মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ প্রশ্নোত্তর ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই
মানসিংহ-ভবানন্দ-২ : তথ্য-কণিকা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের মানসিংহ-ভবানন্দ উপখ্যান থেকে উক্তিভিত্তিক প্রশ্ন- কে, কাকে, কেন বলেছে ? এর আগে মানসিংহ-ভবানন্দ উপখ্যান থেকে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। আজ ২য় অংশ মানসিংহ-ভবানন্দ-২ : অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এই শিরোনামে দেওয়া হলো। মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ আগের অংশের বর্ধিত অংশ। দেবী অন্নদা ও অন্নপূর্ণার কাহিনি নিয়ে লেখা অন্নদামঙ্গল (মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ এখানে) কেবল ধর্মীয় আখ্যান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার সামাজিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ধারা ও আধ্যাত্মিক দর্শন। মানসিংহ এবং ভবানন্দ মজুমদারের জীবন ও কর্মকাণ্ডও আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ এবং আগের অংশ এই প্রশ্নোত্তরভিত্তিক সংকলন পাঠকের কাছে সহজবোধ্য ও তথ্যবহুল হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ – কে. কাকে. কোন প্রসঙ্গে-উক্তি করা হয়েছে ?
১) লুঠি বাঙ্গালার লোকে করিল কাঙ্গাল।
গঙ্গাপার হৈল বান্ধি নৌকার জাঙ্গাল।
কাটিল বিস্তর লোক গ্রাম গ্রাম পুড়ি।
লুঠিয়া লইল ধন ঝিউড়ী বহুড়ী ॥
- গ্রন্থ সূচনা অংশ হতে নেওয়া হয়েছে। বর্গী হামলা সম্পর্কে এ উক্তি করা হয়েছে।
২) লুঠিয়া ভুবনেশ্বর যবন পাতকী।
সেই পাপে তিন সুবা হইল নারকী ॥
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
বিস্তর ধার্মিক লোক ঠেকে গেল দায় ॥
Ñমুসলিম নবাবদের পাপে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি প্রসঙ্গে।
গ্রন্থ সূচনার অংশ। বর্গী হামলা হওয়ার কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৩) এ নব বয়সে ছাড়িয়া এ রসে
কার পূজা করে কেটা ॥
এ সুখযামিনী এ নব কামিনী
এ আমি নবযুবক।
এ রস ছাড়িয়া পুজায় বসিয়া
ধ্যানে বর যেন এক বক ॥
- নলকুবেরের শাপ অংশ থেকে।
নলকুবের রঙ্গরসে মেতে থাকা প্রসঙ্গে। অন্নদা ব্রাহ্মণের বেশে এসে নলকুবেরকে পুজো করতে বললে নলকুবের একথা বলে। দেবী নলকুবেরকে পূজা পপ্রচার করা কথা বল্লে নলকুবের এই উক্তি করে।
৪) চারিদিকে বন্ধুগণ করে হায় হায়।
দেখিতে দেখিতে ধনধান্য উড়ে যায় ।
- দেবী হরিহোড়ের বাড়ি ছেড়ে আসলে তার অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝাতে একথা বলা হয়েছে।
৫) ঈশ্বরীরে পরিচয় কহেন ঈশ্বরী।
বুঝহ ঈশ্বরী আমি পরিচয় করি ॥
- দেবী নিজের পরিচয় দিতে একথা বলে। অন্নদার ভবানন্দের ভবনে যাত্রা অংশ থেকে নেওয়া।
৬) বিশেষণে সবিশেষ কহিবারে পারি।
জানহ স্বামীর নাম নাহি ধরে নারী ॥
- ঈশ্বরীকে পরিচয় দিতে দেবী এ উক্তি করে। অন্নদার ভবানন্দের ভবনে যাত্রা অংশ থেকে নেওয়া।
৭) অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ।
কোন গুণ নাহি তার কপালে আগুন।
কুকথায় পঞ্চমুখ কণ্ঠভরা বিষ।
কেবল আমার সঙ্গে দ্বন্দ্ব অহর্নিশ ॥
- দেবী তার স্বামীর পরিচয় দিতে ঈশ্বরীকে পাটুনী একথা বলে। অন্নদার ভবানন্দের ভবনে যাত্রা অংশ থেকে নেওয়া।
৮) পাটুনী বলিছে আমি বুঝিনু সকল।
যেখানে কুলীন জাতি সেখানে কোন্দল ॥
- দেবীর পারিবারিক কথা শুনে ঈশ্বরী পাটুনী একথা বলে। অন্নদার ভবানন্দের ভবনে যাত্রা অংশ থেকে নেওয়া।
৯) যার নামে পার করে ভবপারাবার।
ভাল ভাগ্য পাটুনী তাহারে করে পার ॥
- পাটুনী পারাপার করে দেবীর নাম নিয়ে। আর আজ সেই দেবীকেই সে পার করছে। তাই লেখক এই উক্তি করেন। অন্নদার ভবানন্দের ভবনে যাত্রা অংশ থেকে নেওয়া।
১০) সোনার সেঁউতী দেখি পাটুনীর ভয়।
এত মেয়ে মেয়ে নয় দেবতা নিশ্চয় ॥
- কাঠের সেঁউতি সোনা হবার পরে পাটুনী বুঝতে পারে এ নিশ্চয় দেবী, তাই উক্ত কথা বলে।
মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ – কে. কাকে. কোন প্রসঙ্গে-উক্তি করা হয়েছে ?
১১) প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ॥
- দেবী পাটুনীকে বর মাগতে বললে পাটুনী এই বর চায়।
১২) ঝড় বৃষ্টি করিবারে মেঘগণে কও।
জলে পরিপূর্ণ করি অন্ন হরি লও ॥
- -অন্নদা দেবী তার সখী জয়া, বিজয়াকে বলে। ঝড়বৃষ্টি সৃষ্টির জন্য। ‘বদ্ধমান হইতে মানসিংহের প্রস্থান’ অংশ।
১৩) দৈববল কিছু বুঝি আছয়ে তোমার।
এত দ্রব্য যোগাইতে শক্তি আছে কার ॥
- ভবানন্দ মানসিংহকে ঝড়ের দিনে খাবার দিয়ে সাহায্য করলে মানসিংহ ভবানন্দকে একথা বলে। ‘মানসিংহের সৈন্যে ঝড়বৃষ্টি’ অংশ।
১৪) কহ গিয়া অরে চর মানসিংহ রায়ে।
বেড়ী দেউক আপনার মনিবের পায়ে।
লইলাম তলবার কহ গিয়া তারে।
যমুনার জলে ধুব এই তলবারে ॥
- মানসিংহের পাঠানো দূতের কাছ থেকে তলোয়ার গ্রহণ করে প্রতাপাদিত্য একথা বলে। ‘মানসিংহের যশোর যাত্রা’ অংশ থেকে নেওয়া।
১৫) প্রতাপাদিত্য রাজা মৈল অনাহারে।
ঘৃতে ভাজি মানসিংহ লইল তাহারে ॥
- যুদ্ধে পরাজয়ের পরে প্রতাপাদিত্যের অবস্থার কথা বলা হয়েছে। প্রতাপাদিত্য বন্দি হয়। খাঁচায় রাখা হয়, না খেয়ে খেয়ে প্রতাপাদিত্য মারা যায়। তাকে ঘিয়ে ভেজে দিল্লিতে নেওয়া হয়। ‘মানসিংহের দিল্লিতে উপস্থিতি’ অংশ থেকে নেওয়া।
১৬) না রবে প্রসাদ গুণ না হবে রসাল।
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল ॥
- কাব্যের রস সৃষ্টি এবং সাধারণে যাতে বুঝতে পারে এ জন্য কবি যাবনী-মিশাল ভাষার কথা বলেছেন। ‘মানসিংহের দিল্লিতে উপস্থিতি’ অংশ থেকে নেওয়া।
১৭) যেই নিরাকার সেই সে সাকার
তাঁরি রূপ ত্রিভুবনে।
- ‘পাতশার প্রতি মজুন্দারের উত্তর’ অংশ থেকে নেওয়া। হিন্দু ও মুসলমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় ঈশ্বর ও ধর্ম নিয়ে নানা বিতর্কের প্রসঙ্গে কবি এ কথা বলেন।
১৮) ঈশ্বরের নূর বলি দাড়ির যতন।
টিকি কাটি নেড়া মাথা এ যুক্তি কেমন ॥
- জাহাঙ্গীরের হিন্দুদের প্রতি ঈর্ষার কারণে ভবানন্দ জাহাঙ্গীরকে একথা বলে। ‘পাতশার প্রতি মজুন্দারের উত্তর’ অংশ থেকে নেওয়া।
১৯) পশ্চিমে সূর্য্যর অস্ত সে মুখে নমাজ।
যত করে মুসলমান সকলি অকাজ ॥
- ‘পাতশার নিকট বাঙ্গালার বৃত্তান্ত কথন’ অংশে জাহাঙ্গীর ও ভবানন্দ নিজ নিজ ঈশ^র ও ধর্ম নিয়ে বাকবিত-ার সময় জাহাঙ্গীর হিন্দু ধর্মের অসারতা নিয়ে কথা বললে ভবানন্দ একথা বলে।
২০) দিবসে মজুরি করে রজনীতে গিয়া ঘরে
নারী লয়ে যে থাকে সে সুখী ॥
- দিল্লিতে বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন হলে দাসু-বাসু সম্পকে একথা বলা হয়। ‘দাসু-বাসুর খেদ’ অংশে।
মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ – কে. কাকে. কোন প্রসঙ্গে-উক্তি করা হয়েছে ?
২১) ভয় কিরে অরে ভবানন্দ ॥
মোর অনুগ্রহ যারে কে তারে বধিতে পারে
দুঃখ যাবে পাইবে আনন্দ।
- ভবানন্দ বন্দী হলে দেবী তাকে একথা বলেন। ‘ অন্নদার মজুন্দাওে অভয় দান’ অংশে।
২২) উত্তম অধম না হয় বিষম
কেহ নাহি ধম্মলেশে রে।
- দিল্লিতে ভুতের উৎপাত শুরু হলে কবি একথা বলেন। ‘দিল্লিতে উৎপাত’ অংশে।
২৩) বিবীরে পাইল ভূতে প্রলয় পড়িল।
পেশবাজ ইজার ধমকে ছিঁড়ি দিল ॥
- দেবীর আদেশে দিল্লিতে ভুতের উৎপাত শুরু হলে যবন বধূর প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে। ‘দিল্লিতে উৎপাত’ অংশে।
২৪) সবে বলে আচম্বিতে এ কি হৈল দায়।
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
- দেবী মানুষের শাস্তি দিলে তার সাথে নির্দোষ মানুষও শাস্তি পায়। এটি কবির উক্তি। ‘দিল্লিতে উৎপাত’ অংশে দেবী অন্নদা ভূতের উৎপাত করান। কারণ, স¤্রাট দেবী ভক্ত ভবানন্দকে অপমান করে। সমস্ত খাবার গায়েব হয়ে যায়, এমনকি রাজভা-ারও ।
২৫) এমন খবিশ আর না শুনি কোথায়।
তাবিজ ছিঁড়িয়া ফেলি ওঝারে কিলায় ॥
- ভবানন্দ প্রতিশোধ নিতে দিল্লিতে ভৌতিক ক্রিয়া শুরু হয়, ভূত তাড়াতে ওঝা নিয়ে আসে, ওঝা তাবিজ দিলেও ভূতে পাওয়া ব্যক্তি তাবিজ ছিঁড়ে ওঝারে কিলায়। এ প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে।
২৬) চূড়া ছাঁদে বাঁধে চুল তাহাতে চাঁপার ফুল
আঁচল লুটিয়া মাটি মিশি ॥
- ‘ ছোট রানীর নিকটে মাধীর বাক্য” অংশ। কবির উক্তি। দিল্লি থেকে ভবানন্দ ফিরে আসলে দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে স্বামীকে নিজ নিজ ঘরে নিয়ে কে আগে নিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে ছোট বউয়ের সাজ সম্পর্কে কবি এ কথা বলেন।
২৭) আগে বড় পিছে ছোট বিধির প্রকট।
তুই কি করিবি তাহে উলট পালট ॥
- ‘ভবানন্দেও অন্তঃপুর প্রবেশ’ অংশ। ভবানন্দের বড় বউয়ের দাসী সাধী ছোট বউয়ের দাসী মাধীকে বলে।
২৮) সুয়া যদি নিম দেয় সেহ হয় চিনি।
দুয়া যদি চিনি দেয় নিম হন তিনি ॥
তোমার যৌবন আছে তুমি আছ সূয়া।
হারায়ে যৌবন আমি হইয়াছি দুয়া ॥
-‘পতি লয়ে দুই সতীনের ব্যঙ্গোক্তি’ অংশ থেকে । ভবানন্দের বড় বউ ছোট বউকে বলে।
২৯) অন্নদার হবে ব্রতদাস।
ব্রতকথা করিবে প্রকাশ ॥
- ‘নলকুবরের প্রাণত্যাগ অংশ’ থেকে। দেবী নলকুবেরকে বলে। অভিশপ্ত হওয়ার পর পৃথিবীতে গিয়ে নলকুবরের করণীয় প্রসঙ্গে। নলকুবর পৃথিবীতে দেবী অন্নদার ব্রতদাস হয়ে ব্রতকথা প্রচার করবে। তাহলে আর কোনো ভয় বা বিপদ থাকবে না।
৩০) কান্দি কহে কুবেরের বেটা।
এ বাক্যে প্রত্যয় করে কেটা ॥
- অভিশপ্ত নলকুবের কান্নাকাটি করলে দেবী অভয় দিয়ে বলেন যে, দেবী তাকে নানা প্রকার আশ^াসবাণী শুনায়। কিন্তু নলকুবের তাতে আশ^স্ত না হয়ে এ উক্তি করে। ‘নলকুবরের প্রাণত্যাগ অংশ’ থেকে নেওয়া।
মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ – কে. কাকে. কোন প্রসঙ্গে-উক্তি করা হয়েছে ?
৩১) পাটুনী কহিছে মা গো বৈস ভাল হয়ে।
পায়ে ধরে কি জানি কুমীরে যাবে লয়ে ॥
- দেবী পানিতে পা দিলে তাকে পা তুলে বসতে পাটুনী দেবীকে একথা বলে। ‘অন্নদার ভবানন্দ ভবনে যাত্রা’ অংশ।
৩২) সভয়ে পাটুনী কহে চক্ষে বহে জল।
দিয়াছ যে পরিচয় সে বুঝিনু ছল।
ইহাতে বুঝিনু তুমি দেবতা নিশ্চয় ॥
- – পরিচয় পাওয়ার পর পাটুনী বুঝতে পারে সে দেবী। তাই সে এই উক্তি করে।
৩৩) বর মাগ মনোনীত যাহা চাহ দিব ॥
- দেবীর উক্তি। ঈশ্বরী পাটুনীকে দেবী বর মাগতে বলে।
৩৪) এমন হিন্দুর ভূত দেখেছি বহুত।
মোরে কি ভুলাবে হিন্দু দেখাইয়া ভূত।
- – জাহাঙ্গীর মানসিংহকে বলে। ‘পাতশার দেবতা নিন্দা’ অংশে ভবানন্দ মজুমদার স¤্রাট জাহাঙ্গীরকে ভূতের ভয় দেখালে জাহাঙ্গীর গর্বেও সাথে একথা বলে।
৩৫) দাসু বলে বাসু ভাই পালাইয়া চল যাই।
কি হইবে বিদেশ মরিলে।
- দিল্লিতে বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন হলে দাসু বাসুকে এ কথা বলে।
৩৬) পাতশার কাছে গিয়া উজির নাজির।
শহরের উপদ্রব করিল জাহির ॥
- দিল্লিতে ভূতের উৎপাত শুরু হলে সম্রাটকে জানাতে এ কথা বলা হয়।
৩৭) মজুমদার কন কেন এত কথা কও।
জাহাপনা সামান্য মানুষ তুমি নও।
- জাহাঙ্গীরের উক্তি। সম্রাট বিনয় করলে ভবানন্দ একথা বলে।
৩৮) পূর্বমত অন্নে পূর্ণ হইল শহরে।
অন্নপূণা পূজা সবে করে প্রতি ঘরে ॥
- দিল্লির প্রতি ঘরে দেবীর পূজা শুরু হওয়া সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
৩৯) মহাসুখ দিল্লি যাবে মনোমত রাজ্য পাবে
মোর তীরে পাবে অধিকার
সন্তান হইবে যত সব হবে অনুগত
জনেক হইবে রাজা তার ॥
- – দেবী ভবানন্দকে বলে। দেবী তার ভক্তকে ভবিষ্যতের সুখ-শান্তির আশ্বাস দেয়।
৪০) পড়িয়াছি সেই মত বর্ণিবারে পারি।
কিন্তু সে সকল লোকে বুঝিবারে ভারি ॥
না রবে প্রসাদগুণ না হবে রসাল।
অতএব কাহি ভাষা যাবনী মিশাল ॥
- সাধারণের বোঝার জন্য কবি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ – কে. কাকে. কোন প্রসঙ্গে-উক্তি করা হয়েছে ?
৪১) অধম উত্তম হয় উত্তমের সাথে।
পুষ্প সঙ্গে কীট যেন উঠে সুর সাথে ॥
তবে যে পাইলে দুঃখ, দুঃখ নাহি হতে।
রাহুগ্রস্ত হন চন্দ্র লোকে পূণ্য দিতে ॥
- জাহাঙ্গীর ভবানন্দকে বলে বিনয় প্রকাশ কালে।
৪২) কুড়ি টাকা পণ দিয়া নতুন করিনু বিয়া
একদিনো শুতে না পাইনু।
কাদা খেঁড়– হইয়াছে পুনর্বিয়া বাকী আছে
মাটি খেয়ে বিদেশে আইনু ॥
- দিল্লিতে বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন হলে দাসু-বাসুর খেদ সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে।
৪৩) দিবসে মজুরী করে রাজনতে গিয়া ঘরে
নারী লয়ে যে থাকে সে সুখী।
নারী ছাড়ি ধন আশে যেই থাকে পরবাসে
তার বড় কেবা আছে দুঃখী ॥
- দিল্লিতে বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন হলে দাসু-বাসুর খেদ সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে।
৪৪) আর দেখ নারীর খসম মরি যায়।
নিকা নাহি দিয়া রাঁড় করি রাখে তায় ॥
- পাতশা ও ভবানন্দের কথোপকথন অংশে জাহাঙ্গীর ও ভবানন্দ নিজ নিজ ঈশ^র ও ধর্ম নিয়ে বাকবিত-ার সময় জাহাঙ্গীর হিন্দু ধর্মের অসারতা নিয়ে কথা বললে ভবানন্দ একথা বলে।
৪৬) মশানেতে শ্মশান করিল যত ভূত।
হাতী, ঘোড়া উট আদি মরিল বহুত।
মারা গেল কতশত আমীর উমরা।
কেবল ভক্তের ভক্তে বাঁচিলা তোমরা ॥
- দিল্লিতে ভূতের উৎপাতে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়, কিন্তু দেবীর কৃপায় ভক্তরা রক্ষা পায়।
৪৭) ভারত কইছে ভুতনাথের এ ভুত।
খর্বিশের খবিশ সে যমের যমভূত ॥
- কবির উক্তি। দিল্লিতে উৎপাত শুরু হলে ভূতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
৪৮) এক চক্ষু কাতরায়ে ছোট ঘরে যায়।
আর চক্ষু রাঙ্গা হয়ে বড় জনে চায় ॥
সন্ধ্যাকালে চক্রবাকে চাহে যেন লক্ষ্যে।
একচক্ষে তরুণি তরণী আর চক্ষে ॥
- -দিল্লি ফেরত ভবানন্দ মজুমদার দুই স্ত্রীর মধ্যে কার ঘরে আগে যাবে , সইে সংকট প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়ছে।ে
৪৯) দুই নারী দুই ঘরে কোথা যাব আগে।
মনে এই আন্দোলন কন্দল পাছে লাগে ॥
- বিদেশ থেকে ফিরে কোন স্ত্রীর ঘরে আগে যাবে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। লেখকের উক্তি।
৫০) এ মুখে করি রায় গুণাকর।
দুই নারী বিনা নাহি পতির আদর ॥
- বিদেশ থেকে ফিরে কোন স্ত্রীর ঘরে আগে যাবে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। লেখকের উক্তি।
মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ – কে. কাকে. কোন প্রসঙ্গে-উক্তি করা হয়েছে ?
কহে রায় গুণাকর অন্নপূর্ণা দয়া কর
পরীক্ষিত তনু ভগবানে।
এ পদের তাৎপর্য হলো পরীক্ষিত রায়, রামতনু রায় ও ভগবান রায়Ñ কবির তিন পুত্রের যেন অভাব না হয় সে প্রার্থনা বাবা হিসেবে কবি দেবীর কাছে করেছেন।
মানসিংহ-ভবানন্দ-২: প্রশ্নোত্তর সংকলন
বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় কাহিনি, উপাখ্যান ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে দেবী অন্নদা, অন্নপূর্ণা ও ভবানন্দ মজুমদারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাহিত্যপাঠে ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য এখানে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সাজানো হলো।
প্রথম অংশ: দেবী অন্নদা ও নলকূবর – মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ১: ভাঁড়–দত্তের সমকক্ষ ভারতচন্দ্র রচিত চরিত্র কোনটি?
উত্তর: বিদ্যাসুন্দর উপাখ্যানের হীরা মালিনী। কথায় বলে— হীরার ধার হীরা তার নাম।
প্রশ্ন ২: বর্গীরা বাংলায় প্রবেশ করে কীভাবে?
উত্তর: মুসলমান রাজাদের পারস্পরিক কোন্দল ও ক্ষমতার পালাবদলের চক্রপথে।
প্রশ্ন ৩: বর্গীরা কোথা থেকে বাংলায় এসেছিল?
উত্তর: সৌরাষ্ট্র ও মহারাষ্ট্র থেকে।
প্রশ্ন ৪: বর্গীর হামলার ভয়াবহতা কেমন ছিল?
উত্তর: অর্থ লুট, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, লোক হত্যা, কোথাও বা বউ-ঝি লুণ্ঠন।
প্রশ্ন ৫: নলকূবরের নারীসঙ্গ দেখে দেবী অন্নদার মনে কী ধারণা হয়?
উত্তর: তিনি ভাবেন, নলকূবর বুঝি তাঁর পূজা করছে।
প্রশ্ন ৬: নলকূবর যে পূজা করে না, তা দেবী অন্নদা কীভাবে জানতে পারেন?
উত্তর: সাথী জয়া জানান যে নলকূবর সর্বত্র নারী নিয়ে রঙ্গরসে মেতে থাকে।
প্রশ্ন ৭: ছদ্মবেশী অন্নদা পূজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নলকূবর কী বলে?
উত্তর: “যুবক বয়সে ভোগ না করে যে পূজা করে, সে বকধার্মিক।”
প্রশ্ন ৮: নলকূবরের কোন কথায় দেবী অন্নদা রাগান্বিত হন?
উত্তর: নলকূবর বলেন— অন্নদা ভিখেরি শিবের স্ত্রী, দিনে তিনবার বাপের বাড়ি থেকে ভিক্ষা করে খেতে হয়, তাঁকে পূজা করার কোনো মানে নেই।
দ্বিতীয় অংশ: দেবী অন্নদার শাপ ও হরিহোড় কাহিনি — মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ৯: দেবী অন্নদা মর্ত্যে পূজা পেতে কাদের শাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: নলকূবর, চন্দ্রিনী ও পদ্মিনীকে।
প্রশ্ন ১০: নলকূবরকে দেবীর দেওয়া অভয়বাণী কী ছিল?
উত্তর: “আপনি তোমার ঘরে যাব, বড় বড় সঙ্কটে বাঁচাব।”
প্রশ্ন ১১: চন্দ্রিনী ও পদ্মিনী কার ঘরে জন্ম নেন?
উত্তর: দুই ব্রাহ্মণের ঘরে।
প্রশ্ন ১২: হরিহোড়ের ঘর ছেড়ে দেবী অন্নদা চলে গেলে কী হয়?
উত্তর: ধনদৌলত ও ফসলাদি নষ্ট হয়ে হরিহোড় পুনরায় দরিদ্র হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৩: হরিহোড়ের স্ত্রী সোহাগীর পরিণতি কী হয়?
উত্তর: স্বামীর সঙ্গে আগুনে পুড়ে মারা যায়।
প্রশ্ন ১৪: দেবী অন্নদা হরিহোড়ের ঘর কীভাবে ছাড়েন?
উত্তর: মেয়ের ছদ্মবেশে এসে বলেন জামাই এসেছে নিতে; হরিহোড় ক্রোধভরে বিদায় দেন।
প্রশ্ন ১৫: হরিহোড় ও সোহাগীর মৃত্যুর পর তাদের কী হয়?
উত্তর: তারা বসুন্ধর ও বসুন্ধরা হয়ে স্বর্গে যায়।
প্রশ্ন ১৬: ঈশ্বরী পাটুনীর কাছে দেবী অন্নদা স্বামীকে বিশেষণে পরিচয় দেন কেন?
উত্তর: কারণ স্বামীর নাম মুখে আনা পাপ।
তৃতীয় অংশ: দেবী অন্নপূর্ণা — মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ১৭: দেবী অন্নপূর্ণার স্বামী কোথায় জন্মেছিলেন?
উত্তর: বিখ্যাত বন্দ্যবংশে।
প্রশ্ন ১৮: “অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ”—এর অর্থ কী?
উত্তর: স্বামীর বয়স বেশি, সিদ্ধিতে আসক্ত; আবার অর্থ—শিব সবার বড় দেবতা ও সিদ্ধ পুরুষ।
প্রশ্ন ১৯: “কোন গুণ নাহি তাঁর কপালে আগুন”—এর অর্থ কী?
উত্তর: শিবের কপালের তৃতীয় নয়ন আগুনের মতো জ্বলজ্বল করে।
প্রশ্ন ২০: “কণ্ঠভরা বিষ”—এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: সমুদ্র মন্থনে বিষ পান করে শিব নীলকণ্ঠ হন।
প্রশ্ন ২১: দেবী অন্নপূর্ণার সতীনের নাম কী?
উত্তর: গঙ্গা।
চতুর্থ অংশ: ভবানন্দ মজুমদার ও মানসিংহ মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ২২: দেবী অন্নদা নৌকায় পা রাখেননি কেন?
উত্তর: খোল ভরা জলে পায়ের আলতা ধুয়ে যাওয়ার ভয় ছিল।
প্রশ্ন ২৩: সেঁউতির উপর দেবীর পা রাখলে কী হয়?
উত্তর: সেঁউতি সোনায় পরিণত হয় এবং অষ্টাপদ হয়।
প্রশ্ন ২৪: ভবানন্দের গৃহে দেবীর আগমনের বার্তা কে দেয়?
উত্তর: ঈশ্বরী পাটুনী।
প্রশ্ন ২৫: ভবানন্দের বিশ্বাস জন্মে কী দেখে?
উত্তর: ঈশ্বরী পাটুনীর হাতে সোনার সেঁউতি দেখে।
প্রশ্ন ২৬: ভবানন্দ পূজার ঘরে কী দেখেন?
উত্তর: মনোহর ঝাঁপি, সুগন্ধ, নৃত্য-বাদ্য-সঙ্গীতে ভরা ঘর, অথচ কাউকে দেখা যায়নি।
প্রশ্ন 27: বাংলায় মানসিংহের বন্ধু কে ছিলেন?
উত্তর: ভবানন্দ মজুমদার, যিনি দুর্যোগে খাদ্য সরবরাহ করেছিলেন।
প্রশ্ন 28: ঝড়বৃষ্টি কীভাবে থেমেছিল?
উত্তর: ভবানন্দের পরামর্শে মানসিংহ দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করলে।
প্রশ্ন 29: দেবীর দেওয়া বস্ত্র-অলঙ্কারের কী করেছিলেন ভবানন্দ?
উত্তর: নিজে না রেখে ব্রাহ্মণদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন।
পঞ্চম অংশ: প্রতাপাদিত্য ও মজুমদার সংক্রান্ত — মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ৩০: প্রতাপাদিত্য তলোয়ার কোথায় ধৌত করেছিলেন?
উত্তর: যমুনার জলে।
প্রশ্ন ৩১: প্রতাপাদিত্যকে উদ্ধত রাজা বলা হয় কেন?
উত্তর: তিনি দিল্লির বশ্যতা মানেননি।
প্রশ্ন ৩২: সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে মজুমদারের কথোপকথন কোন ভাষায় হয়েছিল?
উত্তর: আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্থানি ভাষায়।
প্রশ্ন ৩৩: দেবতার নিন্দা করলে মজুমদার কী বলেন?
উত্তর: “হিন্দু-মুসলমান সকলেই একই ঈশ্বরের সৃষ্টি।”
প্রশ্ন ৩৪: চুল নিয়ে মজুমদারের বক্তব্য কী?
উত্তর: দাড়ি রেখে মাথার চুল কেন কাটা হয়—এই প্রশ্ন তোলেন।
প্রশ্ন ৩৫: সুন্নত নিয়ে মজুমদারের মন্তব্য কী?
উত্তর: যদি কান ছেদন গুনাহ হয়, তবে খৎনা আরও বড় গুনাহ।
প্রশ্ন ৩৬: দাসুর মতে সুখী মানুষ কেমন?
উত্তর: সারাদিন কাজ করে রাতে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা মানুষই সুখী।
ষষ্ঠ অংশ: দিল্লির ভূতপ্রেত ও দেবীর প্রতিশোধ — মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ৩৭: সম্রাটের হিন্দু বিদ্বেষের জবাবে দেবী অন্নদা কী করেছিলেন?
উত্তর: দিল্লিতে ভূতপ্রেত নামান, যা সবকিছু তছনছ করে।
প্রশ্ন ৩৮: ভূত হিন্দুর প্রমাণ কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: ভূত কোরান ছিঁড়ে ফেলে, তাবিজ কবজ মানে না।
প্রশ্ন ৩৯: দিল্লিবাসী ভূতপ্রেত থেকে মুক্তি পেল কীভাবে?
উত্তর: সম্রাট জাহাঙ্গীর দেবী অন্নদার পূজা করলে।
সপ্তম অংশ: ভবানন্দের অন্তিম জীবন — মানসিংহ-ভবানন্দ-২ অংশ
প্রশ্ন ৪০: দেশে ফেরার পথে দেবী কোন ধাম দর্শন করেন?
উত্তর: কাশী।
প্রশ্ন ৪১: ভবানন্দ বিশ্বেশ্বর দর্শনের আগে কী করেছিলেন?
উত্তর: মণিকর্ণিকার জলে স্নান করেছিলেন।
প্রশ্ন ৪২: “সুয়া যদি চিনি দেয় নিম হন তিনি” — এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: ছোট বউ খারাপ কিছু করলেও যৌবনের কারণে ভালো মনে হয়।
প্রশ্ন ৪৩: “দুয়া যদি চিনি দেয় নিম হন তিনি” — এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: বড় বউ খারাপ বলে তার ভালো কাজও মন্দ মনে হয়।
প্রশ্ন ৪৪: ভবানন্দ দেবী অন্নদার পূজা কখন করতেন?
উত্তর: চৈত্র মাসে।
প্রশ্ন ৪৫: ভবানন্দ মজুমদারের পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: রাজ্যভার পুত্রকে দিয়ে তিনি স্বর্গে গমন করেন।
প্রফেসর মো: আখতার হোসেন
বাংলা বিভাগ
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর
অনেক ধন্যবাদ স্যার, সবগুলো প্রশ্ন এবং উত্তর খুব ভালো করে বুঝলাম এবং পড়লাম,, এভাবে আমাদের পাশে থাকেন স্যার,,