩ জন। কেউ বলেন ২৪জন। বিতর্কের কারণ হলো – কেউ বলেন দারিকপা আর দাড়িস্বপা আলাদা ব্যক্তি, কিন্তু গ্রহণযোগ্য মত হল, এই দুইজন একই ব্যক্তি।
প্রশ্ন: চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি কে?
উত্তর: সরহ পা। অনেকে দাবি করেন, লুই পা সবচেয়ে পুরোনো;
প্রশ্ন: চর্যাপদ আবিষ্কারকদের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। রাজেন্দ্রলাল মিত্রের বই হতেই প্রভাবিত হয়েই মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামে কিছু পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। তিনি ১৯১৬ সালে
“বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন।
৪৯তম বিসিএস-বাংলা – চর্যাপদ থেকে উক্তিভিত্তিক প্রশ্ন:
প্রশ্নঃ চর্যাপদের ১ম পদের লাইন লেখ।
উত্তর কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল/
প্রশ্নঃ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে তথ্য-কণিকা:
- উত্তরঃ চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদে ব্যক্ত করেছেন।
- বৌদ্ধ ধর্মের দুটি শাখা- হীনযান ও মহাযান। মহাযান শাখা কালক্রমে যে উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল একটা শাখা ছিল বজ্রযান।
- বজ্রযানের সাধন প্রণালী ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত।
- মহাসুখরূপ নির্বাণ লাভ- এই হল চর্যার প্রধান ভত্ত্ব।
প্রশ্নঃ বাংলা কত সনে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়? এর সাথে আর কোন কোন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ বাংলা ১৩২৩ সনে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দুটি দোহাকোষ এবং ডাকার্ণব- এ চারটি পুঁথি একত্রে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ চারটি গ্রন্থের মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় –ই বাংলা ভাষায় লেখা।
প্রশ্নঃ চর্যাপদের ভাষ্য যে বাংলা তা সর্ব প্রথম কে প্রমাণ করেন।
উত্তরঃ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে “Origin and Development of Bengali Language” গ্রন্থে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন এবং প্রমাণ করেন যে, চর্যাপদ সদ্য নির্মীয়মান বাংলা ভাষার নিদর্শন।
প্রশ্নঃ চর্যায় প্রাপ্ত পুথিতে কতটি গান ছিল?
উত্তর। চর্যার প্রাপ্ত পুথিতে মোট ৫১ টি গান ছিল। ১ টি (১১ সংখাক) পদ টীকাকার কর্তৃক ব্যাখ্যাও করা হয়নি। পুঁথির কয়েকটি পাতা নষ্ট হওয়ায় তিনটি সম্পূর্ণ (২৪, ২৫ ও ৪৮ সংযাক) পদ পাওয়া যায়নি। আবার একটি (২৩ সংযাক) পদের শেষাংশ পাওয়া যায়নি। তাই সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
প্রশ্নঃ চর্যাপদের নাম বিতর্কের তথ্য:
উত্তরঃ চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতে নাম আশ্চর্যচর্যাচয়’।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাপ্ত পুঁথিগুলোর নাম দেয়া হয়েছে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী মুনিদত্ত ও হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম মিলিয়ে প্রস্তাব করেন ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’ ।
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন ‘চর্যানীতিকোষবৃত্তি’ নামে।
প্রশ্নঃ সংজিয়া বলতে কি বোঝায়?
উত্তরা:
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- সংজিয়াগণ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র গ্রহণের ধারায় সহজিয়াদের উৎপত্তি।
- নিজ দেহ কেন্দ্রীক সহজ পন্থায় সাধনা করত বলে এরা সহজিয়া।
- সহজিয়াদের মতে, সমস্ত সত্য দেষের মধ্যে অবস্থিত, সেই সত্যই সহজ।
- বৌদ্ধদের সহজিয়া সম্প্রদায়ের মতো, বৈষ্ণব সহজিয়া সম্প্রদায়।
- সহজিয়া সম্প্রদায়ের আধুনিক রূপ বাউল বলে মনে করা হয়। কেননা সহজিয়াদের সাথে বাউল চিন্তার সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রশ্ন: কুক্কুরীপা তাঁর একটি পদে (২ নং) বলেছেন দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।/ রাতি ভইলে কামরু জাই। এ পদে সমাজের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর: সমাজের অরাজকতা বা দ্বিচারিণীর কথা ফুটে উঠেছে।
(অর্থাৎ দিনের বেলা বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই কামরূপ যায়।)
চর্যাপদ সম্পর্কে তথ্য জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। ( ৪৯তম বিসিএস-বাংলা – চর্যাপদ )
https://youtu.be/9_zi-PCfJ6o?si=zPhMUHh7UdqfZdS0
প্রশ্ন: চর্যাপদে ডোমদের কাজের বিবরণ :
উত্তর: নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মত কর্মে নিযুক্ত।
অন্য এক স্থানে – ডোমিনী নগরে ভাঁত ও চেঙারি বিক্রি করার কথা আছে ।
৪৯তম বিসিএস-বাংলা – চর্যাপদ থেকে প্রশ্ন দেওয়া হলো। আগামীতে ৪৯তম বিসিএস-বাংলা এর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন থেকে প্রশ্নমালা পাওয়া যাবে।
বাংলা বিভাগ
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর